এফিলিয়েট মার্কেটিং গাইড

আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পূর্ণ গাইডলাইন- স্টেপ ৫ ( ট্রাফিক )

কন্টেন্ট লেখা শেষ। এখন এই স্টেপে আমরা ট্রাফিক কিভাবে পেতে হয় তা নিয়ে কথা বলবো। চলুন দেখে নিই আমাদের নিশ সাইটে ট্রাফিক পেতে হলে কি কি করা লাগবেঃ

১। কিছুই করা লাগবেনা

আপনি যদি খুব ভালোমতো কিওয়ার্ড রিসার্চ করে সেগুলোর উপর হাই কোয়ালিটি কন্টেন্ট লিখে থাকেন (অন্তত ৩০টা) তাহলে ট্রাফিক পাবার জন্য আপনাকে আর তেমন কিছু করতে হবে না। আপনি শুধু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন। কন্টেন্টগুলো গুগুলে আস্তে আস্তে র‍্যাঙ্ক করবে। র‍্যাঙ্ক করার পর ট্রাফিক আসতে শুরু করবে। একটা কন্টেন্ট গুগুলে র‍্যাঙ্ক করতে গড়ে ৩৫ সপ্তাহর মতো সময় নেয়। এটা শুধু একটা এপ্রক্সিমেট আইডিয়া। আপনার কন্টেন্ট আরো আগেও র‍্যাঙ্ক করতে পারে, আরো পরেও র‍্যাঙ্ক করতে পারে।

আপনাকে শুরু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে। মোটামোট প্রথম ৬-৮ মাস আপনি সাইটে তেমন ট্রাফিক দেখতে পারবেন না। কারণ গুগুল একটা সাইটের কোয়ালিটি কেমন সেটা দেখতে অনেক কিছু টেস্ট করে। অনেকবার ইউজার এক্সপেরিয়েন্স কিরকম সেটা পরীক্ষা করে দেখে। সব টেস্ট করার পর গুগুল যখন মনে করবে আপনার সাইট আসলেই হেল্পফুল, আসলেই সেটা ভিজিটরদের সাহায্য করার জন্য বানানো হয়েছে, তখন আপনার সাইটকে সে র‍্যাঙ্ক দেওয়া শুরু করবে।

এখানে একটা কথা বলে রাখা ভালো, আমি কখনোই আমার সাইটে ব্যাকলিঙ্ক করিনা। আমি অন্যদের বলিওনা ব্যাকলিংক করতে।  কেন আমি ব্যাকলিংক করিনা তা নিচে ব্যাখ্যা করছি-

শুরু থেকেই গুগুল লিংক বিল্ডিং এর ব্যাপারে পরিষ্কার ভাবে না করে আসছে। শুধু মাত্র হায়ার র‍্যাঙ্কিং এর জন্য লিংক বিল্ডিং করা গুগুলের গাইডলাইনের সম্পূর্ণ বাইরে পড়ে। সেটা white hat হোক বা black hat হোক না কেন। আপনি যদি লিঙ্ক বিল্ডিং করে গুগুলকে ম্যানিপুলেট করার চেষ্টা করেন আপনার সাইটকে হায়ার র‍্যাঙ্কিং দেবার জন্য, তবে হয়তো আপনার সাইট কিছুদিনের জন্য হায়ার র‍্যাঙ্কিং পাবে, কিন্তু গুগুল যখন ব্যাপারটা ধরতে পারবে তখন একটা মারাত্মক পেনাল্টি খেয়ে ফেলতে পারে আপনার সাইট। এই ব্যাপারে গুগুল যা বলেছে তা হলোঃ

“While links are used in ranking, using them to trick search engines into thinking that a site is relevant would violate our guidelines”-  Google Guidelines

গুগুল যা চায় তা হলো, প্রথমে আপনি খুব খুব ভালো একটা কন্টেন্ট লিখবেন যেটা আসলেই হেল্পফুল এবং মানুষের উপকারে আসবে। তারপর সেটার মার্কেটিং করবেন। অনেকভাবে একটা কন্টেন্ট মার্কেটিং করা যায়। ইউটিউবে ভিডিও বানিয়ে মার্কেটিং করা সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতিগুলার মধ্যে একটি। তাই আমি কখনো লিঙ্ক বিল্ডিং করে পৃথিবীর সবেচেয়ে ক্ষমতাধর কোম্পানিগুলোর একটির নিয়মনীতির বাইরে যেতে চাইনা। আপনি যদি লিঙ্ক বিল্ডিং করতে চান, সেটা সম্পূর্ণ আপনার ইচ্ছা। তবে আমি এটা না করতেই বলবো।

তো আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে, ৩০ টা কন্টেন্ট লেখার পর বাকি ৬-৭ মাস আমি কি শুধু বসেই থাকবো? আর কিছু করার নেই?

অবশ্যই আছে। আমি বলবো, এই সময়ের মধ্যে আপনার সাইটের উপর একটা ইউটিউব চ্যানেল দাঁড় করিয়ে ফেলুন।

২। ইউটিউব চ্যানেল

আপনি লিংক বিল্ডিং এর পেছনে সময় না দিয়ে যদি একটা ইউটিউব চ্যানেল বানানোর পেছনে সে সময় দেন, তাহলে ভবিষ্যতে সেটা আপনাকে আরো অনেক বেশি প্রফিট দিবে। ইউটিউব গুগুলের একটা প্রপার্টি। তাই গুগুল যখন দেখবে আপনার সাইটের একটা ইউটিউব চ্যানেল আছে, গুগুল তখন আপনার সাইটকে আলাদা সম্মান দিবে।

এছাড়াও, আপনার সাইটের প্রতিটা পোস্টের উপর আপনি একটা ইউটিউব ভিডিও বানিয়ে যখন ভিডিওটার ডেসক্রিপশন থেকে ওই পোস্টে লিংক দিবেন, তখন ২ টা কাজ একসাথে হবে-

  • ইউটিউব থেকে ট্রাফিক আপনার সাইটে আসবে
  • আপনার সাইট ইউটিউব থেকে একটা ব্যাকলিঙ্ক পাবে, যেটা গুগুল অনেক গুরুত্বের চোখে দেখবে।

তো কিভাবে ভিডিও বানাবেন?

ভিডিও অনেক ভাবে বানানো যায়, যেমনঃ

  • আপনার যদি ক্যামেরার সামনে আসতে সমস্যা না থাকে, তাহলে মোবাইলের ফ্রন্ট ক্যামেরা অন করে ভিডিও করে ফেলতে পারেন। আপনার পোস্টে যা লিখেছেন সেটাই ইংরেজিতে বলে ফেলুন। ইংরেজি বলতে গিয়ে আটকে গেলে বা Pronounciation এ সমস্যা হলে চিন্তা করবেন না। ভিডিও বানিয়ে আপ করে ফেলুন ইউটিউবে। আস্তে আস্তে ভিডিও বানাতে বানাতে Pronounciation সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
  • আপনি যদি ক্যামেরার সামনে আসতে না চান, তাহলে আরো কয়েক ধরনের উপায় আছে ভিডিও বানানোর, যেমনঃ ইমেজ আর টেক্সট দিয়ে আপনি স্লাইড শো টাইপ ভিডিও বানাতে পারেন। এই ধরনের ভিডিওর উপর পরে আপনি ভয়েস অভার করতে পারেন। প্রথম কয়েকটা ভিডিও বানাতে সময় লাগলেও যখন আপনার অভ্যাস হয়ে যাবে তখন আর বেশি সময় লাগবেনা।
  • আমি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমার নিশ সাইটের জন্য যেই পদ্ধতিতে ভিডিও বানাই তা হলো White Board Animation. এই ধরনের ভিডিও বানানোর জন্য আলাদা সফটওয়ার পাওয়া যায়। আমি যেটা ব্যবহার করি সেটা হলো VideoScribe. এখানে ক্লিক করে আপনি চাইলে আমার একটা নিশ সাইটের চ্যানেল দেখে আসতে পারেন

আমি ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবার বা ভিউ বাড়ানোর জন্য আলাদা করে কিছু করিনা। শুধু ভিডিও আপলোড করতে থাকি একটার পর একটা। একটা সময় অটোমেটিক ভিউ, সাবস্ক্রাইবার আসা শুরু হয়।

৩। Pinterest একাউন্ট

ইউটিউব চ্যানেল বানানোর পাশাপাশি আপনি যেই আরেকটা কাজ করতে পারেন সেটা হলো একটা Pinterest একাউন্ট বানিয়ে ফেলা। একটা সাইট শুরু করার সময়েই আমি Pinterest একাউন্ট খুলে ফেলি।

এরপর যখনই আমি আমার সাইটে একটা পোস্ট পাবলিশ করি, তখন ওই পোস্টটায় যা যা ছবি ব্যবহার করেছি সেগুলো Pinterest এ বোর্ড বানিয়ে পিন করে রাখি। এভাবে সব পোস্টের জন্য করি আমি যাতে Pinterest থেকে আমার সাইটের প্রতিটা পোস্টে লিংক আসে।

সময়ের সাথে সাথে আপনি দেখবেন Pinterest থেকেও আপনার সাইটে ভিজিটর আসছে।

একইকাজ আপনি Instagram, Reddit ব্যবহার করেও করতে পারেন।

তবে আমি বলবো একবারে অবশ্যই সব শুরু না করতে। যেকোনো একটা সোশ্যাল মিডিয়া আগে টার্গেট করুন। ওইটার জন্য কাজে করে যান। সবগুলা একসাথে করতে গেলে কোনোটাই ভালোভাবে করা হবে না।

Bruce Lee এর একটা বিখ্যাত উক্তি আছেঃ

“I fear not the man who has practiced 10,000 kicks once, but I fear the man who has practiced one kick 10,000 times.”

আশা করি উক্তিটার গুরুত্ব বুঝতে পেরেছেন।

 

পরবর্তী স্টেপ ৬ এ যান >>

<< আগের স্টেপ ৪ এ যান