বাংলাদেশ থেকে Activated Stripe account খোলার পদ্ধতি!  

বাংলাদেশ থেকে Stripe Account খোলা সরাসরি সম্ভব না। কারণ Stripe এখনো বাংলাদেশে অফিশিয়ালি সাপোর্ট করে না।

কিন্তু একটা উপায় আছে। UK তে একটা কোম্পানি খুলে সেই কোম্পানির নামে Stripe Account খোলা যায়। শুনতে জটিল মনে হলেও আসলে ব্যাপারটা এতটা কঠিন না।

এই আর্টিকেলে সম্পূর্ণ প্রসেসটা স্টেপ বাই স্টেপ দেখাচ্ছি।

Is Stripe Available in Bangladesh? (২০২৬ আপডেট)

সংক্ষিপ্ত উত্তর: না, Stripe এখনো বাংলাদেশে অফিশিয়াল সাপোর্ট দেয় না। ২০২৬ সালেও বাংলাদেশ Stripe-এর সাপোর্টেড দেশগুলোর তালিকায় নেই।

তাহলে কি বাংলাদেশ থেকে Stripe ব্যবহার সম্ভব? হ্যাঁ, একটি বৈধ উপায় আছে। UK তে একটি কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন করে সেই কোম্পানির নামে Stripe Account খোলা যায়। মোট খরচ মাত্র ৩০-৩৫ ডলার, এককালীন।

নিচে স্টেপ-বাই-স্টেপ পুরো প্রসেস দেখানো হয়েছে।

কেন Stripe দরকার?

Stripe হলো বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় পেমেন্ট প্রসেসরগুলোর একটা। আপনি যদি অনলাইনে কিছু বিক্রি করতে চান, সাবস্ক্রিপশন সার্ভিস চালাতে চান, বা SaaS প্রোডাক্ট বানাতে চান, তাহলে Stripe ছাড়া কাজ করা কঠিন।

Stripe ব্যবহারের সুবিধা:

  • ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, Apple Pay, Google Pay সব সাপোর্ট করে
  • ডেভেলপার ফ্রেন্ডলি API
  • ১৩৫+ কারেন্সি সাপোর্ট
  • অনেক WordPress প্লাগইন, SaaS টুল Stripe ইন্টিগ্রেশন সাপোর্ট করে

প্রথম ধাপ: UK কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন

Stripe Account খোলার জন্য আপনাকে প্রথমে UK তে একটা কোম্পানি খুলতে হবে।

এটা করার জন্য বিভিন্ন ওয়েবসাইট আছে যারা আপনার হয়ে সম্পূর্ণ কাজটা করে দেবে। এদের মধ্যে একটা হলো qualitycompanyformations.co.uk

কিভাবে করবেন:

  • তাদের ওয়েবসাইটে যান
  • Formation প্যাকেজে গিয়ে প্রাইভেসি প্যাকেজ সিলেক্ট করুন (প্রায় ১৯.৫ পাউন্ড, মানে ৩০-৩৫ ডলারের মতো)
  • আপনার বিজনেসের একটা নাম দিন (নামের শেষে “Corp Ltd” বা “Limited” রাখুন)
  • সাবমিট করুন এবং পেমেন্ট করুন

পেমেন্ট করার পর, কোম্পানির কিছু বেসিক ডিটেইলস দিতে হবে যেগুলো আপনি দেখলেই বুঝতে পারবেন।

দ্বিতীয় ধাপ: ভেরিফিকেশন

কোম্পানি রেজিস্ট্রেশনের পর তারা আপনাকে একটা App ইন্সটল করতে বলবে। এই App এর লিংক তারা আপনার মেইলে পাঠিয়ে দেবে।

এই App এর মাধ্যমে আপনার একটা ন্যাশনাল আইডি তাদেরকে পাঠিয়ে দিতে হবে। তারা সবসময়ই পাসপোর্ট প্রেফার করে। তাই সম্ভব হলে পাসপোর্ট পাঠিয়ে দেবেন, অথবা ন্যাশনাল আইডি কার্ড।

এর পাশাপাশি আপনাকে একটা এড্রেস দিতে হবে যাকে “Proof of Address” বলে। Proof of Address হতে পারে:

  • ইলেকট্রিসিটি বিল
  • কোনো ব্যাংকের স্টেটমেন্ট
  • গ্যাস বিল

ডকুমেন্টস বাংলায় হলে অনেক সময় তারা বুঝতে পারে না এবং কাজেও লাগে না। তাই ইংরেজি কোনো স্টেটমেন্ট বা ডকুমেন্ট দেওয়া উচিত।

ব্যাংক স্টেটমেন্ট দিলে অবশ্যই সেটা লাস্ট তিন মাসের মধ্যে ইস্যুকৃত হতে হবে।

ভেরিফিকেশন শুরু হয়ে যাওয়ার পর তারা এক বা দুই দিন সময় নিতে পারে। দুয়েকদিন হয়ে যাওয়ার পরেই তারা সবকিছু করে দেবে।

তৃতীয় ধাপ: Stripe Account খোলা

কোম্পানি খোলা হয়ে গেলে আপনি Stripe এ একাউন্ট খুলতে পারবেন।

Stripe এ একাউন্ট খোলার সময় যেসব ইনফরমেশন দিতে হয়, সেই ইনফরমেশন দেওয়ার ব্যাপারটা একটু জটিল। কিছু কিছু ক্ষেত্রে UK এর ইনফরমেশন দেওয়া লাগে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ইনফরমেশন দেওয়া লাগে।

ফোন ভেরিফিকেশন

অনেকে বলেন যে Stripe এ একাউন্ট খোলার পর তারা ফোন ভেরিফিকেশন করে। এজন্য একটা UK নাম্বার কিনতে হয়।

কিন্তু, আসলে এটা করার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ Stripe থেকে ফোন ভেরিফিকেশন ছাড়াও আরো একটা পদ্ধতিতে ভেরিফিকেশন করা যায় Android App দিয়েই। App টার নাম হচ্ছে “Google Authenticator”। এটা দিয়েও Stripe এর ভেরিফিকেশন করা যায়। সেক্ষেত্রে আপনার আর কোনো UK নাম্বারের প্রয়োজন হবে না।

প্রথমবার টাকা তোলা

একাউন্ট খোলার পর কোনো সমস্যা ছাড়াই টাকা পয়সা সব লেনদেন করতে পারবেন। কিন্তু, প্রথম বারের মতো লেনদেন করার সময় একটু বিপত্তি বাঁধতে পারে।

এক্ষেত্রে Stripe আপনার একাউন্টটা হোল্ড করতে পারে এবং আপনার কাছে আইডেন্টিটি ভেরিফিকেশন চাইবে। তখন আপনার ন্যাশনাল আইডি কার্ডের ছবি আর আপনার নিজের একটা ছবি তুলে দেবেন। তাহলেই আপনার একাউন্টটা সম্পূর্ণ ভেরিফাইড করে দেবে।

আশা করা যায়, পরবর্তীতে আর কোনো সমস্যা হবে না।

খরচ কত?

খাতখরচ
UK কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন১৯.৫ পাউন্ড (৩০-৩৫ ডলার)
Stripe একাউন্ট খোলাফ্রি
Stripe ট্রানজেকশন ফি২.৯% + $০.৩০ প্রতি ট্রানজেকশন

মোট খরচ মাত্র ৩০-৩৫ ডলার। এককালীন।

শেষ কথা

বাংলাদেশ থেকে Stripe Account খোলা একটু ঘুরপথে হলেও, একবার খুলে ফেললে কোনো সমস্যা হয় না। আপনি যেকোনো ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট নিতে পারবেন, SaaS প্রোডাক্ট বানাতে পারবেন, ই-কমার্স করতে পারবেন।

প্রসেসটা একবার বুঝে ফেললে সময় লাগে মাত্র কয়েক দিন। আর খরচ? মাত্র ৩০ ডলারের মতো। এত কম বিনিয়োগে ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট নেওয়ার সুযোগ পাওয়া বেশ ভালো একটা ডিল।

Similar Posts