১০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, যা প্রতিটি ব্লগারের ফলো করা উচিত! 

ধরুন, আপনি বেশ ফাস্ট একজন রাইটার। যখনই কোন আইডিয়া মাথায় আসে, আপনি ঝটপট লিখতে বসে যান। যেন যত দ্রুত পাবলিশ করতে পারবেন, তত ভালো। একটা ভয় মনে থাকে যে, অন্য কেউ হয়ত আপনার আগেই এটি লিখে ফেলতে পারে!

যত দ্রুত সম্ভব লেখা শেষ করে একটা ভালো, Attractive Title অ্যাড করেন এবং তাড়াতাড়ি পাবলিশ করে দেন। আপনার মনে হতে থাকে, এখনই কমেন্ট, শেয়ারের বন্যা বয়ে যাবে। কিন্তু —

মাথায় হাঁড়ি ভাঙে বাস্তবতা।  পোস্ট খুলে দেখতে পান, অমন শেয়ার কমেন্টের বন্যা তো দূর কী বাত, অল্প ক’জন পিঁপড়ের মতন ভিউয়ার আছে কোনমতে। কিন্তু কোনো বন্যা বইছে না। 

এমন এক্সপেরিয়েন্স হয়েছে কখনো? বাজি ধরে বলতে পারি, অনেকেরই হয়েছে এবং তা বেশ কয়েকবার! 

এমন পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে কি করতে হবে?

ব্লগ পোস্ট তৈরি করুন!

একটা সাকসেসফুল ব্লগ পোস্ট কিন্তু মূহুর্তের মধ্যে লিখে ফেলতে পারবেন না। একটা ভালো কাজ, তা যেকোনো কিছু হতে পারে — করতে কিন্তু সময় লাগে। যেই কাজটা আপনি মনযোগ দিয়ে, সময় নিয়ে, গুরুত্ব দিয়ে করবেন, সেটা একদম পারফেক্ট না হলেও, অন্য কাজের থেকে বেস্ট হবেই! 

ব্লগ পোস্টের বেলায়ও একই নিয়ম প্রযোজ্য।  একটা সাকসেসফুল ব্লগ লেখার জন্য প্রয়োজন সময়।  ব্লগটাকে ‘তৈরী’ করতে হবে। তৈরি করা বলতে, যেমন খুশি তেমন লেখো— এমন না। একটা ভালো জায়গায় যাওয়ার আগে আপনি নিজেকে যেভাবে তৈরি করেন, আপনার ব্লগপোস্টটাকেও সেভাবে যত্ন করে তৈরি করা উচিত। 

আমরা ব্লগাররা সবসময়ই যেন একটা রাশের মধ্যে থাকি। মনে করি যে, যত বেশি লেখা তত বেশি সাকসেস। এজন্য মাথায় যা আসে, তা কোনোমতে লিখেই পাবলিশ করে ফেলি। এটা করা যাবেনা!

প্রশ্ন হলো— ‘ কন্টেন্ট তৈরি কিভাবে করবো?’

একটা পোস্ট লেখাী সময় কয়েকটা স্টেপ ফলো করতে হয়। এখানে দশটা স্টেপ নিয়ে বলা হলো। একটা পোস্ট লেখার সময় ‘ ম্যারাথনে আছি’ এই চিন্তা ভাবনা না করে, যতকন নিয়ে স্টেপ ফলো করে লিখুন। এতে লাভবান হবেন বৈ খারাপ কিছু হবেনা!

1.টপিক সিলেক্ট করুন!

হুট করেই লিখতে বসবেন না। আগে চিন্তা করুন, আপনি কি নিয়ে লিখতে চান। মনে মনে সেই টপিকের একটা সামারি চিন্তা করে ফেলুন। এতে চোখের সামনে টপিকটা সহজভাবে ভেসে উঠবে এবং লেখার সময় যথেষ্ট ফ্লো থাকবে। 

2.টাইটেল সাজান!

একটা ব্লগ পোস্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো তার টাইটেল। যেটাকে বাংলায় বলি ‘ শিরোনাম’।  নিউজ দেখেন? নিউজে শুরুতেই শিরোনাম পড়া হয়। অনেকে শিরোনাম দেখে সিদ্ধান্ত নেন পুরো নিউজটা দেখবেন কি-না।  

গুরুত্বপূর্ণ কিছু আছে কি-না আজকের খবরে, ইন্টারেস্টিং কি-না — এগুলো বোঝা যায় শিরোনামেই। আপনার ব্লগপোস্টের টাইটেল দেখেও অনেক রিডার ডিসিশন নেয় যে, তারা আপনার ব্লগ পোস্ট পড়বে না-কি পড়বে না। এজন্য টাইটেল লিখুন আকর্ষণীয় ভাবে। আপনার টাইটেলই হবে পাঠক আটকানোর টোপ!

3. শুরুটা লিখুন যত্ন করে!

প্রথম দেখায় ভালো লাগার একটা ফজিলত আছে। আপনি টাইটেল দিলেন ঝাকানাকা।  কিন্তু এরপর ভেতরে রাখলেন ফাঁকা!  তা হবে না, তা হবেনা। আপনার শুরুর লাইনটা হতে হবে এট্রাক্টিভ।  যেন শুরুর লাইনটা নিজেই শাহরুখ খান! 

যা দেখার পরে চাইলেও এড়াতে পারবেনা অধিকাংশ পাঠক। তাই প্রথম প্যারাটা সাজান যত্ন করে।

4. ব্লগের মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরুন!

একটি পোস্টের অবশ্যই একটি উদ্দেশ্য থাকতে হবে। শুধু একটা কৌতূহল জাগানো টাইটেল আর ওপেনিং দিয়ে পাঠকদের মন ভরতে পারবেন না। শুরুটা যেমন ভালো হওয়া চাই, পোস্টের মূল বক্তব্যও তেমন গুরুত্বপূর্ণ হওয়া চাই। 

5. পাঠকদের টাস্ক দিন!

পাঠকদের কিছু করার জন্য উৎসাহিত করুন। এতে  তাদের মনে পোস্টটা গেঁথে যাবে।  ব্যাপারটা আপনার সাথে তাদের আরও ভালো কানেকশন গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও হেল্পফুল হবে।

6. আপনার পোস্টের গভীরতা কত?

আপনার পোস্ট প্রকাশ করার আগে – নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, এই পোস্টটা কেমন? 

হেলাফেলা করে লেখা হলো না-কি একজন পাঠকের মন কাড়ার মত লেখা হলো? এমন গভীর ভাবে লিখুন, যা পাঠক মনে রাখতে পারে অনেক দিন!

7. কোয়ালিটি মেইনটেইন এবং পোস্ট পলিশ করছেন তো?

কিছু পাঠকের কাছে ছোটখাটো ভুলগুলোও আপনার পোস্ট থেকে আগ্রহ হারানোর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই, ভুলগুলো ঠিক করে নিন। পোস্টটা দেখতে যেন ভালো লাগে। পড়তে যেন মানসম্মত হয়। এভাবে লেখার জন্য যত সময় নেয়া লাগে তত সময় নিয়েই লিখুন।

8. পোস্ট পাবলিশের সময়:

আপনি কখন পোস্টটা পাবলিশ করছেন, এই সময়-জ্ঞান থাকাটা জরুরি। যখন তখন পোস্ট পাবলিশ করলেই হবে না। আপনার বুঝতে হবে, কোন সময়ে পোস্ট পাবলিশ করলে বেশি পাঠকের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। 

9. পোস্টের প্রোমোশন :

পোস্ট পাবলিশ করে ফেলে রাখলেই হবেনা। পোস্ট প্রোমোট করতে হবে। পোস্ট প্রোমোশনের অনেক উপায় আছে। যেকোনো একটা ব্যবহার করে প্রোমট করুন!

10. Conversation

আপনি তখনই একটা উপযুক্ত ফলাফল পাবেন, যখন আপনার পোস্ট পাবলিশ হবে এবং পাঠকের সাথে একটা যোগাযোগ তৈরি করবে। এজন্য পাঠকের সাথে লেখার মাধ্যমে কনভারসেশন তৈরি করার চেষ্টা করুন। 

এই দশটা পয়েন্ট ঠিকমত সব পোস্টে ব্যবহার করতে না পারলেও, যতটা সম্ভব পারা যায়, মেনে চলুন। আশা করা যায়, আপনার পোস্টে একদম মিরাকল না হলেও, সময়ের সাথে সাথে বেশ ভালো একটা ফলাফল পাবেনই। আর একটা ব্যাপার সবসময়ই মনে রাখতে হবে, সবুরে মেওয়া ফলে!

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *