Pickleball খেলা থেকে ব্লগাররা কি কি শিখতে পারে?

Pickleball নিয়ে আমরা অনেকেই জানিনা। অনেকে নামটাও শুনেছি এ-ই প্রথম।  তবে এই খেলার কিছু দিক ব্লগারদের কাজে আসতে পারে। যদি আপনি একজন ব্লগার হোন তবে এই আর্টিকেলটা হতে পারে আপনার জন্যই। 

টেনিস, ব্যাডমিন্টন অথবা পিংপংয়— এ সবকিছু মিলিয়েই একটি খেলা “পিকলবল”। এ  নিয়েই আজকে আলাপ হোক। 

না, না! আপনাকে এখনই পিকলবল খেলতে বলছি না। তবে ব্লগার হিসেবে আপনি চাইলে পিকলবল সম্পর্কে জানার একটা ফায়দা তুলতেই পারেন। চলুন সেটাই শেখা যাক!

পিকলবল এমন একটা গেইম, যা ছোট থেকে শুরু করে বুড়ো বয়স পর্যন্ত যে কেউ খেলতে পারবে। এমনকি  আপনিও খেলতে পারবেন।  অনেক সময়ে খেলতে খেলতে আসক্তও হয়ে যেতে পারেন। 

কিন্তু আসক্ত না হয়ে চলুন আমরা এটাকে  ব্লগে কাজে লাগাই। পিকলবলের কিছু টিপস অ্যান্ড ট্রিকস ব্লগিংয়ে বেশ হেল্পফুল!  

কিন্তু কীভাবে?

1. Start Small and Think BIG! 

আমরা একটু পেছন ফিরে তাকালে দেখতে পাই, পিকলবল খেলাটা ছোট্ট একটা জায়গা থেকে বিশাল পরিধি দখল করেছে। ইতিহাস বলে, পিকলবলের যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৫ সালে। সিয়াটলের কাছের বেইনব্রিজ দ্বীপে। এক সময়ের সাধারণ খেলা থেকে এটা এখন  আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তার তুঙ্গে চড়ে বসে আছে।   

এবার, ব্লগার হিসেবে ভাবুন। আপনার কন্টেন্ট, ব্লগিং এগুলোকেও পিকলবল হিসেবে ভাবুন।  ছোট  থেকে শুরু করুন, এমন ভাবে লেগে থাকুন যেন সফলতার তুঙ্গে ওঠা যায়। 

একটা পোস্ট দিয়ে শুরু করুন। লেগে থাকুন নিয়মিত। একটা সফল কন্টেন্টের দুনিয়া বানিয়ে ফেলতে পারবেন নিমিষেই!  আপনাকে শুধু লেগে থাকতে হবে। আপনাকে মনে রাখতে হবে, আপনার লেখা সাকসেসফুল ব্লগটা যে পেইজে লিখেছিলেন সেটা একসময় কিন্তু ফাঁকাই ছিলো। 

2. Rally Your Community:

ধরুণ, আপনি স্টেডিয়ামে বসে আছেন, আদতে আপনি খেলা-টেলা তেমন একটা দেখেন না। বন্ধুর আবদারে তাকে সঙ্গ দিতে পিকলবল দেখতে গেলেন। জমজমাট খেলা চলছে। দর্শকদের মনমত হচ্ছে প্রতিটা স্টেপ। স্টেডিয়াম হৈ-হুল্লোড়ে ভরপুর। আপনিও থেমে থাকতে পারলেন না। হৈহৈ করে উঠলেন, যেন একবারেই পিকলবল হয়ে উঠেছে আপনার সবচেয়ে প্রিয়। 

কন্টেন্ট রাইটিংও ঠিক এমনই। আপনি একজন কন্টেন্ট রাইটার, আপনি যদি রিডারদের মুখোমুখি না হতে পারেন, আপনাকে নিয়ে কেউ হৈহৈ করবে না। নিজের উপস্থিতি জানান দিতে আপনাকে যেতে হবে রিডারদের সামনে। খেলতে হবে তাদের মনের মত।  সোশ্যাল মিডিয়ায় একটিভ হোন, আলোচনা সমালোচনায় সাড়া দিন। এজন্য Q&A প্রোগ্রামও  করতে পারেন। 

মনে রাখবেন, মানুষ ভুলো মনা প্রাণী। আপনি যতদিন মানুষের সামনে নিজেকে তুলে ধরবেন, তারা ততদিন আপনাকে মনে গাঁথবে।  এমনভাবে তাদের সামনে নিজেকে মেলে ধরুন যেন আপনাকে ভোলা মুশকিল হয়ে পড়ে! এতে আপনার কমিউনিটি, কন্টাক্ট বাড়বে বৈ কমবে না। 

3. The Importance of ‘Dinking’

পিকলবলে Dink নামে একটা টার্ম আছে। এটা গেইমের Pace আর Flow কন্ট্রোল করার জন্য খুব হেল্পফুল একটা শট।  যেটা  অত্যন্ত সহজ, সাবলীল, নরম করে তোলে পুরো খেলার প্রক্রিয়াটা।  এজন্য পিকলবল খেলা সহজ, এতে জটিল শট নাই। যার কারণে মানুষজন খুব সহজেই পিকলবলের দিকে ঝোঁকে, খেলতে চায়। পারদর্শী হয়ে ওঠে, আনন্দ পায়।

ব্লগার হিসেবে আপনারও উচিত রিডারদের জন্য আরামদায়ক লেখা পাবলিশ করা। জটিল জটিল ইনফরমেশন সহজ করে উপস্থাপন করা। দশটা জটিল লেখার চেয়ে একটা সহজ লেখা আপনাকে নিয়ে যেতে পারে অনেক দূর। 

পোস্ট এমনভাবে লিখুন যেন আপনি পাঠকের সামনে বসে আছেন। সরাসরি কথা বলছেন।  যে ইনফরমেশন দেয়ার চেষ্টা করছেন, ভণিতা ছাড়াই পরিষ্কার করে বলুন।  যেন আপনার পাঠক সহজেই আপনাকে বন্ধু বানিয়ে ফেলতে পারে। 

Pickleball Paddle on Blue Background

4. Find Your Sweet Spot:

পিকলবলের একটা নিয়ম হচ্ছে, যদি বল Kitchen ( নেটের কাছে Non-volley zone)  এ বাউন্স না করে তাহলে প্লেয়াররা সেখানে দাঁড়াতে পারবেনা। 

ব্লগার হিসেবে আপনারও একটা জোন নির্দিষ্ট করে নেয়া উচিত।  আপনি কতদূর আগাবেন, কতদূর পেছোবেন, কতখানি লিখবেন, কতটুকু বাদ দেবেন— সবকিছুই ভেবেচিন্তে করতে হবে। অতি বাড় না বেড়েই পাঠকদের সাথে নির্দিষ্ট জায়গায় থেকে যোগাযোগ করুন। 

 আপনার কন্টেন্টে ব্যালেন্স মেইনটেইন করুন। পোস্টের এঙ্গেইজমেন্ট আপনা-আপনি বাড়বে যদি ঠিকঠাক মেইনটেইন করতে পারেন! 

5. Learning from the ‘Whiffs’ :

পাক্কা খেলোয়াড়, যারা পিকলবলে বিশেষজ্ঞ — তারাও মাঝে মাঝে পিছপা হয়। দু’চারটা শট হাত ফসকে যায়, যেটাকে ওরা “Whiffs” নামে ডাকে।  এমন অসফল শট সব খেলায়ই থাকবে দু’চারটা বা তারচেয়ে বেশিও। কিন্তু এরমানে এ-ই না যে, পুরো খেলায়ই গোল্লায় গেছে। 

এমন ফাঁকা শট দিয়েও শেখার আছে অনেক কিছু!  আপনার ব্লগিংয়েও এমন দু’চারটা পোস্ট থাকবে, যেগুলো সাকসেসফুল হবেনা। লোকজন পড়বেনা। জানবেও না। তার মানে এ-ই না যে আপনি খারাপ লেখেন। 

লিখতে থাকুন, দশটা পপুলার পোস্টের পেছনে পাঁচটা আনপপুলার পোস্ট থাকা মন্দ না। মন খারাপ না করে তা থেকে শিখুন। পরবর্তী পোস্টে কাজে লাগান, পোস্ট হিট হবেই!

6. Adapt :

Pickleball প্লেয়াররা অধিকাংশ সময়ই নতুন টেকনিক শেখা, পুরোনো টেকনিক ঝালাই করা, প্রতিপক্ষ কিভাবে খেলছে এসব আয়ত্ত করে। প্রত্যেকটা ব্যাপারই সময়ের সাথে পাল্টায়। ব্লগিং দুনিয়ায়ও পরিবর্তন আসে। SEO Strategies এ পরিবর্তন আসে। এগুলো আয়ত্তে রাখতে হবে যেভাবে Pickle ball প্লেয়াররা তাদের খেলার বেলায় করে। 

যুগের সাথে তাল মেলাতে চোখ কান খোলা রাখুন, প্রতিদিন শিখুন। প্রতিপক্ষের দিকেও খেয়াল রাখুন।  যেন ব্লগিংয়ে কোনো ভুল না হয়ে যায়!

7. Keep Your Eye on the Ball :

 Pickleball এ একটু অন্যমনস্ক হয়ে গেলেই হারার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। মূহুর্তে ঘটে যেতে পারে অনেক কিছু।  এজন্য Pickleball প্লেয়াররা যতবেশি পারা যায় ততবেশী মনযোগী থাকেন। 

ব্লগিংয়ে আপনাকেও একই ট্রিকস ফলো করতে হবে। পাঠকদের ভাও বুঝতে হবে। তারা কি চায়। ট্রেন্ড বুঝতে হবে। সব দিকে তীক্ষ্ণ মনযোগ ধরে রাখতে হবে। ব্লগের প্রতিটা শব্দে মনযোগ দিন। আকর্ষণীয় করে তুলুন আপনার লেখা প্রতিটা লাইন!

8. Serve Strong and Serve Smart :

আমরা যখন খেলা দেখি, খেলার শুরুটা নিয়ে অনেক এক্সাইটেড থাকি। শুরুতেই ছক্কা পেটানো গেলে দর্শকরা আশা নিয়ে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে প্রস্তুত থাকে। কিন্তু শুরুতেই যদি ফাঁকা বল বেরোয়, ওখানেই সমস্ত এক্সাইটমেন্ট শেষ হয়ে যায়।  

ব্লগিংয়ের বেলায়ও তাই। পাঠক শুরুতেই আপনার ইন্ট্রোডাকশন পড়বে। আপনার ইন্ট্রোতে সে আকর্ষিত হলো কি-না, এই ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। লেখার শুরুতেই যদি জগাখিচুরি পাকিয়ে ফেলেন, পাঠক আর দু’লাইনও স্ক্রল করবেনা। 

9. Utilize Strategic Positioning :

একজন well-positioned player সবসময় বুঝতে পারে, কীভাবে তার খেলা উচিত। এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে সে যেন দেখতে পায় প্রতিপক্ষ কী চায়, তাদের সম্পূর্ণ মতিগতিটা কি। 

আপনাকে আপনার নিশ সিলেকশন সম্পর্কে অতটাই সতর্ক হতে হবে, যতটা একজন প্লেয়ার তার স্পট খোঁজার সময়ে হয়। আপনার নিশ সম্পর্কে জানতে হবে। অডিয়েন্স সম্পর্কে জানতে হবে, আপনি আসলে কাদের জন্য লিখছেন! তারা কী চায়? 

আপনার জায়গায় ভালো করতে হলে অডিয়েন্সের চাহিদার মূলে গিয়ে আপনাকে লিখতে হবে। 

10. Embrace the Fun :

Pickleball খেলাটা জনপ্রিয় বেশ। খেলার মধ্যে হার-জিত আছে, তা-ও যারা খেলে আনন্দের জন্যই খেলে। ব্লগিংয়েও তাই। হার-জিত থাকবে। কিন্তু আপনাকে আপনার পছন্দের বিষয় নিয়ে লিখতে হবে। ব্লগিংটা মজাদার বানিয়ে ফেলতে হবে, যেন একটা বল নিয়ে খেলছেন আপনি।  

আপনি যদি আপনার লেখার টপিক নিয়ে প্যাশনেট হোন, আপনার লেখার মধ্যেই সেটা ফুটে উঠবে। এতো পাঠক আকর্ষিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। এছাড়াও, আপনার আনন্দদায়ক কিছু নিয়ে লিখলে আপনার ব্লগটাই যেন হয়ে উঠবেন আপনি, ব্লগে দেখা যাবে যেন আপনারই প্রতিচ্ছবি! 

Conclusion:

আমরা অনেকেই এই প্রথমবার পিকলবল নিয়ে জানলাম। এ-ও জানলাম যে, এটা ব্লগিংয়ে এমন হেল্পফুল হতে পারে!

আশা করা যায়, পরের বার লেখার সময়ই আপনি পিকলবল খেলোয়াড়ের মত চিন্তাভাবনা করে লিখবেন। আর্টিকেলের টিপস অ্যান্ড ট্রিকস গুলো আপনার জন্য বেশ কার্যকরী হবে। 

তাহলে আর দেরী না করে কী-বোর্ডকে বল ভেবে হয়ে উঠুন একজন খেলোয়াড়।  খেলুন শব্দের সাথে, নিশের সাথে, অডিয়েন্সকে টার্গেট করে। হতে পারে, পরের ব্লগেই হয়ত একটা ট্রফি জিততে গেলেন! 

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *