এফিলিয়েট মার্কেটিং গাইড

আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পূর্ণ গাইডলাইন- স্টেপ ৬ ( মনেটাইজেশন )

এই স্টেপে আমরা মনেটাইজেশন নিয়ে কথাবার্তা বলবো। মানে কিভাবে আমরা আমাদের সাইট থেকে টাকা কামাতে পারি। একটা সাইট থেকে অনেক অনেক উপায়ে টাকা আর্ন করা যায়। তবে যেহেতু আমরা এফিলিয়েট মার্কেটিং টার্গেট করে সাইট বানিয়েছি, বিশেষত আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং, তাই এটাকেই বেশি গুরত্ব দিবো আমরা।

কখন আমাজন এফিলিয়েট এ জয়েন করার জন্য এপ্লাই করবেন?

আমি যখন শুরু করেছিলাম, তখন সাইট শুরু করার সময়ই আমাজন এফিলিয়েটে জয়েন করে ফেলেছিলাম। তবে এটা করার একটা সমস্যা আছে। আমাজন এফিলিয়েটে একাউন্ট খোলার ১৮০ দিনের ভেতর কোনো সেল না পেলে আমাজন আপনার এফিলিয়েট একাউন্টটি ব্যান করে দিবে। যদিও পরবর্তীতে আপনি একই ইমেইল দিয়ে আবার একাউন্ট খুলতে পারবেন, তাও আমার মনে হয় কিছুদিন ওয়েট করে আমাজন এফিলিয়েট এর জন্য এপ্লাই করা ভালো।

আমি মনে করি আপনার সাইটে ৩০টা কন্টেন্ট লেখার পর আমাজনে এফিলিয়েটে এপ্লাই করা ভালো হবে। কারণ, ৩০ টা কন্টেন্ট লিখতে আপনার মোটামোটি ২ মাসের মতো লেগে যেতে পারে। এই ২ মাসে আপনার সাইটে যে অনেক অনেক ট্রাফিক আসবে তার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই আপনি শুরু থেকেই এফিলিয়েট লিংক সাইটে না বসালে খুব যে সমস্যা হবে, আপনি অনেক টাকা মিস করে ফেলবেন এমন ভাবার কোনো কারণ নেই।

অন্যদিকে সাইট শুরু করার মাস দুয়েক পর আমাজন এফিলিয়েটে এপ্লাই সুবিধা হলো, ততোদিনে আপনার শুরুর দিকে লেখা কিছু KGR আর্টিকেল র‍্যাঙ্ক করা শুরু করবে আস্তে আস্তে। এতে আপনার সাইটে আস্তে আস্তে ট্রাফিক আসাও শুরু হবে। এতে ১৮০ দিনের ভেতর সেল পাওয়ার পসিবিলিটি অনেক বেড়ে যাবে। তাই আমি মনে করি ৩০টা কন্টেন্ট লেখার পর এফিলিয়েটের জন্য এপ্লাই করাই ভালো হবে।

আমাজন এফিলিয়েটে এপ্লাই করতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

আমাজন এফিলিয়েট থেকে কিভাবে ম্যাক্সিমাম প্রফিট করা যায়?

আমি এখন কিছু টিপ্সের কথা বলবো যেগুলো ফলো করলে আপনি আমাজন এফিলিয়েট প্রোগ্রাম থেকে ম্যাক্সিমাম প্রফিট পেতে পারেন। শুরু করার আগে বলে নিচ্ছি, কিছু কিছু টিপস হবে Controversial এবং অন্যান্য মার্কেটাররা যা শেখান তার থেকে আলাদা। এগুলো সবই আমার ব্যক্তিগত মতামত এবং আমি এগুলো ফলো করে ভালো রেজাল্ট পেয়েছি। তাই আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।

১। ঠিক প্রোডাক্ট খুজে বের করাঃ

প্রোডাক্ট বাছার সময় প্রথমেই আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে প্রোডাক্টটার Purchasing Duration কতক্ষন হতে পারে। Purchasing Duration বলতে বোঝাচ্ছি, এটা কেনার আগে একজন কাস্টমার কতক্ষন চিন্তাভাবনা করবে, কতক্ষন রিসার্চ করবে। আমরা এমন প্রোডাক্ট নেওয়ার চেষ্টা করবো যেটা কেনার আগে মানুষ অনেক চিন্তা ভাবনা করেনা, সাথে সাথে বা ২৪ ঘন্টার ভেতরেই কিনে ফেলে।

ধরেন আপনি একটা ১০০০ ডলারের প্রোডাক্ট রিকমেন্ড করছেন। অবশ্যই এটা কেনার আগে একজন মানুষ অনেক চিন্তা ভাবনে করবে। আপনার আর্টিকেল পড়েই প্রোডাক্টটা কিনে ফেলবে এর সম্ভাবনা খুব কম। সে আরো অনেক রিসার্চ করবে। তাই আমরা এই ধরনের অনেক দামী প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করবোনা যেগুলা নিয়ে মানুষ অনেক চিন্তাভাবনা রিসার্চ করে তারপর কিনে। এমন কিছু সিলেক্ট করতে হবে যেটার জন্য অনেক বেশি রিসার্চ করার দরকার পড়ে না।

২। প্রোডাক্ট এর প্রাইসঃ

ধরেন আপনি এমন একটা প্রোডাক্ট সিলেক্ট করলেন, যেটার দাম ৪-৫ ডলার। তো এটা সেল করতে পারলে আপনার কমিশন হবে ৩০-৪০ সেন্ট এর মতো।  এমন প্রোডাক্ট থেকে কখনোই আপনি তেমন লাভ করতে পারবেন না। যদি আপনার নিশ এমন হয় যে, এর প্রায় সব প্রোডাক্ট এর প্রাইস খুব কম, তাহলে এই ধরনের নিশ নিয়ে আমাজন এফিলিয়েটের জন্য না আগানোই ভালো হবে। আমি সাধারনত এমন প্রোডাক্ট সিলেক্ট করি যেটার প্রাইস রেঞ্জ ৫০-২০০ ডলারের ভেতরে থাকে।

৩। কমিশন স্ট্রাকচার চেক করা

আমাজনে একেক ক্যাটাগরির প্রোডাক্ট এর কমিশন একেকরকম। তাই কোনো প্রোডাক্ট বা নিশ সিলেক্ট করার আগে অবশ্যই আমাজনে সেটার কমিশন স্ট্রাকচার কি সেটা দেখতে হবে। আমাজন এফিলিয়েটের বর্তমান কমিশন স্ট্রাকচারটা নিচে দেওয়া হলোঃ

amazon affiliate commission structure
Check Current Commision Structure

অনেকেই চায় ল্যাপটপ, কম্পিউটার এসব নিয়ে সাইট বানাতে কারন এগুলার প্রাইস অনেক। কিন্তু দেখেন, PC, PC Components এই ক্যাটাগরির কমিশন মাত্র ২.৫%। তার মানে, আপনি ১০০০ ডলারের একটা PC সেল করে দিলে পাবেন মাত্র ২৫ ডলার। আবার ধরেন কেউ ফার্নিচার নিয়ে সাইট বানালো। এই ক্যাটাগরির কমিশন ৮%। মানে আপনি ৫০০ ডলারের একটা ফার্নিচার সেল করাতে পারলে পাবেন ৪০ ডলার। আশা করি বুঝাতে পেরেছি কমিশন স্ট্রাকচার চেক করে নিশ সিলেক্ট করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

৪। ইনডাইরেক্ট এপ্রোচ

আমরা যারা আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং করে থাকে, তারা মোটামোটি একটা জিনিস সবাই জানি, রিভিউ আর্টিকেল লিখেই ইনকাম করতে হয়। তাই সাইট বানানোর শুরু থেকে একটার পর একটা প্রোডাক্ট রিভিউ আর্টিকেল, বায়ার গাইড এসব লেখার জন্য সবাই উঠে পড়ে লাগে। এতে কাজ করলেও খুব যে লাভ হয় তা না।

এর কারণ হলো, ম্যাক্সিমাম ক্ষেত্রেই ‘Product name’ + review এই ধরনের কিওয়ার্ডের কম্পিটিশন অনেক বেশি থাকে। তাছাড়া এইধরনের ডাইরেক্ট এপ্রোচ এখন অনেকটাই আগের মতো কাজ করে না।

তাই আমি একটু ইনডাইরেক্ট এপ্রোচ করে প্রোডাক্ট রিকমেন্ড করতে পছন্দ করি।

ধরুন আমি একটা  ‘ABC fishing rod’ রিকমেন্ট করতে চাচ্ছি। এখন এটা রিকমেন্ড করার জন্য ডাইরেক্ট এপ্রোচ হবে ‘ABC fishing rod review’ এমন একটা কিওয়ার্ড নিয়ে আর্টকেল লেখা। কিন্তু তা না করে একটু অন্যভাবে জিনিসটা করা যায়।

আমি যদি একটা আর্টিকেল লিখি ‘How to catch your first fish easily’ এমন একটা কিওয়ার্ডের উপর এবং সেখানে এভাবে লিখি “I used this fishing rod when I caught my first fish. This fishing rod is really robust and can support the weight of any size of fish. Still now it is one of the best fishing gears in my arsenal.” দেখেন, এখানে কিন্তু আমি ডাইরেক্ট ABC fishing rod এর কথা বলিনাই। আমি ‘this fishing rod’ এটকে Anchor Text হিসেবে ব্যবহার করে আমাজনে লিঙ্ক করে দিসি। দেখা গেছে এই ধরনের ইনডাইরেক্ট এপ্রোচে আরো বেশি ভালো রেজাল্ট পাওয়া যায়।

তবে লক্ষ্য রাখতে হবে, শুধু “I use this fishing rod” এমন বলে লিঙ্ক করে দিলেই হবে না। আপনাকে fishing rod টা সেল করতে হবে, মানে হালকা করে এর কিছু গুণগাণ গাইতে হবে যাতে মানুষ fishing rod টা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়। এই গুণগাণ গাইতেই আমি “This fishing rod is really robust and can support the weight of any size of fish. Still now it is one of the best fishing gears in my arsenal.” এই অংশটুকু লিখেছি।

আর কি কি ভাবে ইনকাম করা যায় সাইট থেকে?

এফিলিয়েট মার্কেটিং ছাড়াও আরো অনেকভাবে একটা সাইট থেকে ইনকাম করা যায়। সেগুলোর ব্যাপারে এখানে বলছিঃ

১। এড দিয়েঃ

আমরা প্রায় সবাই এড বলতে শুধু গুগুলের এডসেন্সকে বুঝি। এডসেন্স কখনোই আর্নিং এর জন্য খুব ভালো একটা সোর্স না। তাদের পেমেন্ট খুব নগন্য। এডসেন্স ছাড়াও আরো অনেক প্রিমিয়াম এড প্লাটফর্ম আছে যেমন Adthrive, Ezoic etc. এদের পেমেন্ট খুব ভালো। তবে আপনার ওয়েবসাইটে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ মান্থলি ট্রাফিক থাকলেই তাদের প্রোগ্রামে জয়েন করতে পারবেন। Ezoic এর জন্য সেটা ১০,০০০ মান্থলি পেজ ভিউ, Adthrive এর জন্য প্রায় ১০০,০০০। এড প্যাসিভ ইনকামের জন্য অন্যতম অসাধারণ একটা সোর্স।

২। স্পন্সরড পোস্ট (Sponsored Post)

এই পদ্ধতিটা অনেকটা গেস্ট পোস্টিং এর মতো। তবে এক্ষেত্রে অন্য কোম্পানি আপনার সাইটে গেস্ট পোস্ট করতে চাইবে, বিনিময়ে আপনাকে বেশ ভালো অঙ্কের একটা টাকা দিবে। এই পদ্ধতিতে আর্নিং এর জন্য অবশ্যই আপনার সাইটের একটা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মান্থলি ট্রাফিক থাকা লাগবে। স্পন্সরড পোস্টের জন্য আপনার দৌড়াদৌড়ি করা লাগবেনা। আপনার সাইটে শুধু একটা কন্টাক্ট ফর্ম রেখে দেন। অন্যান্য কোম্পানি নিজ থেকেই আপনাকে কন্টাক্ট করবে।

৩। লিড জেনারেশন

এই পদ্ধতিটা হলো মূলত আপনার সাইট থেকে একটা নির্দিষ্ট নিশে আগ্রহী মানুষদের ইমেইল লিস্ট (লিড) সংগ্রহ করে সেটা কোনো কোম্পানির কাছে বিক্রি করা। ধরুন আপনার সাইট হলো কুকিং নিশে। এখন আপনি কুকিং এর উপর একটা ফ্রি ই-বুক অফার করছেন। কেউ ইমেইল, নাম এসব দিলে আপনি ই-বুকটা তাকে দিবেন। এভাবে আপনি যখন অনেকগুলো ইমেইল কালেক্ট করতে পারবেন, তখন সেটা কুকিং প্রডাক্টস সেল করে এমন কোনো কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দিতে পারবেন।

৪। মেম্বারশিপ সাইট

মেম্বারশিপ সাইট বলতে মূলত এমন সাইট বোঝায় যে, ধরুন আপনি আপনার সাইটে একটা সার্ভিস সেল করছেন। আপনার ওই সার্ভিসটা পেতে হলে ক্লায়েন্টদের প্রতি মাসে একটা নির্দিষ্ট এমাউন্টের টাকা পে করতে হবে। ব্যাপারটা এককালীন টাকা দিলেই হবে এমন না। মেম্বারশিপ সাইট অনেক ধরনের হতে পারে। তবে এই পদ্ধতিতে টাকা আর্ন করতে চাইলে আপনাকে আপনার নিশের উপর একটা ভালো অথরিটি ফিগার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা লাগবে।

৫। ইনফো প্রোডাক্ট

বর্তমানে এই আর্নিং পদ্ধতিটা খুব জনপ্রিয় আর আমারো পছন্দের। ব্যাসিকালি, আপনার সাইটে যখন একটা ভালো পরিমাণের মান্থলি ট্রাফিক আসবে, তখন আপনি একটা ইনফো প্রোডাক্ট বানিয়ে সাইটে সেল করতে পারেন। ইনফো প্রোডাক্টটা যেকোনো ধরনের হতে পারে। সবচেয়ে জনপ্রিয় হলে ই-বুক। ই-বুক সাধারনত ৭, ১০, ১৫ ডলারে সেল হয়। এছাড়াও আপনি চাইলে ভিডিও কোর্স সেল করতে পারেন, অডিওবুক সেল করতে পারেন। সবই নির্ভর করবে আপনার নিশের উপর।

৬। কনসাল্টিং (Consulting)

আপনি আপনার নিশের উপর একজন অথরিটি ফিগার হলে আর আপনার যদি একটা বড় পরিমানের ফলোয়ার থাকে, তাহলে আপনি আপনার সাইটে কনসাল্টিং সার্ভিস দিতে পারেন। এর থেকে কত টাকা আয় করবেন সেটা নির্ভর করে মানুষ আপনার সময়কে কতটুকু মূল্যায়ন করছে তার উপর।

৭। ডিজিটাল টুলঃ

ইনফো প্রোডাক্ট এর মতো ডিজিটাল টুল সেল করেও এখন অনেকে তাদের সাইট থেকে আর্ন করছেন। কিছু কিছু নিশে ইনফো প্রোডাক্ট তেমন কাজ না করলেও ডিজিটাল টুল খুব ভালো সেল হয়। যেমন ধরুন, আপনার যদি ফটোগ্রাফির উপর কোনো সাইট থাকে তাহলে আপনি চাইলে এডব লাইটরুম সফটওয়্যারের Preset সেল করতে পারেন। এছাড়াও আপনার ভিডিওগ্রাফির উপর কোনো সাইট থাকলে আপনি প্রিমিয়ার প্রো সফটওয়্যারের LUT সেল করতে পারেন।

৮। ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট

আপনার নিশের উপর ডিপেন্ড করে বিভিন্ন ধরনের ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট সেল করা যেতে পারে যেমন টিশার্ট, মগ ইত্যাদি। এছাড়াও আপনি চাইলে আলিবাবা থেকে কম দামে প্রোডাক্ট নিয়ে আপনার সাইটে লাভ রেখে সেটা সেল করতে পারেন। তবে ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট এর ক্ষেত্রে প্রব্লেমটা হলো, অনেক ঝামেলা ফেস করতে হয়। আপনাকে অর্ডার রিসিভ করতে হবে, প্রোডাক্ট রেডি করে শিপ করতে হবে, যারা যারা রিফান্ড করেছে তাদের টাকা ফেরত দিতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। আপনি যদি এসব ঝামেলা নিতে পারেন তাহলে অবশ্যই ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট সেল করে দেখতে পারেন।

শেষ স্টেপে যান >>

<< আগের স্টেপ ৫ এ যান