আর্টিকেল লেখার ১৫টি টিপস

কিভাবে আর্টিকেল লিখতে হয়? (৬টি ধাপ)

একটি ভালো আর্টিকেল লেখার পুরো প্রসেস ৬টি ধাপে ভাগ করা যায়।

  1. টপিক নির্বাচন — পাঠকের আগ্রহ আছে এমন বিষয় বাছুন
  2. রিসার্চ — ৫-৭টি সোর্স থেকে তথ্য সংগ্রহ করুন
  3. আউটলাইন তৈরি — H2/H3 হেডিং দিয়ে কাঠামো ঠিক করুন
  4. লেখা শুরু — পরিচিতি, মূল বিষয়বস্তু, উপসংহার
  5. রিভাইজ — বানান, বাক্য, অপ্রয়োজনীয় অংশ চেক করুন
  6. SEO অপটিমাইজেশন — কিওয়ার্ড, টাইটেল, মেটা ডেস্ক্রিপশন

নিচে এই প্রসেসের জন্য ১৫টি প্র্যাকটিকাল টিপস দেওয়া হলো।

আর্টিকেল লেখা সহজ কোনো কিছু না।

অনেকেই মনে করে ইংরেজি বা বাংলা ভোকাবুলারি ভালো হলেই আর্টিকেল লেখা যায়। আসলে কিন্তু তা না। আর্টিকেল লেখা একধরনের আর্টের মতো। কেউ কেউ ন্যাচারালি ভালো লিখতে পারে, কিন্তু বেশিরভাগ মানুষকে এটা প্র্যাকটিস করে শিখতে হয়।

আমি এফিলিয়েট মার্কেটিং করার আগে ৪-৫ বছর রাইটার হিসেবে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে কাজ করেছি। এতোদিনের রাইটিং জার্নিতে অনেক কিছুই শিখেছি। এই আর্টিকেলে, আমার সেই অভিজ্ঞতাগুলো টিপস আকারে আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।

এই টিপসগুলো যেকোনো আর্টিকেল রাইটারের কাজে আসবে, আপনি নতুন হোন বা অভিজ্ঞ।

১. লেখার আগে রিসার্চ করুন

এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্টেপ।

আপনি যে টপিকে লিখতে চাচ্ছেন, সেটা সম্পর্কে আগে ভালোভাবে জানুন। গুগলে সার্চ করুন, টপ ১০ রেজাল্ট পড়ুন, বুঝুন মানুষ এই টপিকে কী কী জানতে চায়।

রিসার্চ না করে লিখলে আপনার আর্টিকেলে ইনফরমেশন গ্যাপ থাকবে। পাঠক বুঝে ফেলবে যে আপনি বিষয়টা ভালো জানেন না।

একটা সহজ রিসার্চ প্রসেস:

  • গুগলে মেইন কিওয়ার্ড লিখে সার্চ করুন
  • টপ ৫টা রেজাল্ট পড়ুন
  • “People Also Ask” সেকশনের প্রশ্নগুলো নোট করুন
  • সব ইনফরমেশন একটা ডকে জমা করুন
  • তারপর নিজের মতো করে লেখা শুরু করুন

২. প্রচুর পড়ুন

যত বেশি পড়বেন, তত ভালো লিখতে পারবেন।

শুধু বই পড়ার কথা বলছি না। ইন্টারনেটে আপনার ইন্টারেস্টের টপিকে হাজার হাজার আর্টিকেল, ব্লগ পোস্ট আছে। সেগুলো পড়ুন। দেখুন অন্যরা কিভাবে লিখছে, কোন স্টাইলে লিখছে, কিভাবে একটা কঠিন বিষয়কে সহজ করে বোঝাচ্ছে।

এতে শুধু আপনার ভোকাবুলারি বাড়বে না। আপনি শিখবেন কিভাবে ইন্টারেস্টিং ভাবে একটা আর্টিকেল সাজাতে হয়।

৩. ইংরেজি ভালো করুন

আপনি যদি ইংরেজিতে কনটেন্ট লিখতে চান, তাহলে ইংরেজিতে দক্ষতা থাকা বাধ্যতামূলক।

কিন্তু বাংলায় লিখলেও ইংরেজি জানা দরকার। কারণ বেশিরভাগ রিসোর্স ইংরেজিতে। রিসার্চের জন্য ইংরেজি আর্টিকেল পড়তে হবে, টুলস ব্যবহার করতে হবে।

ইংরেজি শেখার সবচেয়ে সহজ উপায়? ইংলিশ মুভি, সিরিজ দেখুন সাবটাইটেল দিয়ে। প্রতিদিন কিছু না কিছু ইংরেজিতে পড়ুন। ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়ে যাবে।

৪. সকালে লিখুন

এটা অনেকেই ইগনোর করে, কিন্তু বিশাল ফারাক আনে।

একটা স্টাডিতে দেখা গেছে, বেশিরভাগ প্রফেশনাল রাইটার সকালে লেখেন। কারণটা সিম্পল। ফ্রেশ ঘুমের পর সকাল বেলায় আপনার ব্রেইন ঠান্ডা থাকে, মন চাঙ্গা থাকে। তাই খুব তাড়াতাড়ি আর্টিকেল লেখার আইডিয়া পাওয়া যায়।

রাতে বা ক্লান্ত অবস্থায় লিখলে আপনার মন এদিক ওদিক ছোটাছুটি করবে। আর্টিকেলে মন দিতে পারবেন না।

তাই সম্ভব হলে সকালে লেখার চেষ্টা করুন। অন্তত ট্রাই করে দেখুন।

৫. সিম্পল ভাষায় লিখুন

কঠিন কঠিন শব্দ ব্যবহার করলে আপনাকে স্মার্ট দেখায় না। বরং পাঠক বিরক্ত হয়ে চলে যায়।

আমরা দৈনন্দিন জীবনে যেসব শব্দ ব্যবহার করি, সেগুলো দিয়েই আর্টিকেল লিখুন। কমপ্লেক্স সেন্টেন্স যত কম পারা যায় ব্যবহার করুন।

খারাপ উদাহরণ: “অত্যধিক জটিল শব্দসমূহের ব্যবহার পাঠকের মনোযোগ হ্রাস করে।”

ভালো উদাহরণ: “কঠিন শব্দ বেশি ব্যবহার করলে পাঠক পড়তে চায় না।”

দুইটা একই কথা বলছে। কিন্তু দ্বিতীয়টা পড়তে অনেক সহজ।

৬. ছোট ছোট প্যারাগ্রাফে লিখুন

একটা বিশাল বড় টেক্সটের ব্লক কেউ পড়তে চায় না।

স্ক্রিনে বড় বড় প্যারাগ্রাফ দেখলে মানুষ ভয় পেয়ে যায়। মনে হয় “এত কিছু পড়তে হবে!” এবং সাথে সাথে ব্যাক বাটন প্রেস করে।

তাই আর্টিকেলটা ছোট ছোট প্যারাতে ভাগ করে লিখুন। একটা প্যারায় ১-৩ বাক্যর বেশি রাখবেন না। কোনো প্যারা খুব বড় হয়ে গেলে সেটাকে ভেঙ্গে ২-৩ প্যারায় লিখে ফেলুন।

এতে পড়তে সুবিধা হয়। চোখের উপর চাপ কম পড়ে।

৭. শান্ত পরিবেশে লিখুন

হৈ চৈ পূর্ণ জায়গায় ভালো আর্টিকেল লেখা প্রায় অসম্ভব।

আপনার মন সারাক্ষন এদিক ওদিক ছোটাছুটি করবে। আর্টিকেলে মন দিতে পারবেন না।

তাই, নিরিবিলি কোনো স্থানে বসে আর্টিকেল লিখবেন। ফোন সাইলেন্ট করে রাখুন। সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ রাখুন। শুধু লেখায় ফোকাস করুন।

আর একটা টিপস: এক বসায় আর্টিকেল শেষ করতে না পারলে চিন্তার কিছু নেই। কিছুক্ষন ঘোরাফেরা করে ফ্রেশ হয়ে আবার লিখতে বসুন।

৮. নিজের অভিজ্ঞতা থেকে লিখুন

এটা আপনার আর্টিকেলকে ইউনিক করে তোলে।

ইন্টারনেটে হাজার হাজার আর্টিকেল আছে। সবাই একই ইনফরমেশন দিচ্ছে। কিন্তু আপনার নিজের অভিজ্ঞতা, আপনার নিজের গল্প — সেটা শুধু আপনার কাছেই আছে।

তাই আর্টিকেলে সম্ভব হলে নিজের ব্যক্তিগত কোনো অভিজ্ঞতা গল্পের আকারে লেখার ট্রাই করতে পারেন। এতে ভিজিটররা মজা পায় আর্টিকেলটা পড়ে। আপনার উপর তাদের ইম্প্রেশন ভালো হয়।

৯. অপ্রাসঙ্গিক কথায় আর্টিকেল ভরবেন না

এটা খুব বাজে একটা অভ্যাস।

অনেক রাইটার আর্টিকেল বড় করার জন্য এমন সব কথা লিখে যেটার সাথে মূল টপিকের কোনো সম্পর্ক নেই। এতে ভিজিটররা বিরক্ত হয়। তারা বুঝে ফেলে আপনি শুধু ওয়ার্ড কাউন্ট বাড়াচ্ছেন।

গুগলও এটা পছন্দ করে না। গুগলের Helpful Content আপডেটে বলা হয়েছে, যে কনটেন্ট পাঠকের কাজে আসে না, সেটাকে গুগল র‍্যাঙ্ক করবে না।

তাই প্রতিটা লাইন লেখার আগে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: “এই লাইনটা কি পাঠকের কাজে আসবে?” যদি উত্তর “না” হয়, সেটা বাদ দিন।

১০. হেডিং এবং সাবহেডিং ব্যবহার করুন

হেডিং ছাড়া আর্টিকেল মানে একটা বিশাল টেক্সটের দেয়াল।

হেডিং (H2, H3) ব্যবহার করলে আর্টিকেলের স্ট্রাকচার পরিষ্কার হয়। পাঠক সহজেই বুঝতে পারে কোন সেকশনে কী আছে। যে অংশটা তার দরকার, সেখানে সরাসরি চলে যেতে পারে।

হেডিং ব্যবহারের কিছু নিয়ম:

  • H1 শুধু টাইটেলের জন্য ব্যবহার করুন
  • H2 দিয়ে মেইন সেকশন ভাগ করুন
  • H3 দিয়ে সাব-সেকশন তৈরি করুন
  • হেডিংয়ে কিওয়ার্ড রাখার চেষ্টা করুন

SEO এর জন্যও হেডিং খুব দরকারি। গুগল হেডিং পড়ে বোঝে আপনার আর্টিকেল কী নিয়ে লেখা।

১১. বুলেট পয়েন্ট এবং টেবিল ব্যবহার করুন

সব কিছু প্যারাগ্রাফে লিখতে হবে এমন কোনো কথা নেই।

কোনো লিস্ট দিতে হলে বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার করুন। কোনো তুলনা দেখাতে হলে টেবিল ব্যবহার করুন। এতে পাঠক দ্রুত ইনফরমেশন খুঁজে পায়।

ফরম্যাটকখন ব্যবহার করবেন
বুলেট পয়েন্টলিস্ট, ফিচার, স্টেপ দেখাতে
নম্বর লিস্টক্রমানুসারে স্টেপ দেখাতে
টেবিলতুলনা, ডাটা দেখাতে
বোল্ড টেক্সটগুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাইলাইট করতে

১২. লেখা শেষে রিভাইজ করুন

আর্টিকেল লেখা শেষ হওয়ার পর সাথে সাথে পাবলিশ করবেন না।

একটু সময় নিন। চা খান, ঘুরে আসুন। তারপর আবার পুরো আর্টিকেলটা পড়ুন। দেখবেন অনেক ভুল ধরা পড়বে যেগুলো লেখার সময় চোখে পড়েনি।

রিভাইজের সময় যা চেক করবেন:

  • বানান ভুল আছে কিনা
  • কোনো বাক্য কি খুব লম্বা হয়ে গেছে
  • কোনো পয়েন্ট কি বাদ পড়েছে
  • আর্টিকেলের ফ্লো ঠিক আছে কিনা
  • কোনো অংশ কি অপ্রয়োজনীয়

১৩. ১০০% ইউনিক আর্টিকেল লিখুন

কপি-পেস্ট করলে আপনার কোনো ভবিষ্যত নেই এই ফিল্ডে।

গুগল প্ল্যাগারিজড কনটেন্ট সহজেই ধরে ফেলে। আপনার সাইটের র‍্যাঙ্কিং তো পড়বেই, সাইটকে পেনাল্টিও দিতে পারে। আর ক্লায়েন্টের জন্য লিখলে একবার ধরা পড়লে সেই ক্লায়েন্ট আর কখনো আপনাকে কাজ দেবে না।

তাই অন্যের লেখা থেকে ইনফরমেশন নিন, কিন্তু নিজের ভাষায় লিখুন। পাবলিশ করার আগে প্ল্যাগারিজম চেকার টুল দিয়ে চেক করে নিন।

১৪. আর্টিকেলের কোয়ালিটি যাচাই করুন

আর্টিকেল লেখা শেষ। কিন্তু সেটা কি সত্যিই ভালো হয়েছে?

এটা বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো অন্য কাউকে পড়তে দেওয়া। আপনার বন্ধু, পরিবারের কেউ, বা অন্য কোনো রাইটারকে আর্টিকেলটা পড়তে দিন। তারা যদি মনে করে আর্টিকেলটা সহজে পড়া যায় এবং তথ্যবহুল, তাহলে আপনি সঠিক পথে আছেন।

আর যদি তারা বলে কিছু জায়গায় বুঝতে পারেনি, তাহলে সেই জায়গাগুলো আরো সিম্পল করে লিখুন।

১৫. নিয়মিত লিখুন

এটাই ফাইনাল এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টিপ।

আর্টিকেল রাইটিং একটা স্কিল। আর যেকোনো স্কিলের মতো এটাও প্র্যাকটিসের সাথে ভালো হয়। আজকে যদি আপনি একটা আর্টিকেল লিখতে ৫ ঘণ্টা লাগে, ৬ মাস পর সেটা ২ ঘণ্টায় লিখতে পারবেন।

প্রতিদিন কিছু না কিছু লিখুন। সেটা ব্লগ পোস্ট হোক, ডায়েরি হোক, বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট হোক। লেখার অভ্যাস ধরে রাখুন।

যারা নিয়মিত লেখেন, তারাই একসময় সফল রাইটার হয়ে ওঠেন।

শেষ কথা

আর্টিকেল রাইটিং কোনো রকেট সায়েন্স না। কিন্তু এটা এমনও না যে একদিনে শেখা যায়।

উপরের ১৫টি টিপস ফলো করলে আপনার লেখা অবশ্যই আগের চেয়ে ভালো হবে। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা হলো, শুরু করুন। আজকেই একটা টপিক নিয়ে লেখা শুরু করুন।

প্রথমে হয়তো ভালো লাগবে না নিজের লেখা। সেটা নরমাল। কিন্তু লিখতে থাকুন। ৬ মাস পর যখন পেছনে ফিরে তাকাবেন, দেখবেন কতটা ইমপ্রুভ হয়েছেন।

Similar Posts