১৫টা জিনিস যা ওয়েবসাইট বানানোর আগে সবার জানা উচিত!

অনেকেই ভেবে বসেন, একটা ওয়েবসাইট বানিয়ে ব্লগ লিখে খুব সহজে এবং কম সময়েই ইনকাম করা যায়। আপনি যদি এরকম ভেবে থাকেন তাহলে বলব আপনি বোকার রাজ্যে বসবাস করছেন।

কারণ, একটা ওয়েবসাইট বানিয়ে ব্লগ লিখে টাকা ইনকাম করার প্রসেসটা একটা লম্বা সময়ের ব্যাপার। 

আজকে গাছ লাগালে কালকেই যেমন সেই গাছ আপনাকে ফল দেবে না তেমনি আজকে ওয়েবসাইট বানিয়ে দুইদিন পরই সেটা দিয়ে টাকা ইনকাম করতে পারবেন না৷

মোটকথা, এই প্রসেসটা আপনি কিছুতেই শর্টকাটে করতে পারবেন না। যদি করতে যান হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। অনেকে এই প্রসেসটা শর্টকাটে করতে গিয়ে back link কিনে, PBN কিনে যা সম্পূর্ণই গুগল পলিসির বাইরের কাজ। এসব করে শর্টকাট করলেও একসময় গুগল তা ধরে ফেলে এবং সাইটটিকে পেনাল্টি দিয়ে দেয়। তখন দেখা যায়, বেচারা শর্টকাট করতে গিয়ে সব হারিয়ে যেখান থেকে শুরু করেছিলো ঠিক সেখানেই ফেরত যায়।

এই কনটেন্ট ওয়েবসাইট গুলো দিয়ে যদি আপনি একটি লং টার্মের সাস্টিনেবল বিজনেস করতে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে লং টার্মের চিন্তা করেই আগাতে হবে।

এখন এই লং টার্ম বলতে কতটুকু লং-টার্ম হতে পারে এটা একটা ব্যাপার।

এক্সপেরিয়েন্স বলে, একটা ওয়েবসাইট বানিয়ে সেটা থেকে মোটামুটি একটা স্টেবল ইনকাম আসতে এক থেকে দেড় বছর লেগে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর থেকে বেশি সময়ও লাগতে পারে। আবার কিছুক্ষেত্রে এর থেকে কম সময়ও লাগতে পারে। ফার্স্ট ডলার ইনকাম হতে হতে মোটামুটি ছয় সাত মাস লেগে যায়। সো, এই জিনিসগুলো চিন্তাভাবনা করেই আপনাকে আগাতে হবে।

Need 100% Unique, SEO Optimized & only The BEST Content? Enjoy 20% OFF On order over 20,000 words!

কিন্তু, একটা ওয়েবসাইট বানানোর আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা অবশ্যই জরুরি। এখানে পনেরোটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যেগুলো মাথায় রেখে আগালে আপনিও হতে পারেন সফলদের মধ্যে একজন!

1. Diversify:

আপনি কোনো নির্দিষ্ট একটাই বন্ধুর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার পর যদি সেই বন্ধুটি আপনাকে ছেড়ে যায় তাহলে আপনি কিন্তু একদম নিঃস্ব হয়ে যাবেন। অথচ, আপনার যদি আরো দশটা এমন কাছের বন্ধু থাকে তাহলে একজনকে হারানোর পরেও আপনি অন্য বন্ধুদের হাত ধরে শক্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবেন।

ডাইভার্সিফাই বিষয়টিও ঠিক এমনই।

যেমন, অনেক ওয়েবসাইট আছে যাদের ৯৯%,৯৮% traffic আসে শুধুমাত্র গুগল থেকেই। যে কারণে গুগল কখনো ওই সাইটকে পেনাল্টি দিলে একদম অবস্থা বেগতিক হয়ে যায়।

এ কারণে খেয়াল রাখা উচিত যেন শুধুমাত্র একটা সোর্স থেকেই traffic না আসে। traffic সোর্সগুলা যাতে আরও কয়েক জায়গায় বিস্তার করা যায়।

এটা কিভাবে হতে পারে?

Become a Professional Content Writer Today! Apply Coupon 40OFF to get 40% discount. Enroll Here!

ধরুন, ওয়েবসাইট বানানোর সাথে সাথে একটা ইউটিউব একাউন্ট খুললেন, সেখানে একটা ভিডিয়ো আপলোড করলেন। তখন গুগলের সাথে সাথে ইউটিউব ভিডিয়ো থেকেও traffic আসবে। এরপর আপনি চাইলে একটা Pinterest একাউন্ট করতে পারেন, এটা থেকেও ভালো traffic আসতে পারে। এরকম আদার সোর্সেস অব ট্রাফিক ক্রিয়েট করতে হবে।

মোটকথা, কোনোভাবেই কেবলমাত্র একটা সোর্সের ওপরই নির্ভরশীল হওয়া উচিত না।

2. Monetization:

মনিটাইজেশনের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার। এ বেলায়ও আপনাকে ডাইভার্সিফাই করতে হবে।

মনিটাইজেশন বলতে বোঝায়— ইনকাম করার রাস্তা। ম্যাক্সিমাম মানুষ আগে যেটা করতেন, শুধু অ্যামাজন এফিলিয়েট করতেন, তাদের ওয়েবসাইটের ফুল ইনকাম আসতো অ্যামাজন থেকে।

এরপর যখন এপ্রিল মাসে অ্যামাজন কমিশন ড্রপ করলো তখন কিন্তু তাদের ইনকাম সাথে সাথে অর্ধেকের চেয়েও কমে গেলো।

এটা হওয়ার কারণ তাদের diversify করা হয়নি। সবকিছু যাস্ট একটা সোর্স থেকেই আসতো।

ইনকামের ক্ষেত্রেও আপনাকে diversify করতে হবে। এজন্য অ্যমাাজনের সাথে সাথে আপনি অন্য কিছু ট্রাই করতে পারেন। অন্যান্য এফিলিয়েট নেটওয়ার্ক ও ট্রাই করতে পারেন।

চেষ্টা করবেন, যা সম্ভব তা-ই ট্রাই করে আপনার ইনকামসোর্স এবং এফিলিয়েট সোর্সটাকে ছড়াতে। এতে কী হবে, যদি কোনো একটা সোর্স ব্রেক করে দেয়, কোনো একটা সোর্সের সাথে আপনার বনিবনা না হয়, সেক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইটটা একদম ড্রপ করবে না। অন্যান্য সোর্সগুলো আপনার ওয়েবসাইট টিকে ধরে রাখবে।

3. Wrong keyword research:

২০১৬-১৭ এর দিকে ইউটিউবে যত ভিডিয়ো দেখতে পেতাম তখন প্রায় সবগুলো চ্যানেল একটা বিষয়ই দেখাতো— KD (keyword difficulty) , search volume,  এটলিস্ট এত search volume থাকা লাগবে ইত্যাদি ইত্যাদি। আসলে এই পুরো ব্যাপারটাই ভুয়া। কারণ, কোনো Tool এটা জানে না একটা keyword  phrase এর জন্য আপনি কত traffic পাবেন।

সুতরাং, এই search volume ধরে আগানোর বা keyword difficulty ধরে আগানোটা মোটেই ফলদায়ক না।

Keyword difficulty মেট্রিকটা একেক টুলে একেক নামে দেওয়া। এটি মূলত difficulty মেজর একটা মেট্রিক। যা কোনো কাজেরই না।

KD বা difficulty major করার মেট্রিকগুলা যেভাবে কাজ করে সেভাবে একচুয়ালি রিয়েল লাইফে কম্পিটিশন চেক হয়না। তারা যাস্ট ডোমেইন অথরিটি দেখে, ব্যাকলিংক স্ট্রেন্থ দেখে।

কিন্তু একচুয়ালি যে বিষয়টা আপনার নজরে রাখা উচিত, আপনি যেই keyword phrase এর জন্য Rank করার ট্রাই করছেন ওই keyword phrase লিখে গুগলে সার্চ করলে যে রেজাল্ট আসবে সেখানে প্রথম দশজনের মধ্যে কতজন ওই keyword phrase টার্গেট করেছে। এরপরে যারা এটা টার্গেট করছে তাদের ওয়েবসাইটের আর্টিকেলের কোয়ালিটির দিকে নজর দিতে হবে।

কিন্তু, দশজনের মধ্যে যদি শুধু একজনই ওই phrase টা টার্গেট করে তাহলে বাকী নয়জনের ওয়েবসাইট দেখার দরকার নেই। কারণ তারা ওই keyword phrase টার্গেট ই করেনি।

আপনার তাহলে কম্পিটিটরই একজন। আপনি শুধু দেখবেন তাকে টপকাতে পারেন কি-না। 

তাই ট্রেডিশনাল কীওয়ার্ড সেন্সে যে search volume, KD ইত্যাদি মেজর করা হয় এগুলা করার কোনো দরকার নেই। এই জিনিসটা যদি আপনি খেয়াল রাখেন তাহলে অনেক ঝঞ্জাট থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারবেন।

4. Worrying about backlink:

ওয়েবসাইট বানানো থেকে শুরু করে আর্টিকেল লেখা, পাবলিশ করা ইত্যাদি প্রত্যেকটা জিনিস কিন্তু আপনার কন্ট্রোলে থাকে, প্রত্যেকটা জিনিস আপনি নিজেই করতে পারবেন। কিন্তু ব্যাকলিংকটা আপনার কন্ট্রোলে নেই। আপনি হাইয়েস্ট আরেকজনের কাছে ভিক্ষা চাইতে পারেন ব্যাকলিংকের জন্য। কিন্তু সে ব্যাকলিংক দিবে কি দিবে না এটা সম্পূর্ণই তার ব্যাপার। আসলে ব্যাকলিংক নিয়ে চিন্তাভাবনা করার কোনো দরকারই নেই, জাস্ট ফোকাস অন গুড কনটেন্ট।

এজন্য বিষয়টা এমন না যে ব্যাকলিংক গুরুত্বপূর্ণ না, ব্যাকলিংক অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কেবল একটা ওয়েবসাইটের শুরুতেই ব্যাকলিংক কিভাবে বানাবেন এটা নিয়ে চিন্তা করে প্রেশার হাই করার প্রয়োজন নেই। আপনাকে শুধু চিন্তা করতে হবে যে, একটা ভালো কনটেন্ট কিভাবে প্রডিউস করতে পারেন। ভালো কনটেন্ট যখন আপনার ওয়েবসাইটে থাকবে তখন ব্যাকলিংক নিয়ে চিন্তাই করতে হবে না।

5. Domain name selection:

২০১৮ সালে একটি ওয়েবসাইট শুরু করি যেটার নাম দেই turtlehub.com। তখন ভেবেছিলাম আমি শুধু turtle নিয়েই লিখব। কিন্তু কিছুদিন পরে দেখা যায় turtle নিয়ে সব ধরণের কনটেন্ট লেখা শেষ! এরপর যখন আমি আরো স্কিলআপ করতে চাই তখন এই ডোমেইন নেমের কারণে অন্য কাজ ঢুকাতে পারছিলাম না। কারণ, এই ডোমেইন নেমটা ওয়েবসাইটটিকে নির্দিষ্ট গণ্ডিতে রেস্ট্রিকটেড করে ফেলেছিলো।

কিন্তু আমি যদি অন্য রকম একটা নাম দিতাম যেমন, reptilehub.com তখন কিন্তু আমি সরীসৃপ জাতীয় অনেক পেট নিয়ে আমি কথা বলতে পারতাম।

ধরুন, আপনি বেটা ফিস নিয়ে কথা বলতে চান (এক ধরনের অ্যাকুরিয়াম ফিস) সেক্ষেত্রে my beta fish টাইপ নাম না নিয়ে এরকম নাম দিতে পারেন— the aquarium expert.com ।

এতে করে কি হবে, বেটা ফিস নিয়ে কথা বলতে তো পারবেনই, তার সাথে আপনি চাইলে অসংখ্য একুরিয়াম ফিস নিয়ে কথা বলতে পারবেন। ফলাফল, আপনার বিজনেস টা স্কিলআপ করার অনেক সুযোগ থাকলো।

6. Time vs money:

একটা ওয়েবসাইট দাঁড় করাতে আপনাকে দু’টো জিনিসের মধ্যে যেকোনো একটা ইনভেস্ট করতেই হবে— সময় অথবা টাকা।

আপনি যখন ব্লগিং শুরু করবেন, এই ব্লগিং সাইটগুলোর প্রধান যে সম্পদ সেটা হলো, কনটেন্ট। আপনাকে কনটেন্ট প্রডিউস করতেই হবে। কনটেন্ট প্রডিউস করার জন্য দুইটা রাস্তা আপনি খোলা পাবেন, এক— নিজে লেখা, দুই— রাইটার হায়ার করা।

বুঝতেই পারছেন, যদি নিজে লেখেন তাহলে সময় ইনভেস্ট করতে হবে বদলে টাকা বেঁচে যাবে। আবার যদি রাইটার হায়ার করেন তাহলে আপনার সময় আপনারই থাকবে কেবল একটু পয়সা ইনভেস্ট করতে হবে।

কিন্তু, যদি আপনি এই দুইটার কোনোটাই ইনভেস্ট করার ইচ্ছে না থাকে তাহলে সরি টু সে, ব্লগিং ইজ নট ফর ইউ।

7. Trusting all YouTuber’s:

এমন একজন ইউটিউবারের কথা বলছি, যার ভিডিও দেখলে মনে হত সে সম্পূর্ণ সলিড ইনফরমেশন ই দিচ্ছে, সঠিক গাইডলাইনই দিচ্ছে। তার একটা কোর্স ছিল সতেরো ডলারের। যেটা করলে হাজার হাজার ডলার ইনকাম করা পসিবল। সতেরো ডলার খরচ করে দেখা গেলো যে পুরো সতেরো ডলারই লস!

সত্যি কথা বলতে, অধিকাংশ ইউটিউবারই এমনটা করে থাকেন৷ নিজের কোর্স বা প্রডাক্ট সেল করার জন্য তাদের সুবিধা অনুযায়ী ভিডিয়ো দেয়, তাদের সুবিধা অনুযায়ী ইনফরমেশন অ্যাড করে।

আপনাকে বুঝতে হবে কোন ইউটিউবার আসলেই সঠিক গাইডলাইন দিচ্ছে আর কে নিজের প্রডাক্ট বা কোর্স সেল করার জন্য ভিডিয়ো দিচ্ছে। হ্যাঁ, অবশ্যই একজন ইউটিউবার তার ভিডিয়োতে নিজস্ব কোর্স বা প্রডাক্ট প্রোমট করবে কিন্তু পুরো কার্যক্রমটাই যদি সেল করার উদ্দেশ্যে হয় তাহলে সেই ইউটিউবারকে ট্রাস্ট করা আপনার পক্ষে বিপজ্জনক।

8. Start with sell in mind:

ওয়েবসাইট বানানোর সময় এটা মাথায় রেখে শুরু করবেন যে, আপনি এই ওয়েবসাইটটা একসময় বিক্রি করে দেবেন। এই বিষয়টা মাথায় গেঁথে নিলে দেখা যাবে আপনি ওয়েবসাইটটা এমন ভাবে অর্গানাইজড করবেন যাতে সবকিছু গোছানো থাকবে, আপনার keywords, খরচের হিসাব, ইনভেস্টমেন্ট, আর্নিং ইত্যাদি ইনফরমেশন নিজের অজান্তেই গুছিয়ে রাখবেন।

এই মাইন্ডসেটের কারণে আপনার ব্লগিং জার্নিটাও গোছানো হবে, এলোমেলো হবে না।

9. Shiny object syndrome:

আমরা অনেকেই নিত্য নতুন শখ বদলাতে চাই, বদলাতে চাই নিজের পেশাও। এজন্য একটা কিছু শুরু করে এটাতে পর্যাপ্ত সময় না দিয়েই অন্য একটা কাজ শুরু করে ফেলি— এটাকেই শাইনি অবজেক্ট সিনড্রোম বলে। 

যেমন আজকে মনে হলো, আমি একটা ওয়েবসাইট বানাবো, ব্লগিং করব, ডোমেইন নেমও সিলেক্ট করলাম। সবকিছু করার পর দুইদিন বাদে মনে হলো যে না, এটা আমি আর করব না, আমার ভালো লাগছে না, অন্য কিছু একটা করব।

এরকম করা যাবে না। ওয়েবসাইট থেকে টাকা ইনকাম করার রাস্তাটা যেহেতু একটু বড়, সেহেতু আপনাকে এই বড় রাস্তাটা পাড়ি দেওয়ার চিন্তা করেই এগুতে হবে। মাঝরাস্তায় রুট বদলাতে চাইলে গন্তব্যে পৌঁছানোটা কিন্তু বেশ মুশকিলই বটে!

10. Quality and Quantity:

ব্লগিং দুনিয়ায় দুইটা পয়েন্ট খুবই প্রচলিত। 

  • এক, বেশি লেখার প্রয়োজন নেই। কোয়ালিটি ঠিক থাকলে দুইটা তিনটা আর্টিকেল ই যথেষ্ট।
  • দুই আর্টিকেলের কোয়ালিটি যাই হোক কোয়ান্টিটিই গুরুত্বপূর্ণ।

একচুয়ালি সবচে ভালো হয় দু’টোকেই সমানভাবে প্রাধান্য দিলে।

এক্ষেত্রে অনেক ব্লগ লেখার জন্য রাইটার হায়ার করতে পারেন, আবার কোয়ালিটি চেক করার জন্য এডিটর। তাহলে কোয়ান্টিটি, কোয়ালিটি দুটাই বজায় থাকলো।

11. Internal link:

এটা SEO এর অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার। এটা করে যে বেনিফিট পাওয়া যাবে সেটা হিউজ একটা বেনিফিট।

SEO এর অনেক জিনিস আপনার কন্ট্রোলে না থাকলেও ইন্টারনাল লিংকটা আপনার কন্ট্রোলেই আছে এবং ১০০% ইউটিলাইজ করতে পারবেন।

সো, আপনার ওয়েবসাইটের যেসব আর্টিকেলের সাথে অন্য আর্টিকেলের ইন্টারনাল লিংক করা যায় সেগুলো করবেন। এমনভাবে করবেন যাতে মানুষজন ওই ইন্টারনাল লিংকে ক্লিক করে আপনার অন্যান্য আর্টিকেলও পড়ে ফেলে। এতে ইউজার এক্সপেরিয়েন্স যেমন ভালো হবে সাথে সাথে আপনার আর্নিংও বেড়ে যাবে।

আর গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে ইউজার যখন কোনো ওয়েবসাইটে বেশিক্ষণ ধরে থাকে তখন গুগল এটাকে পজিটিভ সাইন হিসেবে নিয়ে ওই ওয়েবসাইটকে আরো বেটার র‌্যাঙ্ক দেয়।

12. Email list:

আপনি জানেন না গুগল আপনাকে কতদিন ট্রাফিক সেন্ড করবে। এমন হতেই পারে, হঠাৎ গুগল আপনাকে পেনাল্টি দিয়ে বসলো। আপনার ওয়েবসাইটের ট্রাফিক একদম নাই হয়ে গেলো।

আপনার কিছুই করার নাই। কারণ, ট্রাফিক যে সোর্স থেকে আসে ওই সোর্সের কন্ট্রোলেই থাকে। গুগল থেকে আসা ট্রাফিক গুগলের কন্ট্রোলে, ইউটিউব থেকে আসা ট্রাফিক ইউটিউবের কন্ট্রোলে ইত্যাদি। 

এক্ষেত্রে একটা ইমেইল লিস্ট আপনাকে অনেক হেল্প করতে পারে।

একটা ইমেইল লিস্টে যাদের যাদের ইমেইল থাকবে তারা আপনার ১০০% কন্ট্রোলে থাকবে। আপনি না চাইলে এই ট্রাফিক সোর্স কেউ বন্ধ করতে পারবে না।

ইমেইল লিস্ট কালেক্ট করলে আর্নিং ও বাড়বে, আপনার প্রডাক্টের প্রোমট করতে পারবেন, স্পন্সর ইমেইলের মাধ্যমে আর্নিং করতে পারবেন। এছাড়াও চাইলে অনেক কিছু করা সম্ভব!

13. Proper about page:

একটা প্রোপার অ্যাবাউট পেজ লেখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে অ্যাবাউটের ব্যাপারটা এড়িয়ে যান, দেখা যায় অনেকের অ্যাবাউট কেবল তিন চার লাইনের মধ্যে সেড়ে ফেলেন। অনেকে আবার রিয়েল পার্সোনা ইউজ না করে ফেক পার্সোনা ইউজ করেন।

ফেক পার্সোনা ইউজ করলে অনেক সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। যেমন,

আপনার সাইটের EAT (Expertise, Authoritativeness, Trustworthiness) কম থাকবে। এই বিষয়টা গুগল অনেক গুরুত্ব সহকারে দেখে।

ভবিষ্যতে যখন কোনো বড় ব্র্যান্ড আপনার সাথে কোলাবরেট করতে চাইবে, হতে পারে সেটা একটা স্পন্সর পোস্ট, একটা গেস্ট পোস্ট যা-ই হোক না কেন, তারা কিন্তু শুরুতেই আপনার অ্যাবাউট আস পেজটা দেখবে। আপনি ফেক কি-না, আপনি কে, আপনার এক্সপেরিয়েন্স কি, আপনি কেন ওয়েবসাইটটা শুরু করছেন এসব দেখবে।

যদি আপনি কোথাও থেকে ব্যাকলিংক নিতে চান সেক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটবে। যারা আপনাকে ব্যাকলিংক দেবে তারা অবশ্যই আপনার সম্পর্কে প্রোপার ইনফরমেশন জানতে চাইবে।

এজন্য ওয়েবসাইট বানিয়ে আপনার সম্পর্কে একটা প্রোপার অ্যাবাউট পেজ ক্রিয়েট করতে অবশ্যই ভুলে যাবেন না।

14. Worrying too much about speed:

একটা সাইট কন্টিনউ করতে গেলে আমরা অনেকেই স্পীড নিয়ে বোরিং হয়ে যাই, চিন্তা করি প্রচন্ড। কিন্তু আসলে এটা অযথাই করে থাকি আমরা। স্পীড নিয়ে এতো ভাবার কিছু নেই আসলে। স্পীড Important তবে Google page speed অনুযায়ী ১০০/১০০ থাকতে হবে ব্যাপারটা এমনও নয়। ৬০-৭০ থাকলেই enough! ৬০-৭০ হওয়া মানে আপনি খুব ভালো অবস্থানেই আছেন অন্যান্য ওয়েবসাইটের থেকে। এরপর আর এটা নিয়ে ভাবার কিছু নেই।

জাস্ট একটা ভালো থিম ইউজ করবেন, কম প্লাগইন ইউজ করবেন, যে ছবিগুলো আপনি ইউজ করবেন সেগুলো প্রোপারলি অপটিমাইজ করবেন। দেখবেন স্পীড এমনিই ঠিকঠাক চলছে।

15. Start with monetization in mind:

শেষমেশ আবারও মনিটাইজেশন নিয়ে আলাপ করছি চলুন। একটা ওয়েবসাইট যখন earning stage এ আসে তখন আসলে একটা জিনিশ ভালো করে মাথায় রাখতে হয় সেটা হলো মনিটাইজেশন।

আপনি চাইলেই খুব সহজেই একটা ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করতে পারবেন না। শুরু করার ৯-১০ মাস পর আপনি ইনকাম করতে পারবেন। এবং তারপর যে প্ল্যানটা মাথায় রেখে আপনি ইনকাম করবেন এটা শুরু থেকেই মাইন্ডসেট করে নিতে হবে। তাহলে আপনি যখন ওয়েবসাইটা ডেভলপ করবেন, আপনার শুরুর প্ল্যান অনুযায়ী আপনার কাজটা আগাতে পারবেন।

ধরা যাক, আমি আগামীকাল একটা ‘ফটোগ্রাফি’ বিষয়ট ওয়েবসাইট খুলবো। কি কি বিষয় নিয়ে আমি কাজ করবো সেটার যদি একটা আইডিয়া আগে থেকেই তৈরি করে ফেলি তাহলে আমার জন্য অবশ্যই ওয়েবসাইটটা ডেভলপ করা ইজি হবে।

 আমি কি কি করতে পারি সেটার একটা লিস্ট আজকেই রেডি করে রাখতে পারি। যেমন,

  • ফটোগ্রাফি বিষয়ক এড দিতে পারি
  • এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারি
  • ফটোগ্রাফি বিষয়ক কোর্স বানিয়ে সেল করতে পারি
  • পেইড মেম্বারশিপ করতে পারি ।
  • ইউটিউব চ্যানেল ক্রিয়েট করে ফটোগ্রাফি বিষয়ক ভিডিয়ো দিতে পারি। তারপর চ্যানেলটা যদি মনিটাইজেবল হয় তাহলে সেটা মনিটাইজ করে এড দিতে পারি।

এভাবে যদি পুরো কার্যক্রমটা আগেই সাজানো থাকে তাহলে আপনার বসে বসে চিন্তা করতে হবে না। একটার পর একটা প্ল্যান অনুযায়ী কাজ করে যেতে পারবেন নিশ্চিন্তে।

এই ছিলো ওয়েবসাইট বানানোর আগে মনে রাখার মত ১৫টি বিষয়। আপনার ওয়েবসাইট আপনার একটা ইনকামসোর্স। এটা সুন্দর ভাবে মেইনটেইন করার জন্য এসব দিকনির্দেশনা মেনে চলতে পারলে আপনাকে আর আঁটকায় কে!