এফিলিয়েট মার্কেটিং গাইড

আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পূর্ণ গাইডলাইন- স্টেপ ২ (ডোমেইন হোস্টিং কেনা এবং ওয়ার্ডপ্রেস সেটআপ )

এই স্টেপে আমরা টেকনিক্যাল সব ব্যাপার নিয়ে কথা বলবো। কিভাবে ডোমেইন হোস্টিং কেনা লাগে, কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করতে হয় এইসব কিছু নিয়ে এখানে কথা বলবো।

ডোমেইন হোস্টিং কেনা, ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করা ইত্যাদি পুরা কাজটাই একদম টেকনিক্যাল। তাই আমি চাচ্ছিনা এটা লিখতে। কারণ লিখে লিখে ভালো করে বোঝানো আসলে সম্ভব না।

আমি পুরো ব্যাপারটা কিভাবে করতে হয় তা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেখিয়ে একটা ভিডিও বানিয়েছি।

নিচের ভিডিওটা দেখলেই পুরা প্রসেসটা ক্লিয়ার হবে আপনার কাছেঃ

আমি ভিডিওতে ExonHost থেকে ডোমেইন হোস্টিং কিভাবে কিনে সাইট বানাতে হয় তা দেখিয়েছি। ExonHost সিলেক্ট করেছি কারণ আমাদের বেশিরভাগেরই মাস্টারকার্ড নেই ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটপ্লেসগুলো থেকে ডোমেইন হোস্টিং কেনার জন্য। আর দেশীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে আমার মনে হলো ExonHost ই সবচেয়ে ভালো, তাদের কাস্টমার রিভিউ বেশ ভালো, সার্ভিসও আমার ভালো লেগেছে।

এখানে ক্লিক করে ExonHost এ গিয়ে ডোমেইন হোস্টিং কিনে ফেলুন! (Affiliate Link)

এখানে ক্লিক করে NameCheap থেকে হোস্টিং নিয়ে নিতে পারেন! (Affiliate Link)

ডোমেইন নেম সিলেক্ট করার সময় যা খেয়াল রাখতে হবে

আমরা অনেকেই ডোমেইন নেম সিলেক্ট করার সময় এমন ডোমেইন নেম সিলেক্ট করি যেটা একেবারেই প্রোডাক্ট ফোকাস্‌ড। এই ধরনের ডোমেইন নেম দিয়ে আপনি কখনো আপনার সাইটকে একটা ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না। তাছাড়া এধরনের ডোমেইন নেম দেখলেই মনে হয় সাইটটা স্প্যামি। আপনাকে কিভাবে একটা প্রোডাক্ট গছিয়ে দিবে সে জন্যই সাইটটা বানানো হয়েছে। তাই এইধরনের ডোমেইন নেম দিয়ে খুব বেশি লাভ হয়না। আমাদের এমন একটা ডোমেইন নেম সিলেক্ট করতে হবে যেটা দিয়ে একটা টপিককে বোঝায়। একটা উদাহারণ দিলে ব্যাপারটা আরো পরিষ্কার হবে।

ধরুন আমি চাচ্ছি DSLR ক্যামেরার এফিলিয়েট করবো আমার সাইটে। এখন আমি যদি এমন ডোমেইন নেম নিই www.bestdslrcamera.com তাহলে সেটা একেবারেই প্রোডাক্ট ফোকাস্‌ড হয়ে যাচ্ছে। আমরা তাই এমন ডোমেইন নেম নিবো না। এমন একটা ডোমেইন নেম নিতে হবে যেটা দিয়ে টপিক বোঝায় যেমন www.nightphotographyschool.com এই ডোমেইন নেম দিয়ে বোঝাচ্ছে আমার সাইটটা night photography এর উপর করা। এটা দিয়ে কোনো প্রোডাক্ট বোঝাচ্ছে না। এখন আমি চাইলে আমার সাইটে best dslr camera review এমন টাইপ কিওয়ার্ড নিয়ে কয়েকটা আর্টিকেল লিখে সেখানে আমাজনের এফিলিয়েট লিংক বসিয়ে দিতে পারি।

নিচের বক্সে আপনার পছন্দের ডোমেইন নেমটি টাইপ করে দেখুন সেটা Available কিনাঃ

Find a domain starting at $0.88

powered by Namecheap

ওয়ার্ডপ্রেস কাস্টমাইজেশন

আশা করি আমি ভিডিওতে যতটুক দেখিয়েছি ততটুক আপনাদের করা হয়ে গিয়েছে। এখন আমরা ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করার পর কিভাবে তা কাস্টমাইজ করা লাগে তা দেখবোঃ

পার্মালিঙ্ক সেটাপ করাঃ

ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করেই সবার আগে যেটা করতে হবে সেটা হলো পার্মালিঙ্ক সেটাপ করা। পার্মালিঙ্ক হলো একটা লিঙ্কের ফর্ম্যাট, যেটা আপনার পাবলিশ করা সব পোস্ট ফলো করবে। পার্মালিঙ্ক সেটাপ করার জন্য ওয়ার্ডপ্রেসের ড্যাশবোর্ডে ঢুকে  Settings>Permalink এ গিয়ে “Post Name” ফর্ম্যাট সিলেক্ট করে সেভ করে ফেলুন।

আজেবাজে সব জিনিস ডিলিট করে ফেলাঃ

ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল দেবার পর প্রি-ইন্সটল্ড থিমের সাথে অনেক জাঙ্ক পোস্ট, পেজ, প্লাগইন ইত্যাদি থাকে। এসব যা কিছু আছে সব ডিলিট করে সাইট একদম ক্লিন করে ফেলুন। এছাড়াও দেখবেন সাইডবার নানান ধরনের Widget দিয়ে ভরা। অদরকারি সব Widget গুলো Appearance > Widget এ ফিয়ে রিমুভ করে ফেলুন। আমি শুধু সার্চ বক্স আর রিসেন্ট পোস্ট এই দুইতা Widget শুরুর দিকে রাখি।

থিম ইন্সটল করাঃ

এখন সময় একটা ভালো থিম ইন্সটল করার। দুই ধরনের থিম আছেঃ ফ্রী এবং প্রিমিয়াম। প্রিমিয়াম থিম ডলার দিয়ে কিনতে হয়। অবশ্যই প্রিমিয়াম থিমে Functionality অনেক বেশি থাকে, দেখতেও খুব প্রফেশনাল লাগে। কিন্তু তার মানে এই না যে ফ্রী থিম দিয়ে কাজ করা যাবেনা। আমি প্রথম দিকে ফ্রী থিম দিয়েই কাজ শুরু করেছিলাম। তবে যদি আপনার বাজেট থাকে, আম বলবো একটা ভালো প্রিমিয়াম থিম কিনে ফেলতে।

ফ্রী থিমের মধ্যে আমার পছন্দের কয়েকটি হলো Iconic One, Publisho.

আর প্রিমিয়াম থিমের ভেতর আমি X Theme টাই ব্যবহার করেছি। আমার এটা খুব ভালো লাগে। আপনি যদি দেখতে চান X Theme দিয়ে চালানো একটা সাইট দেখতে কেমন লাগে, তাহলে আমার এই সাইটটা ঘুরে আসতে পারেনঃ https://theturtlehub.com

প্লাগইন ইন্সটল

একটা সাইটে যত কম বেশি প্লাগইন ইন্সটল করবেন, সাইট ততো ভালো চলবে। আমি যেই প্লাগইনগুলো ইন্সটল না করলেই না, সেগুলোর কথা এখানে বলছি। এই প্লাগইনগুলো ইন্সটল করে ফেলুন। প্লাগইন ইন্সটল করতে ওয়ার্ডপ্রেসের ড্যাশবোর্ডে গিয়ে Plugin> Add New তে যান। এরপর প্লাগইন এর নাম লিখে সার্চ করলেই সেটা এসে পড়বে। এরপর প্লাগইনটা ইন্সটল করে এক্টিভেট করে ফেলুন।

  • Yoast SEO: পোস্টের অন পেইজ অপটিমাইজেশনের জন্য
  • Updraft Plus: একটা রিমোট স্টোরেজে সাইটের ব্যাকআপ রাখার জন্য
  • iTheme Security: সাইট হ্যাকিং থেকে সিকিউরড রাখার জন্য
  • Smush:ওয়ার্ডপ্রেসে ইমেজ আপলোডের সময় সেটা কম্প্রেস করে সাইজ ছোট করার জন্য
  • WP Super Cache: সাইট লোডিং স্পীড ফাস্ট করার জন্য
  • Share Buttons by Add This: আপনার পোস্টগুলা যাতে ভিজিটররা সহজেই শেয়ার করতে পারে তাই
  • Contextual Related Posts: প্রতিটা পোস্টের শেষে রিলেটেড পোস্ট দেখানোর জন্য অসাধারণ এক প্লাগইন

এই প্লাগইনগুলো হলো মিনিমাম। সব সাইটেরই এই ক’টা প্লাগইন অবশ্যই থাকা উচিত।

পরবর্তী স্টেপ ৩ এ যান >>

<< আগের স্টেপ ১ এ যান