কীভাবে কন্টেন্ট রাইটিং শেখা যেতে পারে?

অনলাইনে কাজ করার একটি উপায় হল কন্টেন্ট রাইটিং। কন্টেন্ট রাইটিং এর চাহিদা বর্তমানে ব্যাপক। ঘরে বসে যেমন এই স্কিল বা দক্ষতা অর্জন করা যায়, তেমনিভাবে এর দ্বারা ঘরে বসে আয়ও করা যায়।

ফ্রিল্যান্সিং এর জনপ্রিয়তা বাড়ার সাথে সাথে এই দক্ষতা অর্জন করা এখন সময়ের দাবি। ২০১৯ সালের তথ্য মতে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ৫৬.৭% ইন্টারনেট ব্যবহার করে। আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই হার ১২.৯%। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সেই সাথে বাড়ছে অনলাইনে কাজ করার সুযোগ।

কারো অধীনে নয়, বরং নিজেই নিজের বস হতে শিখে ফেলতে পারেন এই কন্টেন্ট রাইটিং। আর লেখা লেখি যদি হয় আপনার শখ, তাহলে তো কথাই নেই! খুব সহজে এর দ্বারা আয় করতে পারবেন।

এই আর্টিকেলে আমরা কন্টেন্ট রাইটিং কিভাবে শেখা যায় এবং এটি সম্পর্কিত কিছু টিপস নিয়ে আলোচনা করব।

কীভাবে কন্টেন্ট রাইটিং শেখা যেতে পারে

কন্টেন্ট রাইটিং হল কোনো কিছু নিয়ে লেখা। লেখাটা হবে বিস্তারিত এবং তথ্যবহুল। এর বিষয় যে কোনো কিছু হতে পারে। কন্টেন্ট রাইটিং শেখার জন্য আপনাকে সবার প্রথমে কন্টেন্টের ধরণ নির্বাচন করতে হবে।

কন্টেন্ট রাইটিং কত প্রকার?

কন্টেন্ট রাইটিং এর ক্ষেত্র বিশাল। বিভিন্ন রকমের কন্টেন্ট রাইটিং রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ –

  • ব্লগ রাইটিং,
  • ইমেইল রাইটিং,
  • কপিরাইটিং,
  • টেকনিকাল রাইটিং,
  • এড এন্ড প্রোমো রাইটিং
  • সোশাল মিডিয়া পোস্ট রাইটিং,
  • স্ক্রিপ্ট রাইটিং,
  • লং ফরম কন্টেন্ট রাইটিং,
  • গোস্ট রাইটিং, ইত্যাদি।

এই বিভিন্ন রকম কন্টেন্ট এর মধ্যে প্রতিটির স্ট্রাকচার বা গঠনই কিন্তু ভিন্নরকমের। তাই শেখার ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই আলাদা আলাদা ভাবেই এদেরকে শিখতে হবে।

সাথে সাথে এদেরকে নিয়ে ফিল্ডে কাজও করতে হবে। আপনি চাইলেই একদিনে সবকিছু শিখে ফেলতে পারবেন না, আবার একইসাথে অনেকগুলো ফরমেট শিখতে গেলে সমুদ্রে হাবুডুবুও খেতে পারেন।

কন্টেন্ট রাইটিং শেখার উপায়

আপনি যখন একবার কন্টেন্ট এর ধরণ নির্বাচন করবেন তখন কন্টেন্ট রাইটিং শেখার জন্য আপনার দুটো উপায় আছে- পেইড রিসোর্স এবং ফ্রি রিসোর্স।

ফ্রি রিসোর্স

ফ্রি রিসোর্সের সবচেয়ে বড় জগৎ হলো ইন্টারনেট। এটি শেখার জন্য একটি চমৎকার মাধ্যম। আপনার শেখার আগ্রহ থাকলে এখানে রিসোর্স এর অভাব হবে না।

কন্টেন্ট রাইটিং শেখার জন্য বিভিন্ন রকমের ফ্রি কোর্স আপনি ইন্টারনেটে পাবেন। যেমনঃ Coursera, Skillshare ইত্যাদি অনলাইন প্লাটফর্মে কন্টেন্ট রাইটিং শেখানো হয়।

ইন্টারনেট এ আপনি প্রচুর আর্টিকেল বা লেখা পাবেন যেখান থেকে আপনি অনুপ্রেরণা পেতে পারেন। এছাড়াও আপনি যেই ধরণের কন্টেন্ট রাইটিং শিখতে চাচ্ছেন তার নাম লিখে ইউটিউবে সার্চ দিলেই প্রচুর টিউটোরিয়াল আপনার সামনে চলে আসবে।

সঠিকভাবে চেষ্টা করলে এই ফ্রি রিসোর্সগুলো আপনার অনেক কাজে আসবে। অনেক রাইটার আছেন যারা ফ্রি রিসোর্সের ব্যবহার করেই এই ফিল্ডে নেমেছেন।

পেইড রিসোর্স

আপনি যখন টাকা দিয়ে কোনো রিসোর্স এর সাহায্য নেবেন তখন সেটা পেইড রিসোর্স হবে। পেইড রিসোর্স

এর সুবিধা তুলনামূলক ভাবে ফ্রি রিসোর্স থেকে বেশী।

পেইড কোর্স আপনি অনলাইনেও করতে পারেন, কিংবা অফলাইনেও করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনাকে কিছু টাকা ইনভেস্ট করতে হলেও ফ্রি রিসোর্সের চেয়ে বেশী আস্থা যোগ্য।

এই কোর্স গুলোতে স্টেপ বাই স্টেপ অর্থাৎ পূর্নাঙ্গভাবে কন্টেন্ট রাইটিং শেখানো হয়ে থাকে। এর মানে হল আপনাকে খাবার রেডি করে খাইয়ে দেওয়া হবে।

আর ফ্রি রিসোর্স থেকে শিখলে আপনাকে নিজ থেকে সবকিছু খুঁজে শিখতে হবে। অর্থাৎ আপনাকে নিজের খাবার নিজেকেই তৈরি করতে হবে।

ফ্রি রিসোর্স এ সবকিছু স্টেপ বাই স্টেপ গোছানো থাকে না। পেইড কোর্স এ আপনি এই সুবিধাটা পাবেন। পাশাপাশি আপনাকে গাইড করার জন্যও একজন থাকবেন।

পেইড করসে আপনার বিপরীতে ইন্সট্রাক্টর যতটুকু দিবেন আপনি ঠিক ততটুকুই নিতে পারবেন। কিন্তু পেইড কোর্সে আপনার চাহিদামতো সবটুকুই ইন্সট্রাক্টররা ঢেলে দিতে প্রস্তুত থাকবে।

একটু তেতো হলেও সত্যি কথা হলো, বেশীরভাগ ফ্রি রিসোর্সই মূলত পেইড কোর্সের মার্কেটিং এর জন্য বানানো হয়ে থাকে। অর্থাৎ ফ্রি রিসোর্সগুলোতে কিছু না কিছু ঘাটতি থেকেই যায়। তাই সক্ষমতা থাকলে পেইড কোর্সের দিকে পা বাড়ানোই উত্তম।

আমার নিজের একটা কন্টেন্ট রাইটিং কোর্স আছে। এই কোর্সে একদম স্টেপ ০ থেকে শুরু করে আমি দেখিয়েছি কিভাবে কন্টেন্ট লিখতে হয়।

কোর্সে যা যা থাকছেঃ

  • টোটাল কোর্স লেসনঃ ২৫টি
  • কোর্স ডিউরেসনঃ ৬ঘন্টা+
  • রিসোর্স শীট বা চিট শিট (হেডলাইন লিখার টেকনিক)
  • স্পেশাল কমিউনিটি (আমাদের ফেসবুক কমিউনিটি)
  • সাথে থাকছে ইন্সট্রাকটর দের সাথে যেকোনো সময়ে যোগাযোগের সুবিধা।
  • লাইফটাইম এক্সেসঃ কোর্সে একবার জয়েন দেওয়ার পর যেকোনো সময় নিজের ইচ্ছামতো লগ ইন করে আমাদের কোর্স লেসন দেখতে পাবেন। আপনার এক্সেস কখনো সরানো হবে না।
  • ১০০% মানি ব্যাক গ্যারান্টিঃ যদি কোর্সে জয়েন করার পর আপনার মনে হয় এই কোর্সটি নিয়ে আপনি লাভবান হননি বা কিছু শিখতে পারেননি তাহলে আপনি চাইলে মানি ব্যাক পেয়ে যাবেন। তবে এরজন্য কোর্সে জয়েনের ২৪ঘন্টার মধ্যে এই মানি ব্যাক রিকুয়েষ্ট করতে হবে এবং আপনার সম্পুর্ণ টাকা ফেরত দেওয়া হবে। ২৪ঘন্টা অতিক্রম হয়ে গেলে সেক্ষেত্রে এই শর্ত কাজ করবে না।
  • সংযুক্ত নতুন ফিচার “প্রাইভেট ফোরামঃ আমাদের কোর্স লেসন দেখার পাশাপাশি যদি কোনো নির্দিষ্ট লেসন নিয়ে আপনার কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে, তবে আপনি সেটি প্রাইভেট ফোরামে পোস্ট করতে পারেন এবং সেখানে অন্যান্য সদস্যরাও উত্তর বা মতামত দিতে পারবে। মূলত এখানে একটি আলোচনা হবে সবার মধ্যে।

কোর্সের সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করতে হবে।

পেইড কোর্স কেনার ক্ষেত্রে যা খেয়াল রাখবেন-

বাজারে প্রচুর কোর্স থাকায় স্বাভাবিকভাবেই কোর্স কিনতে যাওয়ার সময় আপনি দ্বিধায় পড়ে যেতে পারেন। এজন্য পেইড কোর্স নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে-

  • যেকোনো কোর্স কেনার আগে কোর্সের রিভিউ অবশ্যই দেখে নিবেন। প্রতারকের পাল্লায় পড়ে প্রায় প্রতিদিনই অনেকে নিজের টাকা হারান। তাই কেনার আগে অবশ্যই খোঁজ নিবেন যে কোর্স কারা এবং কীভাবে পরিচালনা করছে।
  • কোর্সের এলিমেন্ট ও স্ট্রাকচার দেখে কিনবেন। এজন্য আপনি যদি কেনার আগে ফ্রি রিসোর্সগুলো ঘেঁটে একটু ধারণা নিয়ে নেন কন্টেন্ট রাইটিং সম্পর্কে, তাহলে আপনার নিজেরই সুবিধা হবে।
  • কোর্স অনলাইন নাকি অফলাইন নেবেন- এই সিদ্ধান্ত অবস্থা বুঝে নেবেন। মনে রাখবেন, শেখার ব্যাপারটা আপনার উপর নির্ভর করে। তাই আপনার যেটা সুবিধা হয় সেটাই নেবেন।
  • প্রতিটা কোর্সেই আপনাকে কন্টেন্ট রাইটিং শেখানো হবে, ভাষাজ্ঞান নয়। তাই এ ব্যাপারে আপনার ঘাটতি থাকলে চেষ্টা করবেন আগে সেটা পূরণ করতে। নতুবা কোর্স কোনো কাজে আসবে না।

চলুন এবার কন্টেন্ট রাইটিং শেখার জন্য কিছু টিপস জেনে নেওয়া যাকঃ

কন্টেন্ট রাইটিং এর জন্য কিছু কৌশলঃ

  • ব্যাকরণ, শব্দ ও বাক্যের সঠিক প্রয়োগ, শব্দভান্ডার এর ব্যবহার – এগুলোর দিকে খেয়াল রাখুন। ভাষাশৈলীর চমৎকার ব্যবহার আপনার লেখাকে অনবদ্য করে তুলতে সক্ষম। এসব দিকে খেয়াল রাখার জন্য বইপত্র এবং ইন্টারনেট এর সাহায্য নিন।
  • লিখতে থাকুন। শুরুতেই কোনো লেখাকে চূড়ান্ত নির্ধারণ না করে বারবার আপনার লেখাকে সম্পাদন করুন। এটা আপনাকে সূক্ষ জিনিসগুলোর প্রতি নজর দিতে সাহায্য করবে।
  • প্রচুর রিসার্চ বা গবেষণা করুন। এক্ষেত্রেও বই এর পাশাপাশি ইন্টারনেট আপনার বন্ধু।
  • পাঠক এর চাহিদার দিকে খেয়াল রাখুন। লেখা যাতে পাঠকবান্ধব হয় তা নিশ্চিত করুন। পাঠক এর আগ্রহ ধরে রাখতে চেষ্টা করুন।
  • নিজের একটি চমৎকার পোর্টফলিও তৈরী করুন।
  • বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস যেমন ফাইভার, আপওয়ার্ক, ফ্রিল্যান্সার – এ কাজ করার চেষ্টা করুন।
  • নিজের একটা নেটওয়ার্ক তৈরি করার চেষ্টা করুন। নয়তো মার্কেরপ্লেস থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • কন্টেন্ট সম্পর্কিত বিভিন্ন টার্ম রয়েছে যেমন এসিও, প্রুফরিডিং ইত্যাদি। ইন্টারনেট ঘেঁটে এগুলো সম্পর্কে জানুন।
  • প্রতিনিয়ত নিজের লেখা নিয়ে গবেষণা করুন।
  • লেখার ধরণ পাল্টাতে থাকুন।
  • হেডিং এবং সাবহেডিং এর ব্যবহার শিখুন।
  • বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার করুন।

সর্বোপরি অনুশীলন, অনুশীলন এবং অনুশীলন- এই তিন বিষয় আপনাকে দক্ষ করে তুলবে। কন্টেন্ট রাইটিং এমন একটি দক্ষতা, যার চাহিদা কখনোই ফুরোবে না।

দিনদিন ইন্টারনেট এর সহজলভ্যতার সাথে সাথে বিভিন্ন ওয়েব কন্টেন্ট তৈরি করার জন্য এর চাহিদা বেড়েই চলেছে। নানান কারণে আপনার ঘরে বসে ইনকাম করার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।

বাংলাদেশের গারো তরুণদের কথাই ধরুন। ধীর গতির ইন্টারনেট ও তাদের থামাতে পারেনি। পাহাড়ি বন জংগল এর ভেতর বসে তারা ফ্রিল্যান্সিং করছেন। স্বাবলম্বী হওয়ার এক অনন্য উপায় হল এই কন্টেন্ট রাইটিং।

পরিশেষে একটা উদাহরণ দেয়া যাক। ব্রায়ান কলিন্স তার “YES, YOU CAN WRITE!

101 PROVEN WRITING PROMPTS THAT WILL HELP YOU FIND CREATIVE IDEAS FASTER FOR YOUR JOURNAL, BLOGGING, WRITING YOUR BOOK AND MORE” বই এর শুরুতে লেখাকে বাঞ্জি জাম্পিং এর সাথে তুলনা করেছেন।

বাঞ্জি জাম্পিং এ একজন জাম্প করা না পর্যন্ত যেমন নিশ্চিত হতে পারেনা সে পারবে কিনা, লেখালেখি করাটাও সেরকম। আপনি শুরু না করার আগ পর্যন্ত বুঝতে পারবেন না আপনি পারবেন কিনা! তাহলে আর দেরি না করে বসে পড়ুন ল্যাপটপ, মোবাইল বা খাতা- কলম নিয়ে!

আর হ্যাঁ, লেখালেখি শেখার জন্য উপরে উল্লিখিত বইটাও কিন্তু পড়ে ফেলতে পারেন।