first rule of seo

SEO এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুল

আমরা সাধারনত আমাদের সাইটের এস ই ও করার জন্য যেসব ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামাই সেগুলো হলো পেজের স্পীড বাড়ানো, কীওয়ার্ড ডেনসিটি নিয়ে মাথা ঘামানো, কোন এস ই ও প্লাগইন ব্যবহার করবো সেটা, ব্যাকলিংক এর জন্য কি করব, কখন গুগুলে সাইটের সাইটম্যাপ ইনডেক্স করবো ইত্যাদি ইত্যাদি।

আমি জানি উপরের সবগুলোই গুগুলের ২০০টি র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টরের ভেতরে পড়ে, কিন্তু এগুলার কোনোটাই এতোটা গুরুত্বপূর্ণ না যে ওটা করলেই আপনার সাইট ধাম করে গুগুলে র‍্যাঙ্ক করে বসবে। এই ছোটখাটো ব্যাপারগুলা সাহায্য করে র‍্যাঙ্ক করতে, কিন্তু ঠিক তখনোই যখন আপনি সবার আগে এস ই ও র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটা আপনার সাইটে করে থাকবেন। কোন জিনিসটা এস ই ও এর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ? সেই ব্যপারেই এই আর্টিকেলে কথা বলবো।

কোন রুলটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?

আমার এই পোস্টের পুরো লেখাটা একটা লাইন দিয়ে সামারাইজ করা যায়। আর এই লাইনটাই এস ই ওর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুল:

Rankings Are Won By Those Who Best Serve Their Users

উপরের লাইনটা দিয়ে আমি যা বোঝাতে চাচ্ছি তা হলো, যখন একজন আপনার সাইটে আসে এবং সেখানে কিছু সময় কাটায় কারণ আপনার সাইটের কন্টেন্টটা অনেক হেল্পফুল এবং সে যা জানতে চায় সব সেই কন্টেন্টে আছে, তখন গুগুল সেটা বুঝতে পারে। আর আপনি যে আপনার ইউজারকে খুব ভালোভাবে আপনার কন্টেন্ট দিয়ে সার্ভ করেছেন, সেই জন্য গুগুল আপনার সাইটকে  হায়ার র‍্যাঙ্কিং দিয়ে পুরষ্কৃত করবে। এর কারন হলো, গুগুল বুঝতে পারে যে এই ধরনের কন্টেন্টই ইউজার খুজে এবং এই ধরনের কন্টেন্টই ইউজারদের সবচেয়ে বেশি হেল্প করবে।

আপনি কি খেয়াল করে দেখেছেন যে গুগুলে একটা পেজ র‍্যাঙ্ক করানো বেশ সময় সাপেক্ষ ব্যাপার? একটা নতুন আর্টিকেল পাবলিশ করার পর কিন্তু সাথে সাথেই সেটা র‍্যাঙ্ক করেনা। কিওয়ার্ড কম্পিটিটিভনেস এর উপর নির্ভর করে সেটা র‍্যাঙ্ক করতে অনেক সময় লাগতে পারে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেশ কয়েক মাস।

যদি সাইটম্যাপ সাবমিট করা, পেজ স্পীড হাই করা, কিওয়ার্ড ডেনসিটি বেশি রাখা এগুলা একাই কাজ করতো তাহলে গুগুল কেনো এতো সময় নেয় একটা পেজকে র‍্যাঙ্ক করাতে? এই ফ্যাক্টর গুলাতো গুগুল আধা ঘন্টার ভেতরেই চেক করে দেখতে পারে। মাসের পর মাস সময় কিসের জন্য গুগুল নেয়?

কারণ গুগুল আপনার পেজের উপর ইউজার এক্সপেরিয়েন্স টেস্ট করে দেখে। যদি ইউজাররা আপনার পেজে এসে বেশকিছুক্ষন সময় কাটায়, পুরো আর্টিকেলটা পড়ে তখন গুগুল বুঝতে পারে যে আপনার পেজ থেকে পজিটিভ ইউজার এক্সপেরিয়েন্স আসছে। তখন গুগুল ধীরে ধীরে আপনার পেজকে হায়ার র‍্যাঙ্কিং দিতে থাকে। আর যদি ইউজাররা এসেই চলে যায় আপনার পেজ থেকে, তখন গুগুল সেটা নেগেটিভ ইউজার এক্সপেরিয়েন্স হিসেবে ধরে নেয় আর আপনার পেজকে র‍্যাঙ্ক করেনা। তাই ইউজার এক্সপেরিয়েন্স টেস্ট করার জন্যই গুগুলের এতো সময়ের দরকার পড়ে।

তো কিভাবে আপনি একটা সুপার কোয়ালিটির কন্টেন্ট লিখতে পারবেন ?

খুব ভালো কোয়ালিটির একটা কন্টেন্ট লেখার জন্য ৩ টা স্টেপ ফলো করতে হয়। স্টেপগুলা হলোঃ

[sociallocker]

১। প্রেজেন্টেশন

আর্টিকেলকে খুব ভালোভাবে প্রেজেন্ট করতে হবে। আপনার আর্টিকেলটা যাতে খুব সহজেই পড়া যায়। অনেক বড় বড় প্যারাগ্রাফ করে আর্টিকেল লিখবেন না। প্যারাগুলো ছোট ছোট ভাগ করে লিখবেন, এতে খুব সহজেই পড়া যাবে। আর্টিকেলে প্রয়োজনীয় সাবহেডিং, বুলেট পয়েন্ট, নাম্বারিং ইত্যাদি ব্যবহার করবেন।

মোটকথা হলো, আপনি যেই ব্যাপারটা নিয়ে আর্টিকেল লিখছেন, যেই ইনফর্মেশনটা ভিজিটরদের জানাতে চাচ্ছেন, সেটা যেন ভিজিটররা খুব সহজেই জানতে পারে। আপনার আর্টিকেল থেকে খুব সহজেই যেন তারা সেই ইনফর্মেশনটা নিতে পারে।

আপনার আর্টিকেলের কোয়ালিটি যতোই ভালো হোক না কেনো, সুন্দর প্রেজেন্টেশন না থাকলে সেটা ভিজিটররা পছন্দ করবে না। একটা কথা আছে না “প্রথমে দর্শনদারী, পরে গুণবিচারী”?

২। অনেক অনেক রিসার্চ

আপনার যদি অনেক অনেক রিসার্চ করার মানসিকতা থাকে, তাহলে কখনোই আপনার কম্পিটিটররা আপনার সাথে পেরে উঠবে না। রিসার্চ একটা ভালো কন্টেন্ট আর একটা গ্রেট কন্টেন্ট এর মধ্যে পার্থক্য গড়ে তোলে। একটা উদাহারন দিয়ে বললে ব্যাপারটা আরো ক্লিয়ার হবেঃ

ধরুন ম্যাক্সিমাম মানুষ যখন কোনো প্রোডাক্ট রিভিউ আর্টিকেল লিখে, তখন যাস্ট একটু ঘাটাঘাটি করে আমাজন থেকে ইনফর্মেশন নিয়ে মোটামোটি মানের একটা রিভিউ আর্টিকেল লিখে। কিন্তু WireCutter সেটা করে না। WireCutter হলো একটা বিখ্যাত সাইট যেখানে নানান ধরনের প্রোডাক্ট এর রিভিউ আছে।

ধরুন WireCutter হেডফোনের রিভিউ নিয়ে একটা আর্টিকেল লিখবে। প্রথমে তারা শ’খানেক হেডফোন কিনে, তারপর ৫০-৬০ জন মানুষকে সেগুলো দেয় টেস্ট করার জন্য। ঘন্টার পর ঘন্টা হেডফোনগুলো নিয়ে রিসার্চ করে। এরপর তারা খুব In-Depth, Researched একটা রিভিউ লিখে। তো স্বভাবতই WireCutter যখন তাদের রিভিউতে কোনো একটা প্রোডাক্টকে রিকমেন্ড করে, মানুষজন চোখ বুঝে সেটা কিনে ফেলে।

আমি আপনাকে বলছি না কোনো একটা প্রোডাক্ট রিভিউ লেখার আগে ওই প্রোডাক্টটা কিনে দেখতে। আমি যেটা বলতে চাচ্ছি তা হলো, খুব ভালোভাবে প্রোডাক্টটা নিয়ে আগে রিসার্চ করতে। ওই প্রোডাক্ট নিয়ে আগে কি কি লেখা হয়েছে সেগুলো পড়তে, ওটার উপর ইউটিউবে ভিডিও থাকলে সেটে দেখতে। খুব ভালো মতন একটা ধারনা হবার পরেই আর্টিকেলটা লিখুন। এতে আপনার আর্টিকেলটা অবশ্যই আপনার কম্পিটিটরদের থেকে ভালো কোয়ালিটির হবে।

৩। এক্সট্রা রিসোর্স

এই লাস্ট স্টেপটা ফলো করলে খুব কম্পিটিটিভ নিশেও আপনি আপনার কম্পিটিটরদের থেকে এগিয়ে থাকবেন। আপনাকে মূলত আপনার ভিজিটররা যেই কারনে আপনার পেজে এসেছে, তার থেকেও বেশি কিছু ভিজিটরদের দিতে হবে।

ধরুন আপনি একটা আর্টিকেল লিখলেন ‘How To Research Niche’ এই কিওয়ার্ডের উপর। তো ভিজিটররা যখন আপনার পেজে আসবে, স্বভাবতই তারা জানতে চাইবে কিভাবে নিশ রিসার্চ করে তা নিয়ে। কিন্তু আপনি যদি এর থেকেও বেশি কিছু আপনার ভিজিটরদের দিতে পারেন, তাহলে সেটাই আপনাকে আপনার কম্পিটিটরদের থেকে এগিয়ে রাখবে।

ধরুন, নিশ রিসার্চের পরের স্টেপ কি? কিওয়ার্ড রিসার্চ, তাইনা? তো আপনি যদি আপনার ‘How To Research Niche’ আর্টিকেলের শেষে আরেকটা আর্টিকেল লিঙ্ক করে দেন ‘How To Do Keyword Research’ এটার উপরে, তাহলে সেটা হবে একটা এক্সট্রা রিসোর্স।

ভিজিটররা শুধু নিশ রিসার্চ সম্পর্কে জানতে এসে কিভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে হয় সে ব্যাপারেও ধারনা পাবে। আর এই এক্সট্রা রিসোর্স দেবার জন্যই গুগুল আপনাকে আপনার কম্পিটিটরদের থেকে এগিয়ে রাখবে অনেক ধাপ।

[/sociallocker]