যে সাতটি অভ্যাস করলে আপনি আরো বেশি আর্নিং করতে পারবেন!

জীবনের প্রত্যেকটা জার্নিতেই আমরা সফল হতে চাই। কিন্তু, কিছু কিছু ভুলের কারণে অনেক সময় এই সফলতাটা আমাদের হাতছাড়া হয়ে যায়।

প্রতিটি ব্যর্থ জার্নির পেছনে যেমন কোনো ভুল কাজ থাকে, তেমনি প্রতিটি সফল জার্নির পেছনেও কিছু ভালো অভ্যাস/ কাজ থাকে।

এমনই সাতটি ভালো অভ্যাস রয়েছে যেগুলো রপ্ত করলে আপনি আপনার ব্লগ/ ওয়েবসাইট জার্নি, আর্নিং জার্নি থেকে শুরু করে জীবনের যেকোনো কাজেই সফলতার ছোঁয়া পেতে পারেন।

1. বই পড়াঃ

বই এমন একটা জিনিস যেটার পেছনে আপনি যা-ই ইনভেস্ট করেন না কেন, হতে পারে টাকা অথবা সময়— বই আপনাকে এর কয়েকগুণ বাড়িয়ে ফেরত দেবে। কোনো লস হওয়ার চান্সই নেই। এই ইনভেস্টটা মূলত আপনার নিজের ভেতর ইনভেস্ট করা। নিজের নলেজের জন্য ইনভেস্ট করা। এটা করে আপনি যে প্রোফিট পাবেন, সেটা টাকা পয়সা হিসেবে আপনার হাতে ধরা না দিলেও আজীবন থেকে যাবে মগজের ভেতর!

ধরুন, আপনি একটা বিষয় শিখতে চাচ্ছেন এবং বিষয়টা সম্পর্কে কয়েকশো ডলার দিয়ে একটা অনলাইন কোর্সও কেনার কথা ভাবছেন। কিন্তু, অপরদিকে এই সমমূল্য দিয়েই ওই বিষয়ের ওপর এক্সপার্ট বহুজনের লেখা বই আপনি পেয়ে যাবেন।

এতে করে একটা কোর্সে আপনি ওই বিষয়ে মনমত সব তথ্য না পেলেও এক্সপার্টদের বইয়ে কিন্তু বাঘা বাঘা তথ্যগুলো ঠিকই পেয়ে যাবেন।

আবার, একটা বই পড়লে একজন মানুষকেও পড়া হয়ে যায়।

Need 100% Unique, SEO Optimized & only The BEST Content? Enjoy 20% OFF On order over 20,000 words!

কীভাবে?

একজন লেখক তার ৪৫ বছর বয়সে একটা বই লিখলো। যেকোনো তালে বা ছন্দে বইয়ের ভেতর সে তার জীবনের করা ভালো কাজ, ভুল কাজ, এক্সপেরিয়েন্স ইত্যাদি আপনাকে জানিয়ে দেবে৷ এগুলো থেকেও আপনি শিখতে পারবেন অনেক কিছু।

ব্লগিংয়ের ক্ষেত্রে,  আপনি যখন একটা ইংলিশ বই পড়বেন সাথে সাথে আপনার ইংলিশ স্কিল ইম্প্রুভ হতে শুরু করবে। আবার, ব্লগিং রিলেটেড বই পড়লে, ওয়েবসাইট বিষয়ক বই পড়লে এ সম্পর্কে অনেক কিছু নিজ থেকেই জানতে পারবেন। আপনি যতই জানবেন ততই প্রয়োগ করতে শিখবেন, ততই আপনার আর্নিং সোর্সও বেড়ে যাবে।  যারা ব্লগিং বিষয়ে পড়তে চান বা জানতে চান তারা  এক্ষেত্রে Jim Harmer এর লেখা  WORK Energy বইটা পড়ে দেখতে পারেন। এই বইটি ব্লগারদের জন্য খুবই উপকারী৷ যদিও বাংলাদেশে পাওয়া না-ও যেতে পারে, এজন্য আপনাকে এটি বাইরে থেকে আনিয়ে নিতে হবে। দাম বেশি হলেও পড়ে ফেলুন। বইয়ের পেছনে যত টাকা ইনভেস্ট করবেন সেটার কয়েকগুণ প্রোফিট আপনার লাইফে ব্যাক আসবে।  সুতরাং, বই পড়াটা কিন্তু মোটেই লস প্রজেক্ট না!

2. প্রতিদিন লেখার অভ্যাস করাঃ

ব্লগারদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। একজন ব্লগারের ৮০% রেজাল্ট আসে তার ২০% কাজের মাধ্যমে।

আপনি একজন ব্লগার কিন্তু কনটেন্ট লেখার অভ্যাস করলেন না, ভুল শোধরালেন না, ইচ্ছে হলে লিখলেন ইচ্ছে না হলে লিখলেন না তাহলে কিন্তু হলো না। ব্লগিংয়ের মূল সম্পদই হচ্ছে ভালো কনটেন্ট।  আর একজন ব্লগারের উচিত প্রতিদিন তার লেখার হাতটাকে ঝালাই করে নেওয়া। প্রতিদিন লিখলে আমরা একটু একটু করে ভুল শুধরে, লেখার মান উন্নত করে আমাদের আরো ওপরে নিয়ে যেতে পারি। একটা উন্নতমানের কনটেন্ট আপনার আর্নিং আরো বাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

সুতরাং, একটা ভালো কন্টেন্ট রাইটার বা ব্লগার হওয়ার নেপথ্যে নিয়মিত লেখার বিকল্প নেই।

Become a Professional Content Writer Today! Apply Coupon 40OFF to get 40% discount. Enroll Here!

3. Consistent থাকাঃ

প্রথম প্রথম কোনো ওয়েবসাইট জার্নি শুরু করলে সবই ভালো লাগে। এ যেন হঠাৎ প্রেমে পড়ার মত। নাওয়া নেই, খাওয়া নেই শুধু ওয়েবসাইট, ব্লগ লেখা, ডিজাইন করা নিয়েই ব্যস্ত। 

কিন্তু, বেশ কিছুদিন এভাবে এক্সাইটমেন্ট নিয়ে কাজ করার পরও যখন ইন্সট্যান্ট রেজাল্ট আসে না, কনটেন্ট র‌্যাঙ্ক করে না, তখন প্রচন্ড হতাশায় আবার হাল ছেড়ে তল্পিতল্পা গুটিয়েও ফেলা হয়।

কিন্তু, একজন ব্লগারের শুরু থেকেই মাইন্ডসেট করে নেওয়া উচিত ” ব্লগিং ইজ এ লং-টার্ম গেইম”। এখানে আপনাকে লেগে থাকতে হবে, হতাশ হওয়া চলবে না।

গুগল একটা নতুন ওয়েবসাইটকে সাত আটমাসের আগে তেমন সুযোগ দেয় না— এই মেন্টালিটিটা আপনার থাকতে হবে।

আপনি একটা ওয়েবসাইট শুরু করে প্রথম দুইমাস মাসে দশটা কনটেন্ট দিলেন কিন্তু তারপর মাসে দু’টোও দিচ্ছেন না— তাহলে কিন্তু হবে না।

এরকম করলে দিনশেষে আপনার অবস্থা হবে সেই খরগোশের মত যে লাফিয়ে লাফিয়ে গিয়েও মাঝপথে থেমে যাওয়ার কারণে কচ্ছপের কাছে হেরে গিয়েছিলো।

এই জার্নিটায় আপনাকে ধৈর্য্যশীল হতে হবে এবং হতে হবে নিয়মিত।  আপনি যদি আপনার কনসিস্টেন্সিটা ধরে রাখতে পারেন তাহলে শুরুর দিকে যে বাঁধা গুলো আসার সম্ভাবনা থাকে, যেমন— গুগলের সাইনবক্স, ঠিকমত আর্টিকেল র‌্যাংক না হওয়া, টাকা পয়সার চেহারা অনেকদিন ধরে না দেখার মত সমস্যাগুলো আপনাকে তেমন একটা টলাতে পারবে না।

এভাবে কনসিস্টেন্সি ধরে রেখে প্রথম কষ্টের বিভীষিকাময় সাত আটমাস পার করার পর যখন দেখবেন রেজাল্ট আসা শুরু করছে, তখন আপনার আগ্রহ শতগুণে বেড়ে যাবে।

4. কম্পিটিটরদের ওপর নজর রাখাঃ

ধরুন, আপনার ওয়েবসাইটটি হোম থিয়েটর নিশের। এবার আপনার নিশের পাঁচটি বড় বড় কম্পিটিটরদের খুঁজে বের করুন। এরপরে সপ্তাহে একদিন বা মাসে একদিন তাদের ওয়েবসাইট কার্যক্রম ঘেঁটে দেখুন। তারা কি নিয়ে লিখছে, কিভাবে আগাচ্ছে,  তাদের মনিটাইজেশন পদ্ধতি কি কি, কি কি উপায়ে টাকা আর্ন করছে, তারা এড দিচ্ছে না-কি, কোনো ইনফো প্রডাক্ট দিয়ে ইনকাম করছে কি-না, করলে কী ধরনের ইনফো প্রডাক্ট দিচ্ছে, ই-মেইল মার্কেটিং করছে কি-না, ই-মেইল ক্যাপচার করছে কি-না ইত্যাদি খেয়াল করলে আপনার বুঝতে সুবিধা হবে যে আপনার কি করা উচিত, কিভাবে আগানো উচিত।

এরমানে এই না যে তাদের একদম হুবহু নকল করবেন। তাদের আগানোর পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নিয়ে নিজেরর মত করে আগান, দেখবেন সফলতা আপনার আঙুলের ডগায় এসে পৌঁছে যাবে।

5. প্রতিদিন এফিলিয়েট ড্যাশবোর্ড চেক না করাঃ

প্রতিদিন যদি আপনি Google Analytics চেক করেন, কতজন ভিজিটর আসলো, কতজন আসলো না, কত টাকা ইনকাম হলো এসব প্রতিদিন চেক করলে আপনি ডিমোটিভেট হয়ে যাবেন, আপনার প্রডোাক্টিভিটি কমে যাবে। 

Google Analytics এর কথা যদি বলি তাহলে দেখুন, আমাদের যে ট্রাফিকের পরিমাণটা সেটা খুব দ্রুত কিন্তু বাড়ে না বা শুধু বেড়েই যাচ্ছে বিষয়টা এমন না।

দেখা যায় আজকে একটু বাড়লে কালকে একটু কমবে, তার পরের দিন আবার একটু বেশি বাড়বে। এভাবে বেশি কম করে আস্তে আস্তে দেখা যাবে অনেকদিন পর বাড়তির দিকে যাবে। আমি যখন দেখব কালকে একশোজন ভিজিটর এসেছিলো, আজকে নব্বইজন এসেছে, আমার কিন্তু মন খারাপ হয়ে যাবে ।  বিষয়টা আমাকে ডিমোটিভেট করে ফেলবো।

প্রতিদিনই আপনার ভিজিটর বাড়বে এই এক্সপেকটেশন মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। কারণ, আজকে একশো, কালকে আশি, পরশু আবার একশো বিশ এভাবে আপ-ডাউন করে ধীরে ধীরে উন্নতির দিকেই যাবে।

এজন্য প্রতিদিন ড্যাশবোর্ড চেক করলে ডিমোটিভেট হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

6. রেগুলার এক্সারসাইজ করাঃ

রেগুলার এক্সারসাইজ আমাদের প্রোডাক্টিভিটি বাড়িয়ে দেয়— এটা আমরা কমবেশি সবাই ই জানি।

কিন্তু ব্লগারদের ক্ষেত্রে এক্সারসাইজটা বেশিই জরুরি। যারা ব্লগিং করেন তাদের ঘন্টার পর ঘন্টা কম্পিউটারের সামনে বসেই থাকতে হয়। কায়িকশ্রমের ভাগটা যেহেতু শূণ্যই বলা চলে এজন্য নিয়মিত এক্সারসাইজ জরুরি।

নাহলে দেখা যায় অনেকসময় মনযোগ ধরে রাখা অসম্ভব হয়, শারিরীক অসুস্থতা দেখা যায় এবং স্থুলতা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি।

সুতরাং প্রতিদিন কিছু না কিছু এক্সারসাইজ করুন। হতে পারে সেটা হাঁটাহাঁটি করা, দৌড়াদৌড়ি করা বা পারলে জিমে যাওয়া। আপনার যেটা ভালো লাগে, যেভাবে ভালো লাগে সেভাবেই এক্সারসাইজ করুন।

যখন আপনি হাঁটছেন বা অন্য কোনো এক্সারসাইজ করছেন তখন সময়টা আরো কাজে লাগাতে চাইলে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর পডকাস্ট শুনতে পারেন। যেমন বিজনেস রিলেটেড পডকাস্ট, ওয়েবসাইট রিলেটেড পডকাস্ট ইত্যাদি। এতে করে এক্সারসাইজের জন্য আপনার শরীরটাও ভালো থাকলো, পাশাপাশি পডকাস্ট শোনার জন্য অনেককিছু সম্পর্কে জানতেও পারলেন।

7. সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি কমানোঃ

অপ্রয়োজনীয় অহেতুক তথ্য দিয়ে আপনাকে ডিপ্রেশনে ফেলে দেওয়ার জন্য সোশ্যাল মিডিয়াই যথেষ্ট।  এখানে সবাই তার পারফেক্ট জীবনটা শো করতে ব্যস্ত। যখন আমরা দেখি সবাই তো ভালো আছে, সবার এটা আছে, ওটা আছে তখন অটোমেটিক্যালি মাথায় ঘুরঘুর করতে থাকে যে, সবাই এত ভালো আছে, সবার এত কিছু আছে, আমার কেন নেই! 

আপনি যদি এরকমটা ভাবতে না-ও চান, তা-ও এমন চিন্তা চলেই আসে। মূলত ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এসব সাইটগুলো আপনাকে একটা অবাস্তব জিনিস দিয়ে আঁটকে রাখবে, কন্ট্রোল করবে, আপনার মূল্যবান সময় কেঁড়ে নেবে। যে সময় আপনি আপনার ব্লগিংয়ের পেছনে দিলে অনেকটা আগাতে পারবেন, সেই সময়টা সোশ্যাল মিডিয়া খেয়ে ফেলবে।

আবার, আজকাল সুইসাইডের হার অধিকাংশ বেড়ে গেছে সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তির কারণেও।

সুতরাং, জীবনে ভালো কিছু করতে চাইলে প্রথমেই সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি কমাতে হবে।

কমানো বলতে সোশ্যাল মিডিয়া যে একদম ছেড়ে দেবেন, তা-ও না। আজকাল বিশ্ব ডিজিটাল হচ্ছে, যুগের সাথে তাল মেলাতে এটা অবশ্যই একটা দরকারী জিনিস। 

কিন্তু, সোশ্যাল মিডিয়ার সর্বোচ্চ সহনশীল ব্যবহার করতে পারলে আপনার জন্যই ভালো।

এই সাতটি অভ্যাস আপনি জীবনে রপ্ত করে আশা রাখুন শুধু আর্নিংয়ের ক্ষেত্রে বা শুধু ব্লগিং লাইফে না, জীবনের অন্যান্য সেক্টরেও আপনি ভালো করবেন এবং অনেকদূর এগিয়ে যাবেন।