আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়ম: অনলাইনে e-Return দেওয়ার সহজ গাইড
TIN তো করলেন, এখন শুনছেন প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন দিতে হবে?
ভয়ের কিছু নেই। আয় করসীমার নিচে হলে সাধারণত কর দিতে হয় না, শুধু রিটার্ন জমা দিতে হয়।
এই গাইডে আয়কর রিটার্ন কি, কার দিতে হয় এবং অনলাইনে কিভাবে দাখিল করবেন সব সহজ বাংলায় দেখানো হলো।
আয়কর রিটার্ন কি?
আয়কর রিটার্ন হলো একটি বার্ষিক হিসাব, যেখানে আপনি সরকারকে জানান বছরে কত আয় করেছেন এবং কত কর দিয়েছেন।
এটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) এর কাছে জমা দিতে হয়।
রিটার্ন দেওয়া মানেই কর দেওয়া নয়। আয় করমুক্ত সীমার নিচে হলে কর ছাড়াই রিটার্ন জমা দেওয়া যায়।
কার আয়কর রিটার্ন দিতে হয়?
সাধারণত নিচের ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক।
- যাদের TIN সার্টিফিকেট আছে
- যাদের বার্ষিক আয় করমুক্ত সীমার বেশি
- সরকারি চাকরিজীবী ও অনেক বেসরকারি চাকরিজীবী
- ট্রেড লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ী
- গাড়ির মালিক ও নির্দিষ্ট শহরে বাড়ির মালিক
মনে রাখবেন, TIN থাকলে সাধারণত আয় করযোগ্য না হলেও রিটার্ন জমা দিতে হয়।
রিটার্ন দিতে কি কি কাগজ লাগে
- TIN সার্টিফিকেট ও জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
- বেতনের সার্টিফিকেট বা আয়ের প্রমাণ
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সুদের হিসাব
- বিনিয়োগের প্রমাণ (DPS, সঞ্চয়পত্র, বীমা প্রিমিয়াম ইত্যাদি)
- আগের বছরের রিটার্নের কপি (থাকলে)
কাগজগুলো আগে গুছিয়ে রাখলে রিটার্ন পূরণ অনেক সহজ হয়।
অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের নিয়ম (ধাপে ধাপে)
এখন NBR এর ই-রিটার্ন সিস্টেম থেকে ঘরে বসেই রিটার্ন দেওয়া যায়।
- NBR এর ই-রিটার্ন ওয়েবসাইটে TIN ও মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন।
- মোবাইলে আসা OTP দিয়ে অ্যাকাউন্ট যাচাই করুন।
- আয়ের তথ্য (বেতন, ব্যবসা, সুদ ইত্যাদি) পূরণ করুন।
- বিনিয়োগের তথ্য দিন, যাতে কর রেয়াত পাওয়া যায়।
- কর হিসাব যাচাই করে সাবমিট করুন এবং রিটার্নের প্রমাণপত্র ডাউনলোড করুন।
সাবমিটের পর যে প্রমাণপত্র পাবেন, সেটি সংরক্ষণ করে রাখুন।
করমুক্ত আয়সীমা ও ন্যূনতম কর
সাধারণ করদাতার জন্য বার্ষিক আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ পর্যন্ত করমুক্ত থাকে।
নারী ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সী করদাতাদের জন্য এই করমুক্ত সীমা সাধারণত একটু বেশি হয়।
এলাকাভেদে ন্যূনতম কর সাধারণত ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকার মধ্যে থাকে।
তবে এই সীমা ও হার প্রতি বছরের বাজেটে পরিবর্তন হতে পারে। তাই দাখিলের আগে সর্বশেষ নিয়ম যাচাই করে নিন।
বিনিয়োগে কর রেয়াত
রিটার্নের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো বিনিয়োগে কর রেয়াত।
নির্দিষ্ট কিছু বিনিয়োগে আপনি করের ওপর ছাড় পান, যা আপনার কর কমিয়ে দেয়।
- ব্যাংকের DPS
- সঞ্চয়পত্র
- জীবন বীমার প্রিমিয়াম
- অনুমোদিত শেয়ার বা মিউচুয়াল ফান্ড
তাই নিয়মিত বিনিয়োগ শুধু সঞ্চয় বাড়ায় না, করও কমায়।
রিটার্ন না দিলে কি হয়
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিটার্ন না দিলে জরিমানা ও বিলম্ব সুদ যোগ হতে পারে।
এছাড়া রিটার্নের প্রমাণপত্র না থাকলে ব্যাংক লোন, ট্রেড লাইসেন্স নবায়নসহ অনেক কাজে সমস্যা হয়।
সাধারণত প্রতি বছর ৩০ নভেম্বর রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ, তবে তা পরিবর্তন হতে পারে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
রিটার্ন দিলেই কি কর দিতে হয়?
না। আয় করমুক্ত সীমার নিচে হলে সাধারণত কর ছাড়াই শুধু রিটার্ন জমা দেওয়া যায়।
অনলাইনে রিটার্ন দেওয়া কি নিরাপদ?
হ্যাঁ। NBR এর ই-রিটার্ন সিস্টেম সরকারি প্ল্যাটফর্ম এবং এটি ঘরে বসে দাখিলের সহজ উপায়।
শূন্য আয় হলেও কি রিটার্ন দিতে হবে?
TIN থাকলে সাধারণত আয় না থাকলেও রিটার্ন জমা দিতে হয়। একে অনেকে শূন্য রিটার্ন বলে।
রিটার্নের কাগজ কতদিন রাখা উচিত?
রিটার্নের প্রমাণপত্র ও সংশ্লিষ্ট কাগজ অন্তত কয়েক বছর সংরক্ষণ করে রাখা ভালো।
শেষ কথা
আয়কর রিটার্ন এখন ভয়ের কিছু নয়, বরং একটি সহজ বার্ষিক দায়িত্ব।
আগে TIN সার্টিফিকেট করে নিন, এরপর নিয়মিত DPS ও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে কর রেয়াতও নিন।
সময়মতো রিটার্ন দিলে ভবিষ্যতে অনেক আর্থিক কাজ সহজ হয়ে যায়।







