কন্টেন্ট রাইটিং কী? কন্টেন্ট লিখে আয়ের বিভিন্ন উপায়!

আজকাল কন্টেন্ট রাইটিং একটা খুবই জনপ্রিয় বিষয়। যেটা দেশ থেকে বিদেশে— সব জায়গায়ই জনপ্রিয়। 

অনেকেই এরমধ্যে কন্টেন্ট কিভাবে লিখতে হয়, কন্টেন্ট লিখে কি হয় বা কীভাবে আয় করা যায়— এ সম্পর্কে জানেন এবং অনেকেই জানেন না। যারা জানেন না- তারা খুব দ্রুত পড়ে ফেলতে পারেন এই লেখাটি! 

What Is Content Writing?  

ফ্রিল্যান্সিং এর দুনিয়াতে ‘ কন্টেন্ট রাইটিং ‘ বলতে মূলত বোঝানো হয়— ব্লগপোস্টের জন্য লেখালেখি করা। অর্থাৎ, বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইটে যে ব্লগ গুলো থাকে সেগুলো যত্নসহকারে লেখার বিষয়টাই হচ্ছে- কন্টেন্ট রাইটিং।  

ফ্রিল্যান্সিং দুনিয়ার বাইরে— নরমালি কন্টেন্ট বলতে অনেক কিছু হতে পারে। যেমন- ভিডিয়ো, অডিয়ো, পডকাস্ট ইত্যাদি ইত্যাদি যেকোনো কিছু হতে পারে। তবে ইন টার্মস অব ফ্রিল্যান্সিং ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড ইন টার্মস অব কন্টেন্ট রাইটিং, আমরা কন্টেন্ট বলতে বুঝি একটা ব্লগপোস্ট! 

প্রশ্ন হলো, এই কন্টেন্ট রাইটিং জিনিসটা কিভাবে হয়?

ধরুন, আপনার ক্লায়েন্ট আপনাকে একটা টপিক দিলো। সেটা যেকোনো ধরনের হতে পারে। হতে পারে- “How do you take care of your cat?” 

আপনাকে এই টপিকটার ওপর রিসার্চ করতে হবে। তারপর এই টাইটেলের ওপর আর্টিকেলটা লিখতে হবে। । আর্টিকেলটা লেখার সময় আপনাকে অবশ্যই এটা এনশিওর করতে হবে যে- রিসার্চ করতে গিয়ে এই আর্টিকেলটা আপনি কোথাও থেকে কপি-পেস্ট করেননি, গ্র্যামাটিক্যাল ভুল নেই ইত্যাদি। অর্থাৎ, লেখাটা হতে হবে সম্পূর্ণই আপনার নিজস্ব, রিসার্চ করা একটা লেখা।

এসবকিছু ঠিক রেখে তারপর আর্টিকেলটা আপনি আপনার ক্লায়েন্টের কাছে পৌঁছে দেবেন। আপনার ক্লায়েন্ট যদি আর্টিকেলটা পছন্দ করে তাহলে সে এটার জন্য আপনাকে নির্দিষ্ট একটা এমাউন্ট পে করবে। 

এটা হলো কন্টেন্ট রাইটিংয়ের মূল ব্যাপার। 

How To Learn Content Writing? 

কীভাবে কন্টেন্ট রাইটিং শেখা যেতে পারে? 

কন্টেন্ট রাইটিং আগাগোড়াই একটা স্কিল। আপনার স্কিল না থাকলে কখনোই রিয়েল লাইফে কাজ করতে পারবেন না। সুতরাং, আপনাকে জানতে হবে কিভাবে কন্টেন্ট লিখতে হয় বা কিভাবে শেখা যায়। 

প্রথম ব্যাপারটা হলো— 

  • অবশ্যই আপনাকে ইংরেজিতে ভালো হতে হবে৷ ইংরেজিতে ভালো না হলে কন্টেন্ট রাইটিং আপনার জন্য না। যদি ইংরেজিতে গ্র্যামাটিক্যাল ভুল না করে একটা প্যারাগ্রাফ লিখতে না পারেন তাহলে কন্টেন্ট রাইটিংয়ের দিকে না যাওয়াই উচিত, এই সাইটটা আপনার জন্য না। মোটকথা, কন্টেন্ট রাইটিংয়ের জন্য ভালো ইংরেজি জানাটা বাধ্যতামূলক। 

দ্বিতীয়ত— 

আপনার সামনে দু’টো ওয়ে পাবেন কন্টেন্ট রাইটিং শেখার জন্য। 

  1. Free way
  2. Paid way

Free way তে সুবিধা হলো- আপনার কোনো টাকা পয়সা খরচ করতে হবে না। কিন্তু অসুবিধা হলো- এটা খুবই সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ খবর নিয়ে শিখতে হবে। 

ফ্রীতে শেখার জন্য অনেক ইউটিউব চ্যানেল পাবেন। এ নিয়ে Writers Motion ইউটিউব চ্যানেলেও অনেক ভিডিয়ো পাবেন। এছাড়াও অনেক ব্লগপোস্ট পাবেন এ বিষয়ে।  অনেক ব্লগার আছে, যাদেরকে ফলো করতে পারেন। তারা কিভাবে লেখে সেটা খেয়াল করতে পারেন।  

ক্লায়েন্ট আপনাকে কোনো টপিক দেয়ার পর ওই টপিকের ওপর আরো আর্টিকেল দেখতে পারেন। অন্যরা কিভাবে লিখেছে সেই স্টাইল দেখতে পারেন। মোটকথা, খুবই সময়সাপেক্ষ ব্যাপার এবং ধৈর্য্যের ব্যাপার-স্যাপার। 

আবার, পেইড ওয়ে’র ক্ষেত্রে —

আপনি চাইলে কোনো কোর্স করতে পারেন। অনেক কোম্পানিতেই অনেক কোর্স আছে। পাশাপাশি আপনি চাইলে Content Spartan এর কোর্সটিও করে ফেলতে পারেন! 

Why Does a Person Buy Content? 

আপনি একটা কন্টেন্ট লিখে দেবেন এবং সেটার বিনিময়ে আপনাকে একজন টাকা-ও দেবে। কিন্তু, কেন? এক্ষেত্রে আপনাকে টাকা দিয়ে ওই ব্যাক্তির লাভটা কোথায়? 

অধিকাংশ সময়ই একজন ক্লায়েন্ট আপনার থেকে কন্টেন্ট লিখিয়ে নেবে তার ওয়েবসাইটের জন্য ৷ এই কন্টেন্ট লিখিয়ে নেয়ার ব্যাপারটা আসলে কেমন?

ধরুন, আপনার একটা ওয়েবসাইট আছে। আপনি পপুলার কোনো কমার্স সাইটের সাথে ডিল করলেন। হতে পারে যেকোনো ই-কমার্স সাইট। যেমন- দারাজ ডটকম।

ধরি- আপনি দারাজকেই বললেন, আপনি দারাজের প্রোডাক্টের মার্কেটিং করতে চান৷ মার্কেটিং করে তাদের প্রোডাক্ট সেল করবেন। আপনার থেকে যতজন দারাজের প্রোডাক্ট কিনবে, প্রতিটি সেল এর ওপর একটা নির্দিষ্ট এমাউন্টের কমিশন চাইলেন। 

ব্যাপারটা হলো কী — প্রোডাক্ট দারাজের। মার্কেটিং করলেন আপনি। আপনার রেফারেন্সে মানুষ দারাজ থেকে ওই প্রোডাক্ট কিনলো। আপনি যে এই প্রোডাক্টের মার্কেটিং করলেন, সেজন্য দারাজ আপনাকে কিছু টাকা দেবে। এটাকেই বলা হয় মূলত, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং! ওয়েবসাইট থেকে আর্নিং করার জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং একটা ভালো ওয়ে বলা চলে। 

কন্টেন্ট রাইটিংয়ের ক্ষেত্রে মোস্ট অব দ্য টাইম, ক্লায়েন্টরা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ই করে থাকে। এক্ষেত্রে, আপনার ক্লায়েন্ট চিন্তা করলো যে- দারাজে অনেক ভালো প্রেশার কুকার আছে । এখন সে একটা কন্টেন্ট লেখাবে। যেটা “টপ টেন বেস্ট প্রেশার কুকার রিভিউস” এরকম একটা কন্টেন্ট। এটা সে তার ওয়েবসাইটে দেবে। তারপর এই কন্টেন্টটা গুগলে র‌্যাঙ্ক করবে৷ 

গুগলে র‌্যাঙ্ক করবে বলতে, কেউ যদি ” Best Pressure Cooker ” লিখে সার্চ করে তাহলে এই কন্টেন্টটা সবার প্রথমেই শো করবে। তারপর ভিজিটররা এখানে ক্লিক করে তার ওয়েবসাইটে ঢুকবে৷ ওই ওয়েবসাইটের রিভিউ পড়ে যেটা ভালো লাগে, সেটা কিনবে। এভাবে কেউ প্রোডাক্ট কেনার পরে সে একটা কমিশন পাবে। এটা হলো আপনার ক্লায়েন্টের চিন্তা-ভাবনা। 

এখন এই যে, ” Top Ten Best Pressure Cooker Reviews ” এই আর্টিকেলটা ক্লায়েন্ট নিজে তো লিখতে পারছে না। কারণ, ওয়েবসাইট তার হলেও সে নিজে রাইটার না। এজন্য সে একজন রাইটার হায়ার করবে। সেই হায়ার করা রাইটারই হবেন আপনি— যদি আপনি কন্টেন্ট লিখে থাকেন, নিজে একজন রাইটার হয়ে থাকেন। 

আপনাকে যে হায়ার করবে, আপনার ক্লায়েন্ট— উনি আপনাকে এই ” Top Ten Best Pressure Cooker ” টপিকে একটা আর্টিকেল লিখে দিতে বলবে। আপনি তার দেয়া নির্দেশনা ফলো করে আর্টিকেলটা লিখবেন৷ তারপর টাকা দিয়ে সে আপনার থেকে এই আর্টিকেলটা কিনে নেবে। এরপর এই আর্টিকেলটা সে তার ওয়েবসাইটে পাবলিশ করবে। 

মূলত, এ কারণেই একজন ক্লায়েন্ট কন্টেন্ট রাইটার হায়ার করে এবং টাকার বিনিময়ে কন্টেন্ট বা আর্টিকেল কিনে নেন। তারপরে এটা পাবলিশ করে সে নিজে টাকা ইনকাম করে থাকে। 

Types Of Content You Can Write: 

আপনি যদি কন্টেন্ট রাইটার হয়ে থাকেন তাহলে কী কী ধরনের কন্টেন্ট আপনার লেখা লাগতে পারে? 

এটার পরিধি আসলে অনেক বড়। অনেক ধরনের কন্টেন্ট আপনার লেখা লাগতে পারে। কন্টেন্ট রাইটিং আসলে বিশার বড় একটা ক্যাটাগরি। এর মধ্যে অনেক ছোট ছোট সাব-ক্যাটাগরি আছে । আপনার ইচ্ছেমতো সাব-ক্যাটাগরি পছন্দ করে সেটা নিয়ে লিখতে পারে। 

অধিকাংশ সময়-ই একজন ফ্রিল্যান্সার কন্টেন্ট রাইটারের তিন ধরনের কন্টেন্ট লেখা লাগে। 

Informative Article:

অর্থাৎ, আপনাকে একটা টপিক দেয়া হবে। আপনি তদনুযায়ী লিখবেন। কিন্তু, এখানে কোনো প্রোডাক্টের ব্যাপার থাকবে না। কোনো রিভিউ লেখা লাগবে না৷ এক্ষেত্রে, ইনফরমেশন বেশি থাকে এসব আর্টিকেলে। যেমন, ” একটা পোষা প্রাণীর টেক কেয়ার কিভাবে করতে হয় ” এমন টাইটেলের একটা কন্টেন্ট লিখতে হতে পারে। এখানে কিন্তু কোনো প্রোডাক্টের রিভিউ লেখা লাগছে না। সম্পূর্ণ ইনফরমেশন বেইজড একটা আর্টিকেল!

Single Product Review Article: 

এখানে পুরো আর্টিকেলে একটা সিঙ্গেল প্রোডাক্টের রিভিউ লিখতে হবে। অর্থাৎ, যেকোনো একটা মডেলের কোনো ক্যামেরা বা মোবাইল অথবা যেকোনো কিছু।  পুরো আর্টিকেলে একটা মডেল নিয়েই কথাবার্তা বলা হবে। 

Multiple Product Review / Money Article : 

এখানে একই ধরনের অনেক গুলো প্রোডাক্ট নিয়ে কথাবার্তা বলা হয়। হতে পারে – ” Top Ten Best DSLR Camera Reviews ” ইত্যাদি।  এখানে আপনি দশটা DSLR নিয়েই কথা বলবেন কিন্তু ভিন্ন মডেল বা ভিন্ন কোম্পানির। এই ধরনের আর্টিকেল বেশি অর্ডার করা হয়ে থাকে। 

এছাড়াও আপনি যদি ফাইভার বা আপওয়ার্কে কাজ করেন সেখানে আরো অনেক ক্যাটাগরির রাইটিং জব আছে। যেমন- হবি রাইটিং, রেসিপি রাইটিং, সিভি রাইটিং ইত্যাদি। সুতরাং, অনেক সাব-ক্যাটাগরি আছে যেখান থেকে আপনি ইচ্ছেমত ক্যাটাগরি পছন্দ করে লিখতে পারেন। কিন্তু, ওপরে যে তিনটা টাইপ নিয়ে কথা বলা হয়েছে সেগুলো সম্পর্কিত জব বেশি পাওয়া যায়৷ 

Real-life Content Writing Jobs :

একচুয়াল রিয়েল লাইফ কন্টেন্ট রাইটিং জব আসলে কেমন? দেখতে কেমন হয়? ক্লায়েন্টের চাহিদা কেমন থাকে?

এগুলো জানার জন্য কিছু প্ল্যাটফর্মের দিকে নজর দেয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে আপওয়ার্কের দিকে খেয়াল করলে—

প্রথমেই দেখা যাক আপওয়ার্কে রাইটিংয়ের ক্ষেত্রে কি কি সেক্টর আছে। এখানে- বিজনেস রাইটিং, কন্টেন্ট রাইটিং, ক্রিয়েটিভ রাইটিং ইত্যাদি সহ অনেক ধরনের সেক্টর রয়েছে। এখান থেকে আপনি আপনার পছন্দসই সেক্টর চুজ করতে পারবেন৷ 

এরপর দেখা যাক, প্র্যাকটিক্যালি কি কি জব আছে কন্টেন্ট রাইটিংয়ের ক্ষেত্রে। এজন্য Upwork এ ঢুকে ওপরেই Find Work অপশনে যেতে হবে। এখানে Find Work For Skills অপশনে গেলে অনেক Skills অপশন আসবে। আপনাকে Writing And translation এ যেতে হবে৷ 

এর ভেতরে অনেক ধরনের রাইটিং জব চলে আসবে। যেমন- SEO Writer Job, Web Content Freelancer Job ইত্যাদিসহ বহুধরনের জব আছে।  

ধরুন, আপনি Web Content Freelancer Job সিলেক্ট করলেন। এর ভেতরে গেলে অনেকের অনেক ধরনের পোস্ট পাবেন৷ যেমন একজন পোস্ট দিয়েছে – ” An Experienced Article Writer Needed “। সে কী চাচ্ছে — ” Looking for a experienced blog writer with quick turnover to write a blog post on ” How to take care of your pet “।   

এখানে turnover মানে তাড়াতাড়ি আপনাকে লিখে দেবে। অর্থাৎ, ক্লায়েন্ট তার কাজের দ্রুত ডেলিভারি চাচ্ছে। আজকে কাজ নিয়ে দশদিন পরে দিলেও হবে— ব্যাপারটা এমন না৷ খুব দ্রুত দিতে হবে— এটা হলো Quick Turnover । 

এরপরে চাচ্ছে — আর্টিকেলে গ্রামাটিক্যাল ভুল থাকা চলবে না। 

এসব শর্ত দেখে যদি মনে হয় আপনি কাজটা পারবেন— তখন আপনি Applies এ গিয়ে Apply করবেন এই কাজটার জন্য। এটাকে বলা হয় বিট করা। 

অ্যাপ্লাই করার পর যদি ক্লায়েন্ট আপনাকে পছন্দ করে তাহলে সে আপনাকে কাজটা দেবে। এটা যদি ফিক্সড প্রাইজের কাজ হয়ে থাকে তাহলে ক্লায়েন্ট যত প্রাইজ ফিক্সড করেছিলো- আপনি সেটাই পাবেন। 

এরকম ফিক্সড প্রাইজের কাজের পাশাপাশি আওয়ারলি কাজও আছে। যেমন— প্রতিঘন্টা কাজ করার জন্য আপনার ক্লায়েন্ট আপনাকে কিছু টাকা দেবে। ঘন্টাপ্রতি হিসাব হবে। এখন কী ধরনের কাজ করতে চান সেটা আপনাকে চুজ করতে হবে। 

এছাড়াও রাইটার্স জবে— সিভি রাইটিং , ক্রিয়েটিভ রাইটিং ইত্যাদি সহ বহু বহু ধরনের জব আপনি পাবেন। কাজ পছন্দ হলে, শর্ত মেনে কাজ করতে পারলে Applies এ ক্লিক করে Apply করবেন। কিন্তু, তার আগে অবশ্যই একটা একাউন্ট খুলে নিতে ভুলবেন না। 

এই হলো আপওয়ার্কের ব্যাপার-স্যাপার। 

এরপর আমরা যদি fiverr এ যাই—

এখানে গিয়ে Content Writing লিখে সার্চ করলে অনেক গিগ পাবেন। গিগ হলো গিয়ে- আমার আপনার মতই মানুষ যারা কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে কাজ করতে চায়৷ 

এভাবে fiverr এ এসে আপনাকেও গিগ বানাতে হবে। গিগে আপনি বলবেন- ” আমি তোমার জন্য কন্টেন্ট লিখে দিতে পারবো। আমাকে পাঁচশো বা এক হাজার ওয়ার্ডের জন্য এত নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা তোমাকে দিতে হবে। ”  বা আপনি বললেন, ” আমার কন্টেন্ট রাইটিংয়ে এই এই জিনিস গুলো থাকবে৷ তুমি আমার থেকে কন্টেন্ট লিখিয়ে নিতে পারো। ” 

এরপরে আপনার ক্লায়েন্ট এসে যদি আপনার গিগটা দেখে পছন্দ করে তাহলে সে আপনার গিগটায় অর্ডার করবে। 

আমরা যদি একটা উদাহরণ দেখি— 

একজন তার গিগ বানিয়ে লিখেছে, ” I will be your professional SEO website content writer. ”  এখানে SEO বলতে বোঝায়- Search Engine Optimization ।  ব্যাপারটা হলো- ক্লায়েন্ট চায় যে তার আর্টিকেলটা সার্চ রেজাল্টের প্রথম সারিতে আসুক। এই শুরুতে নিয়ে আসার কাজটা করে SEO।  

নিচে সে কি কি সুবিধা দিতে পারবে তার আর্টিকেলে সেগুলো বলে রেখেছে। বেসিক 500 ওয়ার্ডের জন্য 50 ডলার করে নিচ্ছে এটাও জানিয়ে রেখেছে। স্ট্যান্ডার্ড লেখা হলে 700 – 1000 ওয়ার্ডের জন্য 100  ডলার চার্জ করছে। এমন করে আপনিও আপনার গিগটা সাজাতে পারেন। 

এরপর ক্লায়েন্ট বেসিক অর্ডার করতে চাইলে সেখানে গিয়ে অর্ডার করতে পারেন। অর্ডার করার পরে রাইটারের কাছে একটা নোটিফিকেশন যাবে যে, কেউ তাকে হায়ার করেছে৷ এখন তাকে কন্টেন্ট লিখে দিতে হবে। 

এভাবেই মূলত Fiverr এ কাজ করে থাকে। 

আমরা এখানে দু’টো রিয়েল লাইফ কন্টেন্ট রাইটিং প্ল্যাটফর্ম দেখলাম। যেখানে অনেক অনেক ধরনের জব আছে রাইটিংয়ের ওপর। আপনারা চাইলে দেখতে পারেন৷ দেখলে একটা ধারণা পাবেন যে, রিয়েল লাইফে ক্লায়েন্টরা কি কি চায় এবং কিভাবে সেগুলো হ্যান্ডেল করা লাগে। 

How To Apply For Content Writing Jobs?

আপনি Free Way বা Paid Way; যেকোনো ভাবেই হোক কন্টেন্ট রাইটিং শিখলেন। কিন্তু, শিখে তো বসে থাকলেই চলবে না। আপনাকে কাজ পেতে হবে। এজন্য কাজের জন্য Apply কিভাবে করবেন? 

একটা সময়ে এমন কাজ পাওয়া খুব সহজ ব্যাপার ছিলো। এখন বিষয়টা একটু জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

কাজ পাবার জন্য আপনার যেকোনো একটা ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে একাউন্ট খুলতে হবে৷ হতে পারে- Upwork, fiverr বা যেকোনো কিছু। তারপর নিজের একটা গিগ বানিয়ে কাজের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। 

Upwork এ ক্লায়েন্টরা জব পোস্ট করে, সেখান থেকে আপনাকে পছন্দসই জব খুঁজে নিয়ে অ্যাপ্লাই করতে হবে। এক্ষেত্রে একদম বিগিনারদের জন্য কাজ পাওয়া খুবই কঠিন। মূলত ক্লায়েন্টরা বিগিনারদের কাজ দিতে চায় না। কিন্তু, যেহেতু বিগিনাররা কম চার্জ করে থাকে সেহেতু এই সুযোগও কেউ কেউ কাজে লাগিয়ে বিগিনারদেরও হায়ার করে থাকেন। 

এজন্য আশা হারানো যাবে না। বিগিনার থেকেই মানুষ সাধারণত প্রোফেশনাল হয়ে ওঠে। এজন্য আপনাকে অনবরত বিট করে যেতে হবে। একটা সময়ে এসে ঠিকই কাজ পাবেন৷ দুয়েকটা কাজ করার পরে রিভিউ আসবে। এরপর ধীরে ধীরে আগাতে থাকবেন। 

Upwork ছাড়াও অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম আছে। Freelancer.Com,  fiverr ইত্যাদি।  পছন্দমত প্ল্যাটফর্ম চুজ করে একই ভাবে গিগ বানান, বিট করুন। কাজ পেয়েই যাবেন। 

এছাড়াও একদম নতুনদের জন্য পরামর্শ থাকবে, আপনারা একদন লোকাল ক্লায়েন্টদের কাজ দিয়ে শুরু করুন। কিছু ফেসবুক গ্রুপ আছে। ওখানেও কন্টেন্ট রাইটার খুঁজে থাকে মানুষজন। কিন্তু, এসব ক্ষেত্রে রিস্ক হলো- অধিকাংশ সময়ই লোকাল ক্লায়েন্টরা একটু বাটপার হয়। টাকাপয়সা দিতে চায়না। এজন্য আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে। 

আবার, এক্ষেত্রে সুবিধা হলো- সহজেই কাজ পাওয়া যায়। ওইসব প্ল্যাটফর্মে যেমন অপেক্ষা করতে হয়, এখানে সেটার ততটা প্রয়োজন হয়না। 

Pro Tip To Get More Order:

খুব সহজেই কাজের অর্ডার পাবার একটা কার্যকরী পদক্ষেপ হচ্ছে — নিজের একটা পোর্টফলিও বানানো। 

পোর্টফলিও হলো-  অনলাইনের এমন একটা জায়গা যেখানে আপনার লেখা বিভিন্ন ধরনের আর্টিকেল শোকেস করবেন। 

পাশাপাশি যখন কোনো ক্লায়েন্ট আপনার কাছে স্যাম্পল দেখতে চাইবে তখন আপনি আপনার পোর্টফলিওর লিংক দিয়ে দেবেন। ক্লায়েন্ট সেটা দেখেই বুঝতে পারবে আপনি কেমন রাইটার, আপনার মান কেমম ইত্যাদি। 

পোর্টফলিও ও অনেক ভাবে করা যায়। একটা হলো- Free Way, আরেকটা হলো- Paid Way। ফ্রীতে করতে চাইলে Medium.Com এ যেতে পারেন। Medium.Com এ গিয়ে একটা একাউন্ট খুলে সেখানে আপনার লেখাগুলো সাজিয়ে রাখতে পারেন। 

কিন্তু, Free Way এর চেয়ে Paid Way টা ভালো হবে। আপনি একটা ওয়েবসাইট বানাবেন। ওই ওয়েবসাইটটার ডোমেইন নেইমটা হবেই মূলত আপনার নামে। ওখানে গিয়ে আপনি আপনার একটা পার্সোনাল ওয়েবসাইট বানাবেন। আপনার পোর্টফলিও সাজাবেন।

যখন একজন ক্লায়েন্ট আপনার কাছে স্যাম্পল জানতে চাইবে আপনি আপনার পোর্টফলিওর লিংকটা দেবেন। এক্ষেত্রে পোর্টফলিওটা হবে আপনার নিজের নামে করা ওয়েবসাইট। এগুলো দেখলে একজন ক্লায়েন্ট বুঝবে আপনি একজন প্রোফেশনাল রাইটার। এজন্য আপনার কাজ পাওয়ায় চান্স অনেকাংশে বেড়ে যাবে। 

How Much Can A Content Writer Earn?

কন্টেন্ট লিখে আসলে কত টাকা ইনকাম করা যেতে পারে? 

আসলে পুরো ব্যাপারটাই সাবজেক্টিভ। যদি অনেক আগের কথা চিন্তা করি, অর্থাৎ দশ বছর আগে—  একজন বিগিনার প্রতি 500 ওয়ার্ডের জন্য মোটামুটি 60 টাকা বা তার কাছাকাছি পেতো। দেখা গেলো- এখনকার সময়ে সেই ব্যক্তিই প্রতি 500 ওয়ার্ডের জন্য 700 / 750 টাকা চার্জ করছে। সো, একটা বড়সড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। 

এর পেছনে কারণ হতে পারে, তার স্কিল বেড়েছে, আরো প্রোফেশনাল হয়েছে, এক্সপেরিয়েন্স বেড়েছে, সময় গড়িয়েছে ইত্যাদি। 

সুতরাং, আপনি কত টাকা চার্জ করবেন এটা সম্পূর্ণই নির্ভর করে আপনার দক্ষতা কেমন, এক্সপেরিয়েন্স কেমন এসবের ওপর।

ধরে নিই, আপনি প্রতি 1000 ওয়ার্ডের জন্য 500 টাকা চার্জ করছেন। এখন এই 1000 ওয়ার্ড লিখতে আপনার কেমন সময় লাগছে? এটা একটা ব্যাপার। যদি আপনার এটা লিখতে একদিন সময় লাগে, এবং আপনার হাতে যদি যথেষ্ট পরিমাণে কাজ থাকে তাহলে প্রতিদিন একটা করে আর্টিকেল দিতে পারবেন এবং প্রতিদিন ৫০০ টাকা ইনকাম করতে পারবেন৷ 

১০০০ ওয়ার্ড লিখতে দু’দিন লাগলে মাসে ১৫ টা আর্টিকেল লিখতে পারবেন। তিনদিন লাগলে দশটা লিখতে পারবেন। অর্থাৎ, আর্নিংটা আপনার স্কিলের ওপর নির্ভরশীল। 

How To Not Get Cheated? 

পৃথিবীর প্রতিটা প্রান্তেই যেমন প্রতারক আছে, তেমন আপনারও প্রতারিত হবার চান্সও আছে। এমনই কন্টেন্ট রাইটিংয়ের ক্ষেত্রেও আপনি প্রতারিত হতে পারেন। কিন্তু, এই প্রতারণা এড়িয়ে চলার উপায় কী?

কোনো উপায়েই আপনি একদম শতভাগ প্রতারণা মুক্ত থাকতে পারবেন না। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর থেকে বাঁচার জন্য কিছু না কিছু তো অবলম্বন করতেই হবে। 

সাধারণত- Upwork, fiverr এসব জায়গায় প্রতারিত হওয়ার চান্স খুবই কম। এসব প্ল্যাটফর্মে সতর্কতার সাথে এনশিওর করা হয় যে, যে লিখছে এবং যে লেখাচ্ছে কেউই যেন প্রতারণা করতে না পারে। ক্লায়েন্ট যাতে তার কাজ বুঝে পায় এবং রাইটারও তার টাকা বুঝে পায়। 

কিন্তু, লোকাল ক্লায়েন্টদের সাথে কাজ করার সময় এমন কোনো মিডিয়াম থাকে না— যে মিডিয়াম এনশিওর করবে এসব ব্যাপার গুলো। এক্ষেত্রে কেমন সতর্কতা অবলম্বন করা যেতে পারে?

লোকাল ক্লায়েন্টদের ক্ষেত্রে মূলত ডিল গুলো এভাবে হয় যে, আপনি আগে তার আর্টিকেল লিখবেন, সেটা তাকে দেবেন তারপর সে আপনাকে টাকা পাঠাবে। যদি সে প্রতারক হয়েই থাকে এক্ষেত্রে আসলে তেমন কিছুই করার নেই। তবুও— 

যেহেতু লোকাল কাজ গুলো সাধারণত, ফেসবুক গ্রুপ বা যেকোনো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নেয়া হয়ে থাকে সেহেতু কাজ নেয়ার আগে অবশ্যই ক্লায়েন্টের প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা উচিত। যথাসম্ভব রিয়েল প্রোফাইল চেক করে তারপর কাজ নেয়া উচিত। 

লোকাল ক্লায়েন্টদের ক্ষেত্রে আরেকটা ঘটনা ঘটে থাকে।

আপনি যতদিন না একজন রাইটার হিসেবে যথেষ্ট পরিচিতি লাভ করেন ততদিন আপনার কাজের অভাব হবে- এটাই স্বাভাবিক।  এজন্য ক্লায়েন্টদের কথার জোর বেশি থাকবে। অর্থাৎ, তারা যা বলবে আপনাকে সেভাবেই কাজ করতে হবে। 

এজন্য যে তারা যা বলবে সেটাই চোখ বুজে করবেন, তা-ও না। ধরুন, আপনার কোনো ক্লায়েন্ট বললো যে- তুমি আমাকে দশটা আর্টিকেল টানা লিখে দাও, এরপর আমি তোমাকে একসাথে পে করবো। 

খবরদার!  মোটেই এটা করতে যাবেন না। প্রতিটা আর্টিকেলের জন্য আলাদা ভাবে পেমেন্ট নিয়ে চেক করে দেখুন, ক্লায়েন্ট রিয়েল কি-না।  তারপর ভরসার কথা ভাবুন। 

প্রথম একটা দু’টো আর্টিকেলে প্রতারিত হলে হয়তো আপনার হাজার পনেরো’শ ওয়ার্ডের লস হবে। কিন্তু একসাথে দশ বারোটা আর্টিকেলের জন্য প্রতারিত হওয়া কিন্তু ছোটখাটো লস না। সুতরাং, ভেবেচিন্তে কাজ নিন। 

Can You Earn As A Bengali Creative Content Writer? 

ক্রিয়েটিভ রাইটিং বলতে হতে পারে— গল্প, কবিতা অথবা উপন্যাস। Upwork, fiverr এ এসবের জন্য আসলে তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো জব নেই। দুয়েকটা প্ল্যাটফর্ম থাকতে পারে। 

তবে English Creative Content Writing Job গুলো এসআ প্ল্যাটফর্মে অনেক আছে। 

কন্টেন্ট রাইটিং কী? কন্টেন্ট কীভাবে লিখতে হয়? এ সম্পর্কে এখানে পুরোপুরি বলা না গেলেও, মোটামুটি একটা আলাপ-আলোচনা করা হয়েছে।

যদি আপনার ইচ্ছে এবং দক্ষতা থেকে থাকে, আশা করা যায় আপনিও হয়ে উঠবেন একজন প্রোফেশনাল কন্টেন্ট রাইটার! 

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *