কেন আমি আমাজন নিশ সাইট বানাই না?

কেন আমি আমাজন নিশ সাইট বানাই না?

আমরা বেশিরভাগই যখন কোনো সাইট বানাতে শুরু করি, আমাদের প্ল্যান থাকে একটা ‘আমাজন নিশ সাইট’ বানানোর। এই প্ল্যানের কিছু সমস্যা আছে, সমস্যা গুলো হলো-

  • আপনার টার্গেট যখন থাকে একটা ‘আমাজন নিশ সাইট’ বানানো, তখন সাইটটাকে আপনি একটা স্পেসিফিক ছাঁচে বানান, একটার পর একটা রিভিউ কন্টেন্ট দেন, বায়িং গাইড দেন। এতে যেই সমস্যাটা হয় তা হলো, আপনার সাইটের অনেক পটেনশিয়াল হারিয়ে যায়।
  • একটা সাইটে যখন ট্রাফিক আসে, সেই ট্রাফিককে অসংখ্য উপায়ে মনেটাইজ (ট্রাফিক থেকে টাকা আর্ন) করা যায়। কিন্তু আপনি যখন শুধু আমাজন নিশ সাইট বানান, তখন সেটা থেকে টাকা আর্ন করার খুব বেশি উপায় থাকেনা। দেখা যায় আমাজন এফিলিয়েটই আপনার টাকা আর্ন এর প্রধান সোর্স হয়। এতে একটা রিস্ক আছে। যদি কোনো কারণে আমাজন আপনাকে তাদের এফিলিয়েট প্রোগ্রাম থেকে ব্যান করে দেয়, আপনার সমস্ত ইনভেস্টমেন্ট মাঠে মারা যাবে।
  • শুধু একটা আমাজন এফিলিয়েট সাইট বানালে সেটাকে একটা ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা অনেক কঠিন হয়ে যায়। আপনি যদি আপনার সাইটটাকে একটা ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারেন, তাহলে সেটার পটেনশিয়াল অনেক গুণ বেড়ে যায়। বর্তমানে সব কিছু ব্র্যান্ডের দিকে সরে আসছে। মানুষ এখন ব্র্যান্ড খুজে সব কিছুতে। এছাড়াও, আপনার সাইট যখন একটা ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে, তখন সেটা থেকে ইনকাম করার পটেনশিয়াল অনেক অনেক গুণ বেড়ে যাবে।

তাই আমি যখন একটা সাইট বানাই, আমার আসল লক্ষ্য থাকেনা সেটা থেকে আমাজন এফিলিয়েট করে আর্ন করার। আমার টার্গেট থাকে সাইটটাকে একটা ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার, কারণ তখনই আমি প্রচুর ট্রাফিক পাবো। মানুষজন আমার সাইট থেকে হেল্প পাবে। এরপর আমি ওই ট্রাফিককে নানান পদ্ধতিতে মনেটাইজ করতে পারবো, যার একটি হলো আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং।

কিভাবে একটি সাইটকে ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়?

  1. প্রথমে লক্ষ্য রাখতে হবে আপনি আপনার সাইট দিয়ে কতটুক হেল্প করতে পারছেন ভিজিটরদের সেটা। আপনি যখন জেনুইনলি আপনার ভিজিটরদের হেল্প করবেন, তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের অনেস্ট আন্সার করবেন আপনার কন্টেন্টের মাধ্যমে, তখন ভিজিটররা আপনার সাইটকে পছন্দ করা শুরু করবে, তারা বারবার আসবে আপনার সাইটে। তাই কোনো লাভের কথা মাথায় না রেখে ভিজিটরদের জেনুইনলি হেল্প করা হলো একটা সাইটকে ব্র্যান্ড হিসেবে বানানোর প্রথম শর্ত।
  2. সাইটে একটার পর একটা শুধু রিভিউ কন্টেন্ট, বায়ার কন্টেন্ট দিলে হবেনা। একটা ব্র্যান্ড সাইটের বৈশিষ্ট্য হলো সেটা ভিজিটরদের হেল্প করার কথা চিন্তা করে আগে, টাকা আর্ন করার চিন্তা পরে। আর ভিজিটরদের হেল্প করার বেস্ট উপায় হলো সাইটে বেশি করে ইনফর্মেটিভ কন্টেন্ট দেওয়া, ভিজিটরদের নানান প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আপনার কন্টেন্ট এর মাধ্যমে। আমার সাইটে প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ কন্টেন্টই থাকে ইনফর্মেটিভ।
  3. আপনার সাইটের ডোমেইন নেম একটু ভালো করে চিন্তা করে সিলেক্ট করতে হবে। প্রোডাক্ট অরিয়েন্টেড ডোমেইন নেম নেওয়া যাবেনা একেবারেই। যেমন: আপনারা হয়তো জেনে থাকবেন আমার একটা সাইট আছে টার্টেলের উপরে। টার্টেল ইন্ডাস্ট্রিতে একটা দামী প্রোডাক্ট হলো টার্টেলের ফিল্টার। তো আমার সাইটের ডোমেইন যদি এমন হতো bestturtlefilter.com তাহলে সেটা প্রোডাক্ট অরিয়েন্টেড হতো। আমি সেটাকে ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারতাম না। তাই আমি একটা ব্র্যান্ডেবল ডোমেইন নেম নিয়েছি যেটা দিয়ে কোনো প্রোডক্ট বোঝায় না। আমার ডোমেইন নেম হলো theturtlehub.com

একটা ব্র্যান্ডেড সাইট থেকে কি কি উপায়ে আর্নিং করা যায়?

[sociallocker]

আমি এখানে কয়েকটা পদ্ধতির কথা বলছি, যেগুলা ফলো করে আপনি আপনার ব্র্যান্ডেড সাইট থেকে আর্ন করতে পারবেন। বলে রাখা ভালো, সবগুলা পদ্ধতি যে আপনার সাইটের জন্য কাজ করবে এমন না। একেক পদ্ধতি একেক ধরনের সাইটের জন্য প্রেফারেবল। কিছু কিছু পদ্ধতি অথরিটি সাইটে ভালো কাজ করবে, আবার কতগুলা প্যাসিভ নিশ সাইটে।

চলুন দেখা যাক কি কি উপায়ে একটা ব্র্যান্ডেড সাইট থেকে আর্ন করা যায়ঃ

১। এড দিয়েঃ

আমরা প্রায় সবাই এড বলতে শুধু গুগুলের এডসেন্সকে বুঝি। এডসেন্স কখনোই আর্নিং এর জন্য খুব ভালো একটা সোর্স না। তাদের পেমেন্ট খুব নগন্য। এডসেন্স ছাড়াও আরো অনেক প্রিমিয়াম এড প্লাটফর্ম আছে যেমন Adthrive, Ezoic etc. এদের পেমেন্ট খুব ভালো। তবে আপনার ওয়েবসাইটে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ মান্থলি ট্রাফিক থাকলেই তাদের প্রোগ্রামে জয়েন করতে পারবেন। Ezoic এর জন্য সেটা ১০,০০০ মান্থলি পেজ ভিউ, Adthrive এর জন্য প্রায় ১০০,০০০। এড প্যাসিভ ইনকামের জন্য অন্যতম অসাধারণ একটা সোর্স।

২। এফিলিয়েট মার্কেটিংঃ

এটা নিয়ে তেমন কিছু বলার নাই। আমরা প্রায় সবাই বুঝি এফিলিয়েট মার্কেটিং কি। আপনার সাইটে অন্যার প্রডাক্ট রিকমেন্ড করবেন, কেউ সেটা কিনলে আপনি কমিশন পাবেন। তবে আমরা অনেকেই এফিলিয়েট মার্কেটিং বলতে শুধু আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিংই বুঝি। আমি জানি আমাজন এর এফিলিয়েট প্রোগ্রাম অনেক বেশি বিগিনার ফ্রেন্ডলি। তবে আমাজন ছাড়াও আরো অনেক অনেক এফিলিয়েট প্রোগ্রাম আছে। আপনাকে শুধু রিসার্চ করে দেখতে হবে আপনার নিশে কে কে এফিলিয়েট প্রোগ্রাম অফার করছে।

৩। স্পন্সরড পোস্ট (Sponsored Post)

এই পদ্ধতিটা অনেকটা গেস্ট পোস্টিং এর মতো। তবে এক্ষেত্রে অন্য কোম্পানি আপনার সাইটে গেস্ট পোস্ট করতে চাইবে, বিনিময়ে আপনাকে বেশ ভালো অঙ্কের একটা টাকা দিবে। এই পদ্ধতিতে আর্নিং এর জন্য অবশ্যই আপনার সাইটের একটা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মান্থলি ট্রাফিক থাকা লাগবে। স্পন্সরড পোস্টের জন্য আপনার দৌড়াদৌড়ি করা লাগবেনা। আপনার সাইটে শুধু একটা কন্টাক্ট ফর্ম রেখে দেন। অন্যান্য কোম্পানি নিজ থেকেই আপনাকে কন্টাক্ট করবে।

৪। লিড জেনারেশন

এই পদ্ধতিটা হলো মূলত আপনার সাইট থেকে একটা নির্দিষ্ট নিশে আগ্রহী মানুষদের ইমেইল লিস্ট (লিড) সংগ্রহ করে সেটা কোনো কোম্পানির কাছে বিক্রি করা। ধরুন আপনার সাইট হলো কুকিং নিশে। এখন আপনি কুকিং এর উপর একটা ফ্রি ই-বুক অফার করছেন। কেউ ইমেইল, নাম এসব দিলে আপনি ই-বুকটা তাকে দিবেন। এভাবে আপনি যখন অনেকগুলো ইমেইল কালেক্ট করতে পারবেন, তখন সেটা কুকিং প্রডাক্টস সেল করে এমন কোনো কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দিতে পারবেন।

৫। মেম্বারশিপ সাইট

মেম্বারশিপ সাইট বলতে মূলত এমন সাইট বোঝায় যে, ধরুন আপনি আপনার সাইটে একটা সার্ভিস সেল করছেন। আপনার ওই সার্ভিসটা পেতে হলে ক্লায়েন্টদের প্রতি মাসে একটা নির্দিষ্ট এমাউন্টের টাকা পে করতে হবে। ব্যাপারটা এককালীন টাকা দিলেই হবে এমন না। মেম্বারশিপ সাইট অনেক ধরনের হতে পারে। তবে এই পদ্ধতিতে টাকা আর্ন করতে চাইলে আপনাকে আপনার নিশের উপর একটা ভালো অথরিটি ফিগার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা লাগবে।

৬। ইনফো প্রোডাক্ট

বর্তমানে এই আর্নিং পদ্ধতিটা খুব জনপ্রিয় আর আমারো পছন্দের। ব্যাসিকালি, আপনার সাইটে যখন একটা ভালো পরিমাণের মান্থলি ট্রাফিক আসবে, তখন আপনি একটা ইনফো প্রোডাক্ট বানিয়ে সাইটে সেল করতে পারেন। ইনফো প্রোডাক্টটা যেকোনো ধরনের হতে পারে। সবচেয়ে জনপ্রিয় হলে ই-বুক। ই-বুক সাধারনত ৭, ১০, ১৫ ডলারে সেল হয়। এছাড়াও আপনি চাইলে ভিডিও কোর্স সেল করতে পারেন, অডিওবুক সেল করতে পারেন। সবই নির্ভর করবে আপনার নিশের উপর।

৭। কনসাল্টিং (Consulting)

আপনি আপনার নিশের উপর একজন অথরিটি ফিগার হলে আর আপনার যদি একটা বড় পরিমানের ফলোয়ার থাকে, তাহলে আপনি আপনার সাইটে কনসাল্টিং সার্ভিস দিতে পারেন। এর থেকে কত টাকা আয় করবেন সেটা নির্ভর করে মানুষ আপনার সময়কে কতটুকু মূল্যায়ন করছে তার উপর।

৮। ডিজিটাল টুলঃ

ইনফো প্রোডাক্ট এর মতো ডিজিটাল টুল সেল করেও এখন অনেকে তাদের সাইট থেকে আর্ন করছেন। কিছু কিছু নিশে ইনফো প্রোডাক্ট তেমন কাজ না করলেও ডিজিটাল টুল খুব ভালো সেল হয়। যেমন ধরুন, আপনার যদি ফটোগ্রাফির উপর কোনো সাইট থাকে তাহলে আপনি চাইলে এডব লাইটরুম সফটওয়্যারের Preset সেল করতে পারেন। এছাড়াও আপনার ভিডিওগ্রাফির উপর কোনো সাইট থাকলে আপনি প্রিমিয়ার প্রো সফটওয়্যারের LUT সেল করতে পারেন।

৯। ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট

আপনার নিশের উপর ডিপেন্ড করে বিভিন্ন ধরনের ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট সেল করা যেতে পারে যেমন টিশার্ট, মগ ইত্যাদি। এছাড়াও আপনি চাইলে আলিবাবা থেকে কম দামে প্রোডাক্ট নিয়ে আপনার সাইটে লাভ রেখে সেটা সেল করতে পারেন। তবে ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট এর ক্ষেত্রে প্রব্লেমটা হলো, অনেক ঝামেলা ফেস করতে হয়। আপনাকে অর্ডার রিসিভ করতে হবে, প্রোডাক্ট রেডি করে শিপ করতে হবে, যারা যারা রিফান্ড করেছে তাদের টাকা ফেরত দিতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। আপনি যদি এসব ঝামেলা নিতে পারেন তাহলে অবশ্যই ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট সেল করে দেখতে পারেন।

[/sociallocker]

1 thought on “কেন আমি আমাজন নিশ সাইট বানাই না?”

Comments are closed.