কিভাবে ঠিক করবেন আপনার সাইটের দাম কত?

আজকে আমি কথা বলবো ওয়েবসাইট বিষয়ক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস নিয়ে। সেটা হচ্ছে আপনি আপনার অনেক কষ্টের ওয়েবসাইটটি যদি বিক্রি করে দিতে চান তাহলে কিরকম দাম এক্সপেক্ট করতে পারেন।

এ সম্পর্কে ভালো ভাবে জানতে হলে আপনার আগে কিছু ব্যাসিক জিনিস নিয়ে আইডিয়া রাখতে হবে। কিছু ফ্যাক্টর আছে যেগুলো মাথায় রাখলে আপনি সহজেই একটা ধারণা পাবেন। দাম নির্ধারণ করার সময় আপনাদের যে দিকটা সবার আগে মাথায় আসা উচিত সেটা হচ্ছে ওয়েবসাইটটি কত দিনের পুরোনো এবং এটা থেকে প্রফিট হচ্ছে কিনা । পুরোনো ওয়েবসাইট এর দাম কিছু দিক থেকে নতুন এর থেকে বেশি হয় যদিও আরো অনেক ফ্যাক্টর আছে যেগুলো নিয়ে আমরা কথা বলবো।

ওয়েবসাইট মুলত দুই ধরনের হয়। established site এবং starter site. আমরা প্রথমে established সাইট নিয়ে কথা বলবো।

Established সাইট বলতে আমরা সেই ধরনের ওয়েবসাইট কে বুঝাই সেগুলো কয়েক বছর পুরোনো এবং যেটির প্রতি মাসে একটি steady revenue আছে। কয়েকদিন ইনকাম করে যদি কয়েকমাস সাইট অচল অবস্থায় পড়ে থাকে তাহলে তাকে আমরা established সাইট বলতে পারবো না।

Established সাইটের দাম নির্ধারণ করার সময় আমরা যেভাবে আগাবো সেটা হলো আমাদের সাইটের মাসিক প্রফিট কতো। মুলত আমাদের ওয়েবসাইট এর পিছনে একটা নির্দিষ্ট সময়ে কতো ব্যয় এবং আয় এর পার্থক্যই হচ্ছে আমার ওয়েবসাইটের প্রফিট। একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি ভালো ভাবে বুঝা যাবে।

মনে করি আমার একটা সাইটের নাম Abc.com। এর থেকে আমার প্রতিমাসে দুই ভাবে ইনকাম হয়। একটা হলো Amazon Affiliation আরেকটা হলো Adsense. এখান থেকে যথাক্রমে আমার 50$ এবং 40$ revenue আসে। তাহলে প্রতিমাসে আমার revenue 90$। এবার আসি আমার ওয়েবসাইটে ব্যয় কিরকম হয়ে থাকে। ওয়েবসাইট এর পিছনে খরচ মুলত দুই ধরনের। এর মধ্যে ডোমেইন হোস্টিং এর খরচ টা একটা বড় ব্যাপার। ডোমেইন নিয়ে বিস্তারিত আরেক বার কথা হবে। আর খরচ আছে কন্টেন্ট এর পিছনে। এছাড়া বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে কিছু থিম, প্লাগিন কিনা লাগতে পারে যেগুলো সাধারণত বছরের হিসেবে বিক্রি হয়। ধরা যাক এসব নিয়ে আমার খরচ মাসে 25$।


এখানে একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে সেটা হচ্ছে আমার ওয়েবসাইটের জন্য কিছু খরচ গ্রোথে সাহায্য করে। যেমন আম যদি বেশি কন্টেন্ট বানাই তাহলে সাইটের রিচ ভালো হবে । ওয়েবসাইটের জন্য এই খরচ মাস্ট না, মানে এই খরচ না করলে যে ওয়েবসাইট একদম শেষ হয়ে যাবে এমন না। তবে এই খরচ করলে সাইটের গ্রোথ বাড়বে। এগুলাকে বলা হয় Growth Cost.  

কিন্তু যেগুলো খুব দরকারী খরচ সেগুলোকে আমরা বলবো Operational cost. যেমন সাইট রান করানোর জন্য আমার ডোমেইন হোস্টিং একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আবার যেসব কন্টেন্ট লেখার জন্য সাইট এর এই আয় হচ্ছে, সেগুলার খরচও গুরুত্বপূর্ণ। সেটাও আমার হিসাবে আনতে হবে। আমি আমার প্রফিট হিসাব করার সময় শুধুমাত্র operational cost হিসাব করবো।

উপরের উদাহরণে আমার মাসে মোট revenue হচ্ছে 90$.আর operational cost হচ্ছে 25$। তাহলে আমার মোট প্রফিট হচ্ছে 90$-25$ = 65 $/ month।

এবার আমরা প্রফিটের সাথে একটা multiple গুন দিবো।এটা সাধারণত 30x-40x পর্যন্ত হয়ে থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটি আরো বেশি হতে পারে। আমার monthly প্রফিট আমি কত দিয়ে multiple দিবো সেটা কিছু ফ্যাক্টরের উপর ডিপেন্ড করে।

সাইটের বয়সঃ সাইটের বয়স যত বেশি হবে সেটার ট্রাফিক, গ্রোথ,গুগলে revenue ইত্যাদি বেশি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

Backlink: যদি সাইটে ভালো মানের backlink ব্যবহার করা হয় তাহলে সাইটের গ্রোথ বাড়াতে কাজ করবে। আর যদি রিস্কি কোনো backlink ব্যবহার করা হয় যেমনঃ PBN সেটা সাইটের seo র জন্য একটা বাজে ভুমিকা রাখতে পারে। তাই multiple বাড়াতে হলে ভালো backlink ব্যবহার করা উচিত।

সাইটের গ্রোথঃ সাইটের গ্রোথ যদি ভালো হয় তাহলে সেই সাইটের momthly multiple বাড়তির দিকে যাবে। এবং এটা বায়ারের কাছে একটা ভালো দিক হিসেবে কাজ করবে কারণ সে অনেক কম সময় তার ওয়েবসাইট কিনার টাকা উঠিয়ে নিতে পারবে। বিপরিতভাবে যদি সাইটের গ্রোথ কম হয়ে থাকে তাহলে multiple কমের দিকে যাবে।

ট্রাফিকঃ সাইটের ট্রাফিক যদি বেশি হয় তাহলে অবশ্যই এটা revenue বাড়াতে কাজ করবে। তাই ট্রাফিক বেশি হলে monthly multiple বাড়বে এবং কম হলে multiple কমের দিকে যাবে।

Diversify Traffic: এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদি আমার ওয়েবসাইটের ট্রাফিক ১০০% গুগল থেকে আসে তাহলে এটা কোনো ভালো জিনিস নয়। কারন যদি কোনো কারণে গুগল মনে করে তারা আর আমার ওয়েবসাইট র‍্যাংক করাবে না তাহলে আমার সাইট অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে। তাই ট্রাফিক এর জন্য শুধুমাত্র একটির উপর নির্ভর না করে একাধিক ট্রাফিক সোর্স ব্যবহার করা উচিত। এটা সাইটের revenue এর উপর ডিরেক্ট সম্পর্কিত না হলেও সাইট কে সেফ রাখতে সাহায্য করবে। যেটি বায়ারকে বেশি দামে ওয়েবসাইট কিনার জন্য আগ্রহী করবে।

Revenue stream: সাইটে যদি একাধিক revenue stream থাকে তাহলে সেই সাইটের নেট revenue বেশি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরী হয়। স্বভাবতই শুধু আমাজন এর থেকে revenue আসার থেকে সাথে Adsense এর ইনকাম যোগ হলে নেট revenue বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এতোক্ষন আমরা established site নিয়ে কথা বললাম। এবার আমরা আসি আরেক ধরনের সাইট যেটা তুলনামূলক ভাবে নতুন, starter site. যেহেতু এখানে monthly multiple এর কোনো সুযোগ নেই তাই আমরা এটায় cost based approach ব্যবহার করবো। কিসের কস্ট হিসাব করবো একটা starter সাইটে তা নিয়ে আলোচনা করা হলোঃ

ডোমেইনঃ আমার ওয়েবসাইট রান করানোর জন্য যেটি সবথেকে বেশি দরকার সেটি হচ্ছে ডোমেইন। ডোমেইন মুলত বছরের হিসেবে বিক্রি হয়। যদি আমি সাধারণ ডোমেইন ব্যবহার করি তাহলে আমার দাম মোটামুটি থাকবে। ধরি 10$। এখন যদি আমার সাইট দুই বছর পুরোনো হয় তাহলে আমার ডোমেইন এর পেছনে খরচ হবে 20$। আবার যদি আমি স্পেশাল কোনো ডোমেইন ব্যবহার করি যেটার DA অনেক বেশি তাহলে ডোমেইন এর দাম অনেক বেড়ে যাবে।

Backlink: খুব নরমাল backlink এর ক্ষেত্রে দাম নেয়া হয় না। কিন্তু যদি স্পেশাল কোনো backlink থাকে তাহলে DA উপর নির্ভর করে দাম নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত DA20 – DA50 এর জন্য 50$ দাম ধরা হয়।

Value of content: ওয়েবসাইটের জন্য কন্টেন্ট লিখার যে খরচ হয় তার হিসাব করে আমরা cost calculation করতে পারি। যদি প্রতি ওয়ার্ড আমরা 1 cent করে হিসাব করি এবং আমাদের ওয়েবসাইটে 30000 word থাকে তাহলে আমাদের content value হচ্ছে 300$. এই খরচ আমাদের cost এ যোগ করতে পারি।

Formatting: আমার ওয়েবসাইটের ডিজাইন কিরকম, format কিরকম, যে বায়ার কিনবে তার জন্য ওয়েবসাইটটা কতটা গুছানো আছে নাকি তার নিজের অনেক ফরম্যাট ঠিক করতে হবে এটার উপর দাম কিছুটা কম বেশি হবে। যদি আমি ফরম্যাট সব ঠিক ঠাক ভাবে করে ওয়েবসাইট সেল করি তাহলে আমার এর জন্য 50$ cost রাখা যায়।

Premium Plugins: আমি যদি আমার সাইটের জন্য কোনো প্রিমিয়াম প্লাগইন অথবা থিম ব্যবহার করে থাকি তাহলে আমি সেটার খরচ যোগ করতে পারি। আমি ধরে নেই এটার খরচ 100$.

সব ধরনের cost হিসাব করলে আমার ওয়েবসাইটের খরচ 540$. এই সাইট টা আমি 500$-600$ এ সেল করার জন্য লিস্টিং করতে পারি।

এখানে একটা ব্যাসিক ধারণা দেয়া হয়েছে কিভাবে একটা ওয়েবসাইটের দাম নির্ধারণ করা যায়। আশা করি সেলার এবং বায়ার উভয়েরই এটা দেখে ওয়েবসাইটের জন্য ভালো দাম খুজে পেতে সহজ হবে।

ধন্যবাদ।